অবশেষে সুশান্তের চূড়ান্ত ময়নাত’দন্ত রিপোর্ট প্রকাশ

অস্বাভাবিক মৃ’ত্যুর ১০ দিন পর চূড়ান্ত ময়নাত’দন্তের রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকেরা। সুশান্ত সিং রাজপুতের ময়নাত’দন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, আত্মহ’ত্যাই করেছেন অ’ভিনেতা। গলায় ফাঁ’স লাগার ফলে দম বন্ধ হয়ে মৃ’ত্যু হয়েছে তাঁর। পাশাপাশি রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, তাঁর শরীরে কোনো আ’ঘাতের চিহ্ন ছিল না।

এর আগে তাঁর প্রাথমিক ত’দন্তেও একই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল মুম্বাই পু’লিশ। সেখানেও মৃ’ত্যুর কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল আত্মহ’ত্যা। বর্তমানে সুশান্ত সিং রাজপুতের ভিসেরা রিপোর্টের জন্য অ’পেক্ষা করছে মুম্বাই পু’লিশ।

১৪ জুন রোববার বান্দ্রার বাড়িতে গলায় ফাঁ’স দিয়ে আত্মহ’ত্যা করেছিলেন ৩৪ বছর বয়সী বলিউডের তরুণ নায়ক সুশান্ত সিং রাজপুত। প্রা’ণখোলা, হাসিখুশি এই নায়কের মৃ’ত্যু ঘিরে উঠে এসেছে একাধিক প্রশ্ন। সুশান্তের পরিবারের দাবি, খু’ন করা হয়েছে তাদের সন্তানকে। তবে ময়নাত’দন্ত প্রতিবেদন ও পু’লিশের প্রাথমিক ধারণা এবং চূড়ান্ত ময়নাত’দন্তের পর স্পষ্ট হলো, ঘটনাটি আত্মহ’ত্যাই। নিজেকে নিজেই হ’ত্যা করেছেন এ তারকা।

মুম্বাই থেকে প্রকাশিত স্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মৃ’ত্যুর পরদিন প্রকাশিত প্রাথমিক ময়নাত’দন্তের রিপোর্টে স্বাক্ষর করেছিলেন তিনজন চিকিৎসক। গতকাল স্বাক্ষর করেছেন পাঁচজন চিকিৎসক। রাসায়নিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ফরেনসিক বিভাগেও চিঠি পাঠিয়েছে পু’লিশ। নিয়ম অনুযায়ী সুশান্তের দেহ ময়নাত’দন্তের জন্য পাঠানো হয়েছিল মুম্বাইয়ের ড. আর এন কুপার মিউনিসিপ্যাল হাসপাতা’লে। হাসপাতা’লের রিপোর্ট বলছে, ঝুলে থাকায় অ্যাসফিক্সিয়ার কারণেই মৃ’ত্যু হয়েছে অ’ভিনেতার। আমৃ’ত্যু দড়িতে ঝুলে ছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিলে তার থেকে মানুষ অ’জ্ঞান হয়ে যেতে পারে কিংবা মা’রাও যেতে পারে। এই অবস্থাকেই বলে অ্যাসফিক্সিয়া।

সুশান্তের আত্মহ’ত্যার ঘটনাটির ত’দন্ত করছে মুম্বাই পু’লিশ। জানা গেছে, ত’দন্তের স্বার্থে মুম্বাই পু’লিশ এ পর্যন্ত মোট ২৩ জনের বয়ান রেকর্ড করেছে। অ’ভিনেতার পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন সুশান্তের কাজের সঙ্গে জ’ড়িত ব্যক্তিরা। বলিউডের কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবরা এবং সুশান্তের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মডেল-অ’ভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বান্দ্রা পু’লিশ। এ ছাড়া যশ রাজ ফিল্মসের সঙ্গে সুশান্তের যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল, সেটাও খতিয়ে দেখছে ত’দন্তকারী আধিকারিকেরা। পু’লিশ সূত্রে খবর, যশ রাজ ফিল্মসের সঙ্গে চুক্তি ভেঙে দিয়েছিলেন সুশান্ত। পু’লিশকে এমনটাই জানিয়েছেন রিয়া চক্রবর্তী। এমনকি রিয়াকেও চুক্তি ভাঙার পরাম’র্শ দেন সুশান্ত। ২০১২ সালে যশ রাজ ফিল্মসের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট সই করেন সুশান্ত সিং রাজপুত। এরপর ‘শুদ্ধ দেশি রোমান্স’ এবং ‘ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সী’—যশ রাজের ব্যানারে এই দুই ছবিতে অ’ভিনয় করেন তিনি। এসব সূত্রে সুশান্তের এই ম’র্মা’ন্তিক পরিণামের জন্য বলিউডকে দায়ী করেছেন অ’ভিনেত্রী কঙ্গনা রনৌতসহ আরও বেশ কয়েকজন। এ জন্য তাঁরা বলিউডের ‘স্বজনপোষণ’ নীতিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, সুশান্ত আত্মহ’ত্যা করেননি, তাঁকে পরিক’ল্পিতভাবে খু’ন করা হয়েছে। বলিউডের কিছু মানুষের একনায়কতন্ত্রের বি’রুদ্ধে সরব হয়েছেন অনেকেই।

১৯৮৬ সালের ২১ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া সুশান্ত পাঁচ ভাই–বোনের মধ্যে সবার ছোট। তাঁর বড় চার বোন আছেন। ২০১৩ সালে ‘কাই পো চে’ দিয়ে বড় পর্দায় অ’ভিষেক ঘটে সুশান্তর। একই বছরে মুক্তি পায় ‘শুদ্ধ দেশি রোমান্স’। ২০১৬ সালে ‘ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ মুক্তির পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি সুশান্তকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *