ফ্যাসিবাদের দালালি করছে ঢাবি প্রশাসন : ছাত্র ইউনিয়ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মো. মোর্শেদ হাসান খানকে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। ছাত্র সংগঠনটি বলেছে, শুধুমাত্র মতপ্রকাশের দায়ে একজন অধ্যাপককে চাকরিচ্যুত করার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদের দালালি করছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি সাখাওয়াত ফাহাদ ও সাধারণ সম্পাদক রাগীব নাঈম এক যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান যে বিষয়ে মত প্রকাশ করেছিলেন তা বিতর্কিত, তার মন্তব্য অনেকাংশে মিথ্যা বলে প্রমাণিত। কিন্তু তার জন্য তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করে বক্তব্য প্রত্যাহারও করেছিলেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। একজন শিক্ষক রাষ্ট্রীয় বিতর্কিত একটি বিষয়ে তার মত প্রকাশ করবেন, একজন নাগরিক মত প্রকাশ করবেন, এটি তার অধিকার। একটি মতকে কেবল আরেকটি মতের দ্বারাই অবদমন করা যেতে পারে। ভিন্নমত প্রকাশের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষকের চাকরি চলে যাওয়া-এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন চরিত্রের বিরোধী। ঢাবি প্রশাসন স্পষ্টতই, বাংলাদেশ রাষ্ট্রে গেঁড়ে বসা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দালালি করছে।

তারা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আইনের যে ধারায় তাকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে সেটি তৈরি হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ-১৯৭৩ এর ৫৬(২) ধারা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তার রাজনীতি করার তথা স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে। এ আইন অনুযায়ী একজন শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা যাবে কেবলমাত্র যদি তিনি নৈতিক স্খলনের কিংবা দায়িত্ব পালনে অযোগ্যতার অভিযোগে অভিযুক্ত হন (ধারা ৫৬ (৩)। অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান এই দুই অভিযোগের কোনোটিতেই অভিযুক্ত হননি। অর্থাৎ, এই চাকরিচ্যুতি কেবল মতপ্রকাশের জন্যই। মতপ্রকাশের দায়ে একজন শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটি একটি কলঙ্ক হয়ে থাকবে।

ঢাবি ছাত্র ইউনিয়ন মনে করে, চাকরিচ্যুতির এই আদেশ কার্যকরী হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের চরিত্রকে পুরোপুরি বিনষ্ট করে দিতে অস্ত্র হিসেবে কাজ করবে। স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর এই যে খাঁড়া ঝুলিয়ে দেয়া হলো, এই খাঁড়া পরবর্তী যেকোনো গবেষক শিক্ষক-ছাত্রের ওপরই নেমে আসতে পারে।

অধ্যাপক মো. মোর্শেদ হাসান খানকে চাকরিচ্যুত করার এই আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *