আক্রান্ত ও মৃতের তথ্য প্রকাশ করবে না ব্রাজিল

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মরণঘাতী করোনাভাইরাসের নতুন হটস্পট হিসেবে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোকে চিহ্নিত করেছে। এই মহাদেশের দেশগুলোতে আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সবচেয়ে বেশি ব্রাজিলে। অথচ দেশটি তার সরকারি ওয়েবসাইট থেকে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত ও মৃতের সব তথ্য মুছে দিয়েছে। এই সংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রচার করা হবে না বলেও জানিয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, কট্টর ডানপন্থি প্রেসিডেন্টের নির্দেশে এই কাজ করা হয়েছে।

ব্রাজিলের জাতীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক এলবার্তো বেলত্রামে এ প্রসঙ্গে বলেন, করোনাভাইরাসে কারণে মৃতদের প্রতি প্রশাসনের এমন অমানবিক আচরণ কখনো সফল হবে না। ব্রাজিলিয়ানরা এই ঘটনা সব সময় মনে রাখবে।

জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্যমতে, দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ছয় লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষের করোনাভাইরাসে সংক্রমণ হয়েছে। এই সংখ্যা বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। মারা গেছে প্রায় ৩৬ হাজার মানুষ।

জানা যায়, শনিবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সরকারি ওই ওয়েবসাইট থেকে আগের সব তথ্য সরিয়ে নেয়। এর আগে শুক্রবার হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট। সে সময়ই সব তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে।

এই ঘটনায় বেশ সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট ও তার সরকারকে। দেশজুড়ে দেখা দিয়েছে বিক্ষোভ। তবে এই পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন জাইর বোলসোনারো। এক টুইটে তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে ব্রাজিলে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা প্রকাশ দেশের সত্যিকারের অবস্থানের প্রতিফলন নয়।

দ্য সিটিজেনের বরাতে জানা যায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এমন পদক্ষেপের জবাবদিহিতা চেয়েছেন দেশটির বিচারকরা। তারা মন্ত্রণালয়কে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দিয়ে দিয়েছেন।

ব্রাজিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারক গেলিমার মেন্দেস এক টুইটে বলেন, মন্ত্রণালয়ের এমন আচরণ সর্বগ্রাসী শাসনের একটি উদাহরণ। কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এরকম আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।

ব্রাজিলের বিভিন্ন রাজ্যের গভর্নররাও এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ। প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করে বিবৃতি প্রকাশ করছেন তারা।

দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য পারনামবুকোর গভর্নর পাওলো কামারা বলেন, আপনি স্বচ্ছতা, বিজ্ঞান ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ছাড়া একটি মহামারির মোকাবেলা করতে পারবেন না। আপনাদের এই আচরণ কর্তৃত্ববাদ শাসন ব্যবস্থার মতো। তবে আমরা ব্রাজিলিয়ানরা দমে যাব না। বিশেষ উপায়ে আমরা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা প্রকাশ করেই যাব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *