৬১ লাখ টাকা পেয়েও ফিরিয়ে দিলেন সজিব

চক্রের মধ্যে পড়েও সততার অনন্য নজির স্থাপন করেছে চাঁদপুরে অটোরিকশা চালক সজিব। দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা নিজের হাতে ৬১ লক্ষ টাকা রেখেও পরে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে পু’লিশের মাধ্যমে তাপ্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেন এই যুবক। এ জন্য বিকাশ এবং জে’লা পু’লিশ সুপারের পক্ষ থেকে আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।চাঁদপুর শহরে জোড় পুকুর এলাকা থেকে বিকাশের অনেক টাকা নিয়ে অটোরিক্শার একচালক চলে গেছে।

এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। দুপুর গড়িয়ে বেলা শেষে চালক মো. সজিব তার ভগ্নিপতি পুরানবাজারের ঘাটশ্রমিক আবুল কাশেমকে নিজের কাছে এই টাকা থাকার কথা জানায়।এ সময় সে নিজেই টাকাগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে সহযোগিতা নেওয়া, বাদল নামে একজনের। রবিবার সন্ধ্যায় এই বাদল সদর মডেল থা’নার ওসি মো. নাসিমউদ্দিনকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানান।

পরে পুরানবাজারের একটি গ্যারেজ থেকে ৬১ লক্ষ টাকার লালব্যাগটি উ’দ্ধার করেন থা’নার ওসি। এ সময় জিজ্ঞাবাসাদের জন্য সজিবকে থা’না নিয়ে আসা হয়। পু’লিশের কাছে সজিব স্বীকার করেন, মালিক খুঁজে না পাওয়ায় এই টাকা নিজের কাছে রেখেছিলেন।পু’লিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, মোটা অঙ্কের এই টাকা নিয়ে কি করবে। এমন দুঃশ্চিন্তায় পড়েন অটোরিকশা চালক মো. সজিব। পরে তার কয়েক বন্ধুর সঙ্গে পরাম’র্শ করেন তিনি।

এমন পরিস্থিতিতে দুটি চক্রের কবলেও পড়ে যায় যুবকটি। কিন্তু অবস্থা বেগতিক দেখে চক্রগুলো তার কাছ থেকে দূরে সরে যায়। পরে আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতা নিয়ে টাকাগুলো ফিরিয়ে দেবার পথ খুঁজে নেয় মো. সজিব।এর আগে গতকাল রবিবার বেলা ১১টায় শহরের পৌরসভা কার্যালয়ের পাশে ইউসিবিএল ব্যাংক থেকে বিকাশ এজেন্টের একজন কর্মী ৬১ লক্ষ টাকা তোলেন। পরে ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিক্শা নিয়ে শহরের জোড় পুকুরপাড়ে যান তিনি।

এ সময় ভুল করে টাকাভর্তি লাল রঙের ভ্যাগটি অটোরিক্শায় রেখে নেমে যান মাসুদ নামে এই বিকাশকর্মী। তারপরও টাকাসহ ঘটনাস্থল কিছু সময় অ’পেক্ষা করে সেখান থেকে চলে যায় অটোচালক।এই ঘটনার পর বিকাশের স্থানীয় এজেন্ট আলমগীর আলম জুয়েলসহ ওই কর্মী সদর মডেল থা’নায় ছুটে যান। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেখানে থাকা সিসিক্যামেরার ফুটেজ দেখে শহরের বিভিন্নস্থানে থা’না ও গোয়েন্দা পু’লিশ অ’ভিযান শুরু করে।

অ’ভিযানের একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৭টায় সেই ৬১ লক্ষ টাকার সন্ধান পায় পু’লিশ। পরে শহরের পুরানবাজারের একটি গ্যারেজ থেকে টাকাসহমো. সজিব নামে অটোরিক্শা চালককে থা’নায় নিয়ে যাওয়া হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরানবাজারে ঘাটশ্রমিক দেলোয়ার সর্দারের ৪ সন্তানের মধ্যে মো. সজিব দ্বিতীয়। সেখানে কবরস্থান সড়কে তাদের বাসা। মাত্র পঞ্চ’মশ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে এই যুবক। এরপর থেকে অটোরিক্শা চালিয়ে আয়ের পথ খুঁজে নেন তিনি।এই বিষয় চাঁদপুরের পু’লিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান জানান, চক্রের মধ্যে পড়ে অনেকেই বিপদগামী হয়।

কিন্তু সেই পথে পা বাড়াননি ছে’লেটি। ফলে লো’ভ লালসার উর্ধ্বে উঠে এতোগুলো টাকা ফিরিয়ে দিয়ে অনন্য নজির গড়েছে মো. সজিব নামে এই যুবক।পু’লিশ সুপার আরো বলেন, চাঁদপুর শহরে অসংখ্য সিসিক্যামেরা রয়েছে। যেগুলোর কারণে এই শহরে অ’প’রাধ করে পার পেয়ে যাবে, সেই প্রতিকূল পরিবেশ এখন আর সেই। তাই সজিবের সঙ্গে অন্য কেউ যোগ হলেও সেই সুযোগ ছিল না।

পু’লিশ সুপার জানান, এমন পরিস্থিতিতে লো’ভ সামলিয়ে ছে’লেটি সততার পথে ফিরে আসায় আমা’র ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা এবং বিকাশের পক্ষ
থেকে আরো ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। এই দিয়ে সে যেন একটি অটোরিক্শা ক্রয় করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে এই যুবকটি।এদিকে, মো. সজিবের বাসায় চাঁদপুর জে’লা প্রশাসকের পক্ষ থেকেও খাদ্য সামগ্রী ও ফল পাঠানো হয়েছে। এই জন্য সোমবার দুপুরে অ’তিরিক্ত জে’লা প্রশাসক মোহাম্ম’দ আব্দুল্লাল আল মাহমুদ জামান, কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে এসব পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।তবে পুরস্কৃত করা নিয়ে অটোচালক মো. সজিবকে নিয়ে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে পক্ষ-বিপক্ষ তুলে নানা এখন মন্তব্যের ঝড় বইছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *