প্রেমের টানে ভারত থেকে আসা সেই তরুণী কারাগারে

দোয়ারাবাজারে প্রেমের টানে আসা ভারতীয় তরুণী মঞ্জুরা বেগমকে পুলিশ প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় তাকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্যাম কান্ত সিনহার আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

প্রেমের টানে কাঁটাতারের বাঁধা অতিক্রম করে বাংলাদেশে আসেন মঞ্জুরা বেগম নামের এক ভারতীয় তরুণী। ভারতের আসাম প্রদেশের কামরুক জেলার চাংসারি থানার টাপার পাথার গ্রামের মুগুর আলির কন্যা মঞ্জুরা বেগম (২০)।

জানা গেছে, পাঁচ বছর পূর্বে মামলায় আসামি হয়ে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতের আসামে যান সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের উত্তর কলাউড়া গ্রামের আবুল কাশেমের পুত্র আব্দুস সাত্তার (২৭)। সেখানে তার সঙ্গে পরিচয় হয় মঞ্জুরা বেগমের। তাদের মাঝে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। সাত্তার দেশে ফিরে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় চলে তাদের প্রেম। দীর্ঘ ৫ বছর পর প্রেমের টানে মঞ্জুরা বেগম ছুটে এসেছেন বাংলাদেশে।

স্থানীয়রা জানান, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের উত্তর কলাউড়া গ্রামের আবুল কাশেমের পুত্র আব্দুস সাত্তার ৫ বছর আগে তার এক বন্ধুর প্রেম সহযোগিতা করায় সেই সংক্রান্ত মামলায় আসামি হন। ওই মামলার পর তিনি পালিয়ে যান ভারতের আসামে। সেখানে প্রায় বছর খানেক বসবাস করায় মঞ্জুরা বেগমের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। বছর খানেক পরে সাত্তার চলে আসেন বাংলাদেশে।

দেশে আসার পর তিনি বাহরাইনে চলে যান। সেখানে আছেন প্রায় ৩ বছর। এরমধ্যে দুইজনের প্রেমের সম্পর্ক চলতে থাকে। ইদানিং মঞ্জুরা বেগমের বিয়ের জন্য কয়েক জায়গা থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসে। এ বিষয়ে মঞ্জুরা সাত্তারকে জানান। পরে সাত্তার তার ঠিকানা দিলে মঙ্গলবার সকালে ঠিকানা অনুযায়ী বাংলাদেশে আসেন ওই তরুণী।

সাত্তারের ছোট ভাই ইমরান সীমান্ত থেকে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে মঞ্জুরা বেগমের সম্মতিতে মোবাইলে বাহরাইনে অবস্থানরত সাত্তারের সঙ্গে বিয়ে হয়। তবে বিনা পাসপোর্টে বাংলাদেশে প্রবেশ করায় বিজিবি তাকে আটক করে দোয়ারা থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজির আলম বলেন, বিজিবি একটি মামলা দায়ের করেছে।

Author: Rijvi Ahmed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *