সারাদেশে পূর্ণ লকডাউনের সুপারিশ

দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাঁচটি সুপারিশ করেছে। কমিটির নবম সভায় এসব সুপারিশ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা গণমাধ্যমে প্রেসবিজ্ঞপ্তি আকারে পাঠান। সুপারিশগুলো হলো- ১. রোগের বিস্তার বন্ধ করতে সামাজিক বিচ্ছিন্ন করণ নিশ্চিত করার জন্য পূর্ণ লকডাউন প্রয়োজন। কারিগরি পরামর্শক কমিটি জীবন এবং জীবিকার সামঞ্জস্যের গুরুত্ব উপলব্ধি করে সারা দেশে আক্রান্ত ও ঝুঁকির মাত্রার ভিত্তিতে যতটা বড় এলাকায় সম্ভব জরুরীভাবে লক ডাউনের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দৃঢ় অভিমত ব্যক্ত করে।

২. অত্যন্ত জরুরীভিত্তিতে সব হাসপাতালে হাই-ফ্লো অক্সিজেন থেরাপীর প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করে চালু করার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি ইতোমধ্যে যে পরামর্শ দিয়েছে সেই লক্ষ্যে হাই-ফ্লো অক্সিজেন থেরাপীর ব্যবস্থা সব হাসপাতালে চালু ও সম্প্রসারণ করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়কে পুনরায় জানানো হয়।

৩. চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা ব্যাপকহারে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন স্বাস্থ্যসেবা কর্মীর জীবনাবসান ঘটেছে। তাদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ হারে আক্রান্ত হতে থাকলে ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের সুষ্ঠু চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকলে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা প্রবলভাবে ব্যাহত হবে। হাই- ফ্লো অক্সিজেনসহ চিকিৎসার জন্য অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদানসহ স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের জন্য আলাদা হাসপাতাল চালু করা অবিলম্বে প্রয়োজন।

৪. কোভিড-১৯ এর জন্য নির্ধারিত হাসপাতালগুলো সবসময় পূর্ণ থাকছে। জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির পরামর্শক্রমে ইতোমধ্যে সব হাসপাতালে পৃথক এলাকা ঠিক করে কোভিড ও নন-কোভিড রোগীর চিকিৎসা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যেসব হাসপাতালে এ সিদ্ধান্ত এখনও বাস্তবায়ন হয়নি সেসব হাসপাতালে কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা আরও বাড়ানো দরকার। এ জন্য বক্ষব্যাধি হাসপাতাল বা এরকম অন্য যে কোন উপযুক্ত হাসপাতাল আশু চালু করা দরকার।

৫. সরকার টেস্ট এর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি করতে সফলতা দেখিয়েছে। এখন প্রয়োজন পরীক্ষার মানোন্নয়ন ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। যতদিন সময় কমানো সম্ভব না হয়, পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা না করে সন্দেহজনক রোগীর চিকিৎসা/আইসোলেশন নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *