পরীক্ষা-চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হচ্ছে মানুষ, জেনে নিন কিভাবে

বাংলাদেশের করোনা সংক্রমণ ১১০ দিন পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে যে পরীক্ষার হার তা এখন পর্যন্ত হতাশাজনক। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ৭ লাখ করোনা পরীক্ষাও হয়নি। ১৭ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই দেশে এই পরীক্ষার হার শুধু নগণ্যই নয়, এর মাধ্যমে করোনা সংক্রমণের গতিপ্রকৃতিও বোঝা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশের ৪৩ টি জেলায় আবার করোনা পরীক্ষার কোন ব্যবস্থাই নেই। আর একারণে বাংলাদেশে এখন করোনার সংক্রমণ কোথায় যাবে, কি পরিস্থিতিতে যাবে তা নিয়ে এক অনিশ্চিয়তার কথা শোনাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

মানুষ উপসর্গ নিয়ে করোনা পরীক্ষা করাতে নানারকম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। যেসব স্থানে করোনা পরীক্ষা করা হয় সেই সব স্থানে দীর্ঘ লাইন পড়ে গেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে যে, এখন পর্যন্ত ৬৬ টি ল্যাবে কোভিড-১৯ এর নমুনা পরীক্ষা করা হয়, তবে তা যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশের কোভিড পরীক্ষার সক্ষমতা সর্বোচ্চ ২০ হাজার পর্যন্ত আছে বলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যে পাওয়া গেছে। যদিও বাংলাদেশে প্রতিদিন ১৪ হাজার থেকে ১৬ হাজারের মধ্যে পরীক্ষা সীমাবদ্ধতা থাকছে। এর ফলে বহু মানুষ থাকছে পরীক্ষার বাইরে।

দেখা গেছে যে, বাংলাদেশে পরীক্ষার জন্য হয়রানি এবং দীর্ঘসূত্রিতা থাকার কারণে অনেকে মৃদু উপসর্গ নিয়ে বাসায় থাকছেন এবং কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুস্থ হয়ে উঠছেন। বাংলাদেশে গত দুই সপ্তাহ ধরে ২১/২২ শতাংশের মধ্যে করোনা সংক্রমণ রয়েছে। অর্থাৎ যাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে তাঁদের ২১ থেকে ২২ শতাংশ করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হচ্ছে। এই হিসেব বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে, বাংলাদেশে সামাজিক সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, কিন্ত বহু মানুষ পরীক্ষা করছে না। সাধারণত ৩ ধরণের মানুষ নিজেদের পরীক্ষা থেকে দূরে রাখছে।

প্রথমত, যারা পরীক্ষা করার সুযোগ পাচ্ছে না। যে সমস্ত জেলায় ল্যাব নেই তাঁরা ঝুঁকি নিয়ে অন্যত্র গিয়ে পরীক্ষা করাতে চাচ্ছে না। তাঁদের মাঝে উপসর্গ আছে, তা সত্ত্বেও তাঁরা কোন হাসপাতালে যাচ্ছেন না। বরং ঘরে বিভিন্ন ধরণের ওষুধপত্র খেয়ে এবং নিয়ম মেনে সুস্থ হয়ে উঠছে।দ্বিতীয়ত, যারা বিভিন্ন ধরণের কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। যে কাজগুলোতে তাঁর করোনা আছে তা প্রকাশিত হলে চাকরি হারানোর ভয় আছে বা সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হওয়ার ভয় আছে- এইসমস্ত ব্যক্তিরা উপসর্গ নিয়েই বাসায় আইসোলেশনে থাকছেন। কিছু কিছু পরামর্শ শুনে নিজেদের সুস্থ রাখার চেষ্টা করছেন।

আমরা লক্ষ্য করেছি যে, বিগত ২ সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণে মোট মৃত্যুর ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মৃত্যু বাড়িতে হচ্ছে। এটা আরেকটি উদ্বেগজনক দিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদের মধ্যে অবশ্য ৯৫ ভাগই বাসায় চিকিৎসা ছাড়া সুস্থ হয়ে উঠছেন।তৃতীয়ত, যারা করোনার কোন উপসর্গ বহন করে না, তবুও তাঁরা আক্রান্ত। উপসর্গহীন এই রোগীরা কোন পরীক্ষার প্রয়োজন আছে বলেও মনে করছেন না। এই বাস্তবতায় তাঁরা আক্রান্ত হওয়ার পর আপনা আপনি সুস্থ হয়ে উঠছেন বা তাঁদের কোন চিকিৎসার প্রয়োজন হচ্ছেনা।

এই ধরণের রোগীরাই সবথেকে ভয়ের কারণ বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে এখন যত পরীক্ষা হচ্ছে এবং যত আক্রান্ত হচ্ছে তাঁর থেকে বেশি মানুষ পরীক্ষা-চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হয়ে উঠছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *