কন্যা সন্তান প্রসব প্রতিবন্ধী তরুণীর, কোলে তুলে সব দায়িত্ব নিলেন ডিসি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পরিচয়হীন মানসিক প্রতিবন্ধী তরুণী ফুটফুটে এক কন্যা সন্তানের মা হয়েছেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) ওই মানসিক প্রতিবন্ধী তরুণী কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কন্যা সন্তান প্রসব করেন। এরপর বিষয়টি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে প্রশ্ন ওঠে সন্তানের পিতৃপরিচয় নিয়ে।

ফেসবুকসহ নানা সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ জানতে পেয়ে দ্রুত ছুটে যান কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। জন্ম নেওয়া সেই নবজাতককে নিরদ্বিধায় কোলে তুলে নেন তিনি। পরে সন্তান ও মায়ের সকল দায়িত্বও নেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২২ বছরের পরিচয়হীন মানসিক প্রতিবন্ধি তরুণী ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কোলাবাজারে ঘোরাফেরা করতেন। কখনো ময়লা কাপড় শরীরে জড়িয়ে আবার কখনও অর্ধনগ্ন অবস্থায় থেকে মুখে বিড় বিড় করে কী যেন বলতেন। কেউ কিছু বললে কখনো তেড়ে আসতেন। আবার কখনো ঠান্ডা মেজাজে থাকতেন। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ আগে মায়ধরপুর গ্রামের রাস্তার পাশে অসুস্থ অবস্থায় পড়েছিলেন ওই তরুণী। কেউ যখন তার পাশে আসেনি, তখন এলাকার দিনমুজুর আমজাদ আলী তাকে নিয়ে বাড়িতে আশ্রয় দেন। পরে তিনি ও তার গ্রামের আব্দুর রশিদসহ বেশ কয়েকজন মিলে তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগী দেখেই বলেন- মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা। এখন তার পর্যাপ্ত খাওয়া-দাওয়া আর বিশ্রামের প্রয়োজন। হাসপাতাল থেকে তাকে বাড়িতে নিয়ে যান দিনমুজুর আমজাদ হোসেন। নিজের সংসারের অন্যান্য সদস্যের মত করে তার সেবাযত্ন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। গতকাল শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে মানসিক প্রতিবন্ধী ওই তরুণীর প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে আশ্রয় দেয়া উপজেলার মায়ধরপুর গ্রামের দিনমজুর আমজাদ আলী-ছাকিরন নেছা দম্পতি স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সহযোগিতায় কালীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে ফুটফুটে কন্যা সন্তান প্রসব করেন মানসিক প্রতিবন্ধী। প্রসবের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে প্রশ্ন ওঠে এই সন্তানের বাবা কে? কী হবে তার বংশ পরিচয়? কে নেবে তার দায়ভার? ঠিক সে সময় রাতে হাসপাতালে ছুটে যান ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ। অজ্ঞাত ওই তরুণীর নবজাতককে কোলে তুলে নেন তিনি। এ সময় কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবর্ণা রানী সাহাও উপস্থিত ছিলেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আফসানা পারভীন জানান, সন্তান প্রসবের সময় তিনি স্বাভাবিক না থাকায় অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানো হয়েছে। তবে মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ আছেন।

জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বিষয়টি অবগত হয়েছে। এ বিষয়টি দেখভাল করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে নবজাতক ও তার মায়ের সকল চিকিৎসার খরচ জেলা প্রশাসন বহন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *