বিড়ালকে বাঘ মনে করে আটক!

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার সীমান্ত এলাকায় মেছো বাঘ মনে করে আটক করা বন বিড়ালটি মারা গেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বিড়ালটি ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে রোববার (৬সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের শিবচন্ডী এলাকা থেকে আটক বিড়ালটি বন বিভাগের লোকজন খাঁচায় ঢোকানোর সময় মারা যায়।

দুপুরে ভারতীয় সীমান্তবর্তী শিবচন্ডি গ্রামের একটি চা বাগান থেকে স্থানীয় লোকজন মেছো বাঘ মনে করে ওই বন বিড়ালটি আটক করেন। পরে বন বিড়ালটিকে প্রথমে একটি গাছের সঙ্গে ও পরে একটি খুঁটিতে বেঁধে রেখে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের খবর দেয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, শিবচন্ডি গ্রামের তাপস ও আলম নামে চা বাগানের দুই শ্রমিক প্রথমে বন বিড়ালটি দেখতে পান। মেছো বাঘ মনে তারা অন্য শ্রমিকদের ডেকে জড়ো করে। একপর্যায়ে ধাওয়া করে বন বিড়ালটিকে আটক করা হয়। পরে সাবেক ইউপি সদস্য ইছামুলের বাড়ির সামনে সেটি বেঁধে রাখা হয়। এর আগে ভারতীয় সীমান্তের ওই এলাকার পাশে বাঘ আতঙ্ক দেখা দেয়। এজন্য মেছো বাঘ আটকের খবরে উৎসুক মানুষ বন বিড়াল দেখতে সেখানে ভিড় করেন। এরপর বন বিভাগকে খবর দেয়া হয়। বন বিভাগের কর্মকর্তারা এসে প্রাণিটি বন বিড়াল বলে নিশ্চিত করেন। পরে পঞ্চগড় বন বিভাগ কার্যালয়ে নেয়ার সময় বিড়ালটি মারা যায়।

দেবনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মহসীন আলী জানান, এর আগে দেবনগর ইউনিয়নের উষাপাড়া ও বাদিয়াজোত সীমান্ত এলাকার পরিত্যক্ত চা বাগানে বাঘ আতঙ্ক দেখা দেয়। তবে অভিযান চালিয়েও বাঘের দেখা পাওয়া যায়নি। এজন্য মেছো বাঘ আটকের খবরে মানুষ ভিড় করে।

পঞ্চগড় সামাজিক বনায়ন নার্সারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই বলেন, বন বিড়ালটিকে ধরার সময় ধাওয়া করায় দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এছাড়া সারাদিন কিছু না খাইয়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। দুর্বলতার কারণে বিড়ালটি মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিড়ালটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে এর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *