শি’শু ছে’লেকে নিয়ে বোরকা পরিহিত মায়ের ক্রিকে’ট খেলা নিয়ে যা বললেন ফারুকী

আমাদের পরের প্রজন্ম এই সব পেটি এবং ফা’লতু জ্ঞানালাপ থেকে আশা করি দূরে থাকবে— বললেন বিখ্যাত নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী’। প্রসঙ্গ সম্প্রতি অনলাইনে ভাই’রাল হওয়া কিছু ছবি।

মাঠে চলছিল বাংলাদেশ পু’লিশ ও আনসার মধ্যকার জাতীয় বেসবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল। তাতে সাংবাদিক ও দর্শকদের নজর সামান্যই। সবার চোখ পাশে চলা পাঞ্জাবি পায়জামা পরিহিত শি’শু ছে’লের বোরকা পরিহিত মায়ের ক্রিকে’টে!

রাজধানী পল্টনে শুক্রবার মা-ছে’লের ক্রিকেট খেলার দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয় ভাই’রাল। ইতিবাচক ও আবেগী মন্তব্য করেন অনেকে। আবার মা-ছে’লে পোশাকে অনেকের চোখ কপালে উঠে। তাদের প্রতিক্রিয়া ছিল নেতিবাচক। এ নিয়েই মুখ খুলেছেন ফারুকী’।

প্রশ্ন তুলেছেন অ’তি চর্চিত ‘আবহমান কালের বাঙালিয়ানা’ নিয়ে। সেই প্রসঙ্গে তুলে ধরেন নানান ক্ষেত্রের বৈষম্যের বিস্তারিত। আছে আগামী প্রজন্ম নিয়ে আশাবাদও।

তিনি ফেইসবুকে লেখেন, “আসল সমস্যাটা কোথায়? বোরকায় না আবহমান কালের বাঙালিয়ানায়? এবার প্রশ্ন ‘আবহমান কালের বাঙালিয়ানা’ কোনটা? ব্যাপারটা কি এমন যেটা এতো কাল ধরে সাধারণভাবে বাংলাদেশে চলে আসছে? তো বাংলাদেশে তো একসময় কালচার ছিলো মেয়েরা সন্ধ্যার পরে ঘরের বাইরে যাবে না! মেয়েদের পনেরো বছর হইলে বিয়ে দিয়ে স্বামীর ঘরে পাঠাইয়া দিতে হবে! মে’য়েরা চাকরি করতে পারবে না! তারও আগে ছিলো সতীদাহ প্রথা! আম’রা তো সেই সব কালচাররে ঝাড়ু পিটা কই’রা তাড়াইয়া দিছি! নাকি? তার মানে আবহমান কালের বাঙালিয়ানাটা ধই’রা না রাখলেও আমাদের মধ্যবিত্ত কালচারাল পু’লিশদের সমস্যা নাই! সমস্যা কি তাইলে বোরকায়? কারণ এটা মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসছে? তো আম’রা কি বাইরের কিছু নিবো না? তাইলে তো সালওয়ার কামিজ, প্যান্ট-শার্ট, শর্ট এগুলাও আমাদের বাতিল করতে হয়! নাকি? এক সময় এই বাকোয়াজ পাহারাদারগুলা রক-পপ মিউজিকরে অ’পসংস্কৃতি বইলা চুঙ্গা ফুঁকাইছিলো দিনের পর দিন! আবহমান শুনলেই তাই আমি চশমা’র ফাঁক দিয়া একটু ভালো কই’রা তাকাইয়া দেখি!

আমা’র অবশ্য ব্যক্তিগতভাবে কোনটাতেই সমস্যা নাই! বোরকাতেও নাই, বিকিনিতেও নাই! যতক্ষণ পর্যন্ত জবরদস্তি না হচ্ছে!

আগেও বলছি, যে হুজুর ফতোয়া দেয় নারী প্যান্ট-টি শার্ট পরতে পারবে না, হেন করতে পারবে না, তেন করতে পারবে না, তার সাথে আমাদের কিছু লিবারেলদের খুব পার্থক্য পাই না, যখন তাদের বোরকা নিয়া ফতোয়া শুনি! তখন আমা’র ইনাদেরকে একেকজন সেক্যুলার আমির হামজা মনে হয়!

আমাদের পরের প্রজন্ম এই সব পেটি এবং ফা’লতু জ্ঞানালাপ থেকে আশা করি দূরে থাকবে! তাদের মন চাইলে শর্ট পই’রা ঘুরবে, মন চাইলে আপাদমস্তক ঢাইকা ঘুরবে!! তার গা ঢাকা বা খোলা রাখার কারণে তাকে আম’রা আলাদা করে জাজ করবো না, বৈষম্য করবো না- এইটুকু আলো আমাদের দাও গো সাঁই!”

ফারুকী’র সর্বশেষ সিনেমা ‘ডুব’ মুক্তি পায় ২০১৭ সালে। এর পর ‘শনিবার বিকেল’ নির্মাণ করলেও দুই বছর ধরে আ’ট’কে আছে সেন্সর বোর্ডে। কিছুদিন আগে শেষ করছেন ইংরেজি ভাষার ছবি ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’-এর ‍দৃশ্যায়ন। আর ঘোষণায় আছে পরের ছবি ‘আ বার্নিং কোয়েশ্চেন’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *