বাবার সাথে হওয়া অন্যায়ের প্রতিশোধ নিলো দুই ভাই, সিনেমাকে হার মানায়

এ যেন সিনেমার কোন কাহিনী। চোখের সামনে বাবাকে গলা কেটে হত্যার দৃশ্য দেখে দুই সন্তান প্রতিজ্ঞা করে যেভাবেই হোক এই হত্যার প্রতিশোধ নেবে। এমন ঘটনা বাস্তবে ঘটেছে চট্টগ্রামে। ঠিক ৩১ বছর পর বাবা হত্যার ‘অভিনব’ প্রতিশোধ নিয়েছেন দুই ছেলে মো. মহসিন ও মো. হাসান। 

জানা গেছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী আইয়ুব যখন মহসিন-হাসানের চোখের সামনেই বাবা আবদুস সাত্তার তালুকদারকে গলা কেটে হত্যা করে, তাদের বয়স তখন তিন ও ১২ বছর। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিশোধের স্পৃহাও বাড়তে থাকে এতিম দুই ভাইয়ের মনে। ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর ১৩ মামলার আসামি আইয়ুবকে হত্যা করে পিতৃহত্যার বদলা নেন তারা। সন্ত্রাসী আইয়ুবকে হত্যা করতে ও আইনের চোখ ফাঁকি দিতে পেশাদার অপরাধীদের বাদ দিয়ে ইট ব্যবসায়ী আবদুল কুদ্দুস ও ট্রাকচালক আবদুল আজিজ ওরফে মানিককে ভাড়া করেন দুই ভাই। কুদ্দুসের সঙ্গে ২০ লাখ টাকায় চুক্তি করেন তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী আইয়ুবকে গুলি করে হত্যা করেন ট্রাকচালক আজিজ।

পুলিশের ধারণাই ছিল না, যে সন্ত্রাসী আইয়ুবের ভয়ে মানুষ কাঁপে, তাকে একজন অপেশাদার-অনভিজ্ঞ ট্রাকচালক খুন করেছে। অভিযুক্ত ট্রাকচালক আজিজকে গ্রেফতার করলেও মহসিন ও হাসানকে এখনো ধরতে পারেনি পুলিশ। তাদের পলাতক দেখিয়ে ১২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট তৈরি করেছে পিবিআই।

পিবিআই চট্টগ্রামের পরিদর্শক মোজাম্মেল হক বলেন, প্রাথমিক ধারণা ছিল- আইয়ুবকে হয়তো অন্য কোনো সন্ত্রাসী দল হত্যা করেছে। কিন্তু তদন্তে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। গ্রেফতারের পর ট্রাকচালক আজিজ জানিয়েছে- পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নিতে মহসিন-হাসানের পরিকল্পনায় সে হত্যা করেছে আইয়ুবকে। এ ঘটনায় জড়িত ১২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মহসিন, হাসানসহ বাকি ছয়জন এখনো পলাতক।

বাবার হত্যাকারী আইয়ুবকে হত্যার উদ্দেশ্যে আবদুল করিম পুতুল, মুন্সি মিয়া, মোহাম্মদ ইউনুস, আবদুল কুদ্দুস ও ইকবাল চৌধুরী নামে কয়েকজনের সঙ্গে বৈঠক করেন হাসান ও মহসিন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আবদুল কুদ্দুস ভাড়া করেন আব্দুল আজিজ ওরফে মানিক, মো. আজিম, আব্দুল জলিল, মো. রুবেল ও মো. মহিন উদ্দিনকে। ২০১৯ সালের ৪ অক্টোবর তারা রাঙ্গুনিয়ার আলমশাহ পাড়ায় একটি বৈঠক করে। বৈঠকে আব্দুল জলিল, মো. রুবেল ও মো. মহিন উদ্দিনকে আইয়ুবের ওপর নজরদারির দায়িত্ব দেয়া হয়।

৫ অক্টোবর জলিল, রুবেল ও মহিনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকিরা আলমশাহ পাড়ায় অস্ত্র নিয়ে একটি সিএনজি অটোরিকশায় অবস্থান নেয়। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর একুইল্যা পুকুর পাড়ের বসাকপাড়া এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন আইয়ুব। ওই সময় সিএনজি থেকে নেমে মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে আইয়ুবকে এলোপাতাড়ি গুলি করে পালিয়ে যায় আজিজ। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান হত্যাসহ ১৩ মামলার আসামি সন্ত্রাসী আইয়ুব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *