বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা স্থাপন করলো অন্যরকম দৃষ্টান্ত

করোনা কেড়ে নিয়েছে বন্ধু ও সহপাঠী আল মামুনকে। প্রায় তিন মাস আগে মারা যান ওই কলেজ অধ্যাপক। এরপর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মামুনের সহপাঠীরা তাঁর পরিবারের জন্য কিছু একটা করার উপায় খুঁজতে থাকেন।

মেসেঞ্জারে সহপাঠীদের একটি গ্রুপ আছে, নাম ‘মেটাফিজিশিয়ানস ৯৪’। ১৯৯০-১৯৯১ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরাই গ্রুপটির সদস্য। এই গ্রুপে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে ঠিক হয়, মামুনের পরিবারকে সহপাঠীদের উদ্যোগে সহায়তা করা হবে। প্রথমে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় পাঁচ লাখ টাকা।

বন্ধু মামুনকে কেন্দ্র করে এই গ্রুপে সহপাঠীদের প্রায় সবাইকে খুঁজে পাওয়া যায়। দেশে-বিদেশে যিনি যেখানে আছেন, সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। এভাবে পাঁচ লাখের লক্ষ্য পার হয়ে যায়। গত শুক্রবার সাভারে প্রয়াত মামুনের বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্ত্রী আয়েশা আকতারের হাতে তুলে দেওয়া হয় ৬ লাখ ২০ হাজার টাকার চেক।
মামুন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের নীলকান্ত সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। ছেলেমেয়েরা স্কুল-কলেজে লেখাপড়া করে। বাড়ির কাজ শুরু করলেও শেষ হয়নি। ব্যাংকে কিছু ঋণ আছে। এই সময়ে মামুনের চলে যাওয়া।

গত শুক্রবার মামুনের বাড়িতে গিয়ে সহানুভূতি জানাতে হাজির হন তাঁর সহপাঠীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সহসভাপতি গাজী মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হাসান, ট্রেজারার মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মিজানুর রহমানসহ মেটাফিজিশিয়ানস গ্রুপের সদস্য সেলিনা বেগম, সোলাইমান হোসাইন, মাহবুবুর রশিদ, আমজাদ খান, আমিনা খাতুন, হাবিবা আক্তার, নুরজাহান পারভিন, রওনক সুলতানা, আবু তাহের, মিজান রহমান, মোহাম্মদ আলমাস আলী খান, আবদুর রহিম, ফারজানা কাবেরীসহ অন্য সহপাঠীরা। তাঁরা মামুনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ও ভবিষ্যতেও তাঁর পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।
আল মামুন গত ২৬ মে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *