বলিউডে সেলিব্রিটি মা আছেন, যারা নিজের মেয়েকেও বানিয়েছে সেলিব্রিটি!

‘মা’ ছোট্ট একটা শব্দ, সন্তানের কাছে এর আবেদন সীমাহীন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠিত জীবনের নেপথ্যে থাকে মায়ের বিশাল অবদান। বলিউডে বেশ ক’জন সেলিব্রিটি মা আছেন, যারা নিজে’র মেয়েকে গড়ে তুলেছেন আপন গরিমা’র সোনালি আলোয়। মায়ের দেখানো পথ ধ’রেই কন্যা পথ চলেছেন। জায়গাকরে নিয়েছেন বলিউড ফিল্মডোমে। এমনি কয়েকটি মা মেয়ের জুটি নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন

শর্মিলা ঠাকুর-সোহা আলী খান- সৌন্দর্যের প্রতীমা শর্মিলা ঠাকুর। নবাব মনসুর আলী পতৌদির স্ত্রী ও রবি ঠাকুরের বংশধ’র শর্মিলা ঠাকুর ছিলেন অসাধারণ এক অভিনেত্রী। ১৯৬৯ সালে মনসুর আলীকে বিয়ে করলে তার ঘরে তিনটি সন্তান হয়। ১৯৭০ সালে সাঈফ আলী খান, ১৯৭৬ সালে সাবা আলী খান ও ১৯৭৮ সালে সোহা আলী খান জ’ন্ম দেন শর্মিলা ঠাকুর।

মেয়ে সোহা আলী খান ফিল্মডোমে তার অভিনয় দিয়ে কোনো জাদু দেখাতে পারেননি। দে’খতে মায়ের মতো হলেও সে জনপ্রিয়তার ধারেও পৌঁছতে পারেননি সোহা। এখন অভিনেতা কুনাল খেমুকে বিয়ে করে সংসারী হওয়ার মনস্থ ক’রেছেন এ অভিনেত্রী। তবে ছেলে সাঈফ আলী খান এখন ইন্ডাস্ট্রির সেরা নায়কদের মধ্যে একজন।

হেমা মালিনী-এশা দেওল- সত্তর ও আশির দশকের ড্রিম গার্ল খ্যাত নায়িকা হেমা মালিনী। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত ক’রেছেন বলিউডের সেরা নায়িকাদের তালিকার একজন হিসেবে। তার অভিনীত প্রতিটি চরিত্রে যেন নিজেকে নতুনভাবে চিত্রয়িত ক’রেছেন। বছর অনেকটা পেরিয়ে এলেও এখনো নিজে’র সৌন্দর্য আর যোগ্যতায় স্টারডোমকে বহাল রেখেছেন। তেমনি পিছিয়ে নেই ব্য’ক্তিগত জীবনেও।

একসময়ে জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা ধ’র্মেন্দ্রর স’ঙ্গে বিয়ে করেন ১৯৮০ সালে। এরপর দুই মেয়ের মা হয়েছেন। ১৯৮২ সালে এশা দেওল ও ১৯৮৪ সালে অহনা দেওলের মা হন তিনি। বড় মেয়ে এশা দেওলকে নিয়ে আসেন বলিউড ফিল্মডোমে। মাকে অনুকরণ করে ফিল্মডোমে এলেও দর্শকদের প্রত্যাশায় জায়গা করে নিতে পিছিয়ে যান তিনি। স’ম্প্রতি বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন এশা। অন্যদিকে ছোট মেয়ে অহনা দেওল ‘গুজা’রিশ’ ছবির মাধ্যমে সহপরিচালক হিসেবে সবেমাত্র আত্মপ্র’কাশ ক’রেছেন।

ডিম্পল কাপাডিয়া-টুইঙ্কেল খান্না- সত্তর ও আশির দশকের টিনেজ থেকে শুরু করে সব বয়সের দর্শকদের হৃদয়স্পন্দন জয় করে নেয়া জনপ্রিয় নায়িকা ডিম্পল কাপাডিয়া। ‘ববি’ ও ‘সাগর’ ছবিতে তার পারফর্মেন্স শুধু তাকে ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডই জিতেন নেননি পাশাপাশি সৌন্দর্য ও অভিনয়ে সবার প্রশংসা পেয়েছে। ৫৪ বছর বয়স পেরিয়ে এলেও এখনো তিনি সুযোগ পেলেই অভিনয়ে চলে আসেন।

১৯৭৩ সালে বলিউড অভিনেতা রাজেশ খান্নার স’ঙ্গে বিয়ে করেন ডিম্পল। এরপর তিনি তার ক্যারিয়ারে ১২ বছর বিরতি দিয়ে ১৯৮৪ সালে আবারো অভিনয়ে ফেরেন। এর মাঝের সময়টায় ১৯৭৪ সালে টুইঙ্কেল খান্না ও ১৯৭৭ সালে রিঙ্কী খান্নাকে জ’ন্ম দেন। দুই মেয়েকেই বলিউড ফিল্মে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন ছিল তার। বড় মেয়ে টুইঙ্কেল খান্না মায়ের স্বপ্নের পথ ধ’রে কিছুদূ’র এলেও অক্ষয় কুমা’রকে বিয়ে করে অভিনয় থেকে পুরোপুরি সরে যান। আর ছোট মেয়ে রিঙ্কী খান্না বলিউডে নাম লেখাতে না লেখাতেই হারিয়ে যান।

তনুজা-কাজল ও তানিশা- ‘বাহারে ফির আয়েঙ্গে’ ও ‘জুয়েল থিফ’ ছবির মিষ্টি মেয়েটির হাসির কথা বলিউড দর্শকরা এখনো ভুলতে পারেনি। এ মিষ্টি হাসির মেয়েটির হলেন সে সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা তনুজা। একসময় নিজে’র ক্যারিয়ারে প্রতিষ্ঠিত থাকলেও বর্তমানে কাজলের মা হিসেবেই দর্শক বেশি চেনে তাকে। ১৯৭৩ সালে সমু মুখার্জিকে বিয়ে করেন তনুজা। এরপর ১৯৭৪ সালে কাজল ও ১৯৭৮ সালে তানিশাকে জ’ন্ম দেন। বড় মেয়ে কাজল সৌন্দর্য ও যোগ্যতায় কোনো অংশে মায়ের চেয়ে পিছিয়ে নেই।

কাজলের চাঞ্চল্যকর অভিনয় দর্শকদের এতটাই মুগ্ধ করেছে যে তারা অপেক্ষায় থাকে কবে আবারো নতুন ছবিতে অভিনয়ে ফিরবেন কাজল। স্বামী অজয় দেবগন ও দুটি সন্তানকে বিয়ে করে পুরোপুরি সংসারী হয়ে গেলেও মাঝে মধ্যেই অভিনয়ে চ’মক দেখিয়ে যান কাজল। অভিনয়ে মাধ্যমে মায়ের প্রকৃত সন্তান হিসেবে নিজেকে প্রমাণ ক’রেছেন তিনি। অন্যদিকে ছোট মেয়ে তানিশা নিজে’র ব্য’র্থ ক্যারিয়ার নিয়ে নিজে’র মতোই গুটিয়ে গেছেন।

ববিতা-কারিশমা ও কারিনা- বলিউডের সার্থক মা বলা যায় এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ববিতাকে। সত্তর আশির দশকের একজন সফল অভিনেত্রী তিনি। ১৯৭১ সালে তিনি রনধীন কাপুরকে বিয়ে করেন। তার ঘরে আলো হয়ে আসে কারিশমা কাপুর ও কারিনা কাপুর। দুজনই বলিউডের প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী। কারিশমা নব্বই দশকে রাজত্ব ক’রেছেন তো অন্যদিকে কারিনা কাপুর এখনো নিজে’র শ্রেষ্ঠত্বে একচেটিয়া রাজত্ব করে যাচ্ছেন। কারিশমা বিয়ের পর নিজে’র ক্যারিয়ার ছে’ড়ে সরে দাঁড়ালেও স’ম্প্রতি আবারো ফিল্মে অভিনয় শুরু ক’রেছেন। আর কারিনা সেরাদের দৌড়ে শী’র্ষে স্থান নেয়ার পাশাপাশি সাঈফের স’ঙ্গে নিজে’র বিয়ের প্র’স্তুতিটাও করে নিচ্ছেন।

অপর্ণা সেন-কঙ্কনা সেন- মিষ্টি হাসি ও পাগল করা চোখের চাহনি প্র’ভাব দেখা মা-মেয়ে দুজনের মধ্যেই। মা অপর্ণা সেন পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবার আগে কলকাতার একজন নামী অভিনেত্রী ছিলেন। অন্যদিকে মেয়ে কঙ্কনা সেন বলিউডে নিজে’র যোগ্যতা দেখিয়েছেন বহুবার। চ্যালেঞ্জিং যে কোনো চরিত্রে সহজেই মিশে যেতে পারেন। মা-মেয়ে দুজনই সমানতালে জনপ্রিয়তা কেড়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন ভক্তদের কাছ থেকে।

বলিউডের বিখ্যাত ও সু’ন্দরী মায়েদের কন্যারা অন্যদের চেয়ে একধাপ অগ্রসর রয়েছেন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে। মেয়েদের কেউ কেউ হয়তো এরই মধ্যে নিজেকে নিয়ে গিয়েছেন মায়ের সমপর্যায়ে, অনেকেই আবার মায়ের যশ ও খ্যাতিকে ছাড়িয়ে যাবেন। তবে মেয়েরা বরাবরই মায়েদের কাছে কৃতজ্ঞ। গর্ববোধ করেন এমন মায়ের সন্তান হয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *