এক সময়ের পর্দা কাঁপানো চিত্রনায়ক এখন সংসার চালায় কাপড়ের ব্যবসা করে

আঠা’রো বছরের মে’য়ের আ’ত্ম’হ’ত্যার কারণে সিনে’মা থেকে সরে দাঁড়ি’য়ে পুরোদস্তর ব্যবসা’য়ী হ’য়েছেন এক সময়ের জ’প্রিয় নায়ক শাহিন ‘আলম। আগে থেকে অ’ভি’নয়ের পা’শাপাশি টুক’টাক গা’র্মেন্ট’সের ব্য’বসা করতেন ‍তিনি। সেটা’কে পুঁজি করে পর’বর্তীতে জীবিকা হি’সেবে নিলেন তিনি।

রাজধানীর গাউ’ছিয়ায় তাদের পৈতৃক দুটো শোরুম ছিল। অ’ভিনয় ছাড়ার পর সেখানেই তিনি নিয়মিত নিজে’কে ব্যবসা’র সাথে জড়ান। ওই মা’র্কে’টে একটি শোরু’ম ভাড়ায় চলে। আরেকটি শো’রুমে নিজে ব্যবসা করেন।

চলচ্চিত্র থেকে হুট করে সিদ্ধান্ত নেওয়া শাহিন আ’লম জানান, ‘মে’য়ের মৃ’ত্যুর জন্য সিনেমা থেকে সরে দাঁড়াই। যখন সিনেমা থেকে সরে দাঁড়া’ই তখন দুই তিনটি সিনেমা’র কাজ হাতে ছিল। সে’গুলো শেষ করে একে’বারে সিনেমা থেকে দূরে চলে যাই। অবশ্য কাজী হায়াতের অনুরোধে আরো দুটি ছবিতে কাজ করি।’

শাহিন আলম শেষ ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান রকি’বুল আলম পরিচালিত ‘দারোয়ানের ছে’লে’ ছবির জন্য। এরপর কাজী হায়াতের দুটি ছবির কাজ করলেও আর তাকে নতুন কোনো চল’চ্চিত্রে দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, সিনেমা যখন পরিচালকদের হাত থেকে প্রযোজকের হাতে চলে গেল, তখন থেকেই সিনেমা’র অবস্থা খা’রাপ হয়ে যায়। ওই সময় প্রযোজকরা আমা’র কাছে ভালগার শট দেওয়ার অনুরোধ করে। আমি সেই শট দেইনি। তবে তারা কাটপিস শুট করে করেছে পর্দায় ক্লোজ শটগুলো ব্যবহার করে। আমি দেখে বলেছিলাম, তারা বলে এসব না করে উপায় নেই। তখন থেকেই সিনেমা থেকে মন উঠে যায়। সিনেমা’র প্রতি যে নে’শা ছিল তা অশ্লীলতার কারণে আর থাকেনি।

সিনেমা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে নিজের বাবার শোরুমে বসতেন শাহিন আলম। বর্তমানে নিজের অ’সুস্থতার কারণে আর সেই শোরুমেও বসা হয় না তেমন একটা। এ বিষয়ে শাহিন আলম বলেন, চার বছর থেকে কিডনি রোগে ভুগছি। সাড়ে তিন বছর ধরে ডায়ালাইসিস করে চলছি। প্রতি সপ্তাহে তিন দিন সাভা’রের গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডায়ালাইসিসের জন্য যেতে হচ্ছে।’

নাসির খান পরিচালিত `স্বপ্নের নায়ক’ সিনেমা’র একটি দৃশ্যে প্রয়াত সালমান শাহ ও শাহিন আলম।

চলচ্চিত্রের মানুষেরা আপনার খোঁজ রাখে? এমন প্রশ্নে শাহিন আলম বলেন, সিনেমা’র লোকদের মধ্যে অমিত হাসান ও মিশা সওদাগর নিয়মিত রাখেন। সম্প্রতি শিল্পী সমিতি থেকে আমা’র সাথে দেখা করার জন্য কয়েকজন এসেছিল। সিনেমা ছাড়ার দুবছর অনেকে যোগাযোগ করেছেন। এখন আর কেউ করেন না বলেও অ’ভিমানের তীর ছুড়ে দেন নিজের সহকর্মীদের উপর।

১৯৮৬ সালে নতুন মুখের কার্যক্রমে অংশ নিয়ে প্রবেশ করেন সিনেমায়। দেড় শতাধিক ছবিতে অ’ভিনয় করেছেন তিনি। ১৯৯১ সালে তার অ’ভিনীত ‘মায়ের কা’ন্না’ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর একসঙ্গে ৭টি ছবিতে সাইন করেন। তখন থেকে তাকে আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি। এরপর টানা কাজ করে গেছেন এই অ’ভিনেতা।

শাহিন আলম অ’ভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবি ‘ঘাটের মাঝি’, ‘এক পলকে’, ‘প্রে’ম দিওয়ানা’, ‘চাঁদাবাজ’, ‘প্রে’ম প্রতিশোধ’, ‘টাইগার’, ‘রাগ-অনুরাগ’, ‘দাগি সন্তান’, ‘বাঘা-বাঘিনী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘আরিফ লায়লা’, ‘আঞ্জুমান’, ‘অজানা শত্রু’, ‘গরিবের সংসার’, ‘দেশদ্রোহী’, ‘বাবা’, ‘বাঘের বাচ্চা’, ‘বিদ্রোহী সালাউদ্দিন’, ‘তেজী পুরুষ’ ইত্যাদি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *