মুমিনুল এখন ‘ঝাড়ি’ মারাও শিখে গেছেন

মাঠে মুমিনুল হককে বেশ শান্তই মনে হয়। এমনই শান্ত, অনেক সময় সেঞ্চুরি করে ব্যাটটা তুলতেও যেন রাজ্যের অস্বস্তি। এই মুমিনুলের হাতেই টেস্টের মতো কঠিন ফরমেটের নেতৃত্ব তুলে দেয়া হয়েছে। দেখতে দেখতে দলকে চার টেস্টে নেতৃত্বও দিয়ে ফেলেছেন মুমিনুল।

এই চার টেস্টের মধ্যে অবশ্য প্রথম তিনটিতেই ইনিংস পরাজয়ের স্বাদ নিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। তবে প্রতিপক্ষ কারা ছিল, খেলা কোথায় হয়েছে, সেটাও তো দেখতে হবে।

প্রথম দুই টেস্টে প্রতিপক্ষ ছিল টেস্টের এক নম্বর দল ভারত, খেলাও তাদেরই মাঠে। অধিনায়কত্ব ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্টটিও মুমিনুলকে খেলতে হয়েছে বিরূপ কন্ডিশনে। পাকিস্তানের মাটিতে তাদেরই শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে।

এই তিন টেস্টের একটিতেও নিজেদের সামর্থ্যর প্রমাণ দিতে পারেনি বাংলাদেশ। ভারত-পাকিস্তানের সামনে যে বাংলাদেশই ছিল দুর্বল প্রতিপক্ষ! এবার ঘরের মাঠে ফেবারিট হিসেবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলতে নামে টাইগাররা, যেখানে আবার দুর্বল ছিল প্রতিপক্ষ দলই। বাংলাদেশও ইনিংস পরাজয়ের লজ্জা দিয়েছে তাদের।

মুমিনুল হক পেয়েছেন অধিনায়ক হিসেবে প্রথম জয়ের দেখা। টাইগার দলপতি জানালেন, অধিনায়ক হিসেবে দলে তামিম-মুশফিকদের মতো সিনিয়রদের কাছ থেকে শতভাগ সাপোর্টই পাচ্ছেন।

মুমিনুল বলেন, ‘আমি ভারত সিরিজ থেকে যখন দায়িত্ব নিয়েছি, তখন থেকে আমি সিনিয়রদের কাছ থেকে শতভাগ এফোর্ট পাচ্ছি। মানে আজ পর্যন্ত আমি সিনিয়র ক্রিকেটারদের নিয়ে খুব হ্যাপি। ইভেন আপনি যদি মাঠে ফিল্ডিং দেখেন, অফ দ্য ফিল্ড অন দ্য ফিল্ড, আমি শতভাগ পাচ্ছি। ১০০ এর বেশিও বলা যায়।’

তবে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গেলে ওত নম্র ভদ্র থাকা যায় না, এখন সেটা বেশ বুঝতে পারছেন মুমিনুল। ‘ঝাড়ি’ দেয়াটাও তাই শিখে গেছেন।

মাঠে অধিনায়কত্ব নিয়ে মুমিনুল বলেন, ‘আমার ক্যাপ্টেন্সি শুরু হয়েছিল বিসিএল, এনসিএল দিয়ে। ওই জায়গায় প্রথম প্রথম এরকমই ছিলাম। পরে দেখলাম যে না জিনিসটা চেঞ্জ করতে হবে। যারা মাঠে থাকে তারা জানে। একটু এগ্রেসিভ, রূঢ় থাকতে হয়। রূঢ় না ঠিক, এগ্রেসিভ থাকতে হয় আর কি! সবাইকেই ঝাড়ি মারি (হাসি)।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *