প্রথমবারের মতো একই মাসে চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে

করোনাভাইরাস, পঙ্গপালসহ নানা কারণে চলতি বছর প্রায়ই জর্জরিত হয়ে উঠেছে। তবে জ্যোতির্বিদদের কাছে এটি ‘সোনার’ বছর। একাধিক ঘটনার সাক্ষী থাকছে চলতি বছরের আকাশ। এবার মহাকাশে ঘটতে চলেছে বিরল মহাজাগতিক ঘটনা। প্রথমবারের মতো একই মাসে চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ দেখতে পাবেন পৃথিবীবাসী।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ জুন চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে। এদিন পৃথিবীর হালকা ছায়া পড়বে চাঁদের ওপর। রাত ১১টা ১৫ মিনিটে শুরু হবে চন্দ্রগ্রহণ। দেখা যাবে ১২টা ৫৪ মিনিটে। গ্রহণ থাকবে ৩ ঘণ্টা ১৮ মিনিট অর্থাৎ রাত ২টা ৩৪ মিনিট পর্যন্ত। বাংলাদেশ থেকেও এই গ্রহণ দেখা যাবে।

অন্যদিকে সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে ২১ জুন। এবারের সূর্যগ্রহণ হবে পূর্ণগ্রাস। শুরু হবে সকাল ৯টা ১৫ মিনিট থেকে। দেখা যাবে ১০টা ১৭ মিনিট থেকে দুপুর ২টা ২ মিনিট পর্যন্ত। গ্রহণ শেষ হবে দুপুর ৩টা ৪ মিনিটে। ইন্ডিয়ান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, একই মাসে এমন দুটি ঘটনা এর আগে দেখা যায়নি।

পৃথিবী যখন পরিভ্রমণরত অবস্থায় কিছু সময়ের জন্য চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে; তখন পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে। পৃথিবীর কোনো দর্শকের কাছে চাঁদ আংশিক বা সম্পূর্ণ রূপে কিছু সময়ের জন্য অদৃশ্য হয়ে যায়। এই ঘটনাকে চন্দ্রগ্রহণ বলা হয়।

আবার চাঁদ যখন পরিভ্রমণরত অবস্থায় কিছু সময়ের জন্য পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন পৃথিবীর কোনো অঞ্চলে সূর্য আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে কিছু সময়ের জন্য অদৃশ্য হয়ে যায়। এ ঘটনাকে সূর্যগ্রহণ বলা হয়।

মাদ্রাসা পড়ুয়া আবরার হলেন গুগলের ইঞ্জিনিয়ার

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগলে যোগ দিলেন চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান নাদিমুল আবরার। বুয়েট থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্মাতক করা আবরার দাখিল পাস করেন ফেনী থেকে।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার আবদুল কাদেরের সন্তান তিনি। শুক্রবার রাতে পোল্যান্ডে গুগলের ওয়ারশ অফিসে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন তিনি।

জানা গেছে, নাদিমুল আবরার এ বছরই বুয়েট থেকে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। পাস করার সঙ্গে সঙ্গে সিঙ্গাপুরের একটি কোম্পানি ও গুগল থেকে তার চাকরির অফার আসে। এরমধ্যে সে গুগলকেই বেছে নেয়। তার চাচা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এনাম-উল হক এই তথ্য জানান।

তবে বাবার চাকরির সুবাদে তার শৈশব কেটেছে কুমিল্লায়। তার বাবা আবদুল কাদের বর্তমানে কুমিল্লা বার্ড-এর পরিচালক। তবে আরবি মাধ্যমে পড়ালেখার কারণে তার কৈশোর কেটেছে ফেনীতে। বলতে গেলে ফেনী তাদের সেকেন্ড হোম।

ড. এনাম-উল হক জানান, ফেনীর জামিয়াতুল ফালাহিয়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করে কুমিল্লায় বাবার কর্মস্থলে ফিরে যান নাদিমুল আবরার।

এইচএসসি পাস করেন কুমিল্লা ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে। মাদ্রাসায় পড়াকালীন সময়েই গণিত ও বিজ্ঞানের তুখোড় ছাত্র হিসেবে তার নাম ছাত্র-শিক্ষকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে।

এইচএসসি পড়াকালীন সময়ে সে গণিত অলিম্পিয়াডে চ্যাম্পিয়ন হয়। বুয়েটে গিয়ে তার কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ে নেশা জাগে। ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডসহ বিভিন্ন প্রোগ্রামিং কনটেস্টে সে কৃতিত্ব প্রদর্শন করে। আইওআইয়ের জন্য চূড়ান্ত বাছাইয়ে সিলেক্ট হয়েও সে দুর্ভাগ্যবশত অংশগ্রহণ করতে পারেনি।

আবরারের দাদা সীতাকুণ্ড থেকে ফেনী অঞ্চলের কিংবদন্তি আধ্যাত্মিক সাধক ও পীর প্রফেসর নূরুল আবছার।

তার চাচারা হলেন- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. রশীদ আল ফারুকী (খাইরুল বশর), ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এনাম-উল হক, সাংবাদিক আক্তার-উন নবী ও ডা. নুর মোহাম্মদ।

হযরত মুহাম্মদ (সা.)-ই আমার সবচেয়ে বেশি অনু্প্রেরণা: ব্রিটিশ নারী এমপি

একজন ব্রিটিশ মুসলিম নারী হিসেবে নিজের পায়ে দাঁড়াতে যে ব্যক্তি আমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ দিয়েছেন এবং আমাকে ক্ষমতায়ন করেছেন তিনি হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এক আলোচনায় অংশ নিয়ে হাউস অব কমন্সে এ মন্তব্য করেন এই ব্রিটিশ এমপি যুক্তরাজ্যের নারী ও সমতা বি’ষয়ক ছায়ামন্ত্রী নাজ শাহ। ১৯৩৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে বিশ্বের সেরা বিধানদাতাদের একজন আখ্যা দেয়। এমপি নাজ শাহ এ বি’ষয়টিও তার বক্তব্যে টেনে আনেন। তিনি বলেন, হযরত মুহাম্মদই একমাত্র ব্যক্তি যার কাছ থেকে আমি অনুপ্রেরণা পেয়েছি।

ব্র্যাডফোর্ড ওয়েস্ট থেকে নির্বাচিত এই এমপি বলেন, ‘তিনি (হযরত মুহাম্মদ) এমন একটা সময় পৃথিবীতে এসেছিলেন, যখন নারীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হতো।

সময়ের পরিক্রমায় পরবর্তীতে তিনি এমন একটি সমাজ উপহার দেন, সেখানে শোষিত, বঞ্চিত ও হ’ত্যাকাণ্ডের শি’কার (শি’শুসন্তান মেয়ে হলে জীবন্ত পুঁতে ফেলা হতো) নারীরা শুধু তাদের বেঁচে থাকার অধিকারই পায়নি; সম্পত্তি, বিবাহ, উত্তরাধিকার, ভোট প্রদান, সম্মান, মর্যাদা এবং স্বাধীনতা-সবই পেয়েছে।

ভাইরাস থেকে বাঁচতে নবীজীর নির্দেশনা অত্যন্ত কার্যকর: মার্কিন গবেষক

চীনের উহান থেকে উৎপত্তি হয়ে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এখন তাণ্ডব চালাচ্ছে ইউরোপজুড়ে। এরই মধ্যে বিশ্বের ১৯৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে ইউরোপের ইতালিতে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৬০১ জন, আর স্পেনে মারা গেছে ৫৩৯ জনের।

ইতোমধ্যেই করোনাভাইরাসের এই প্রকোপকে ‘বিশ্ব মহামারী’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

ভয়াবহ এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে অসংখ্য উপায় ও উপকরণের শরণাপন্ন হচ্ছেন গবেষকরা। কিন্তু এ থেকে পরিত্রাণের তেমন কোনও আশার আলো দেখা যাচ্ছে না।
এই সংকটাপন্ন সময়ে তরুণ মার্কিন গবেষক ড. ক্রেগ কন্সিডাইন করোনা থেকে বাঁচতে মহানবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশনার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি আমেরিকার টেক্সাসে অবস্থিত রাইস ইউনিভার্সিটির একজন গবেষক হিসেবে কর্মরত। খবর দ্য নিউজ উইকের।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইমিউনোলজিস্ট বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অ্যান্থনি ফসি এবং মেডিক্যাল রিপোর্টার ডাক্তার সঞ্জয় গুপ্তের মতো বিজ্ঞ চিকিৎসকরা করোনা থেকে সুরক্ষিত থাকতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সুন্দর ব্যবস্থাপনায় হোম কোয়ারেন্টিনের কথা বলেছেন।

একই সঙ্গে সুস্থ লোকদের জন্য জনসমাগম এড়িয়ে একাকী জীবনযাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, এসব উপায়ই করোনা থেকে বেঁচে থাকার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।

অথচ আপনারা কি জানেন মহামারির সময়ে সর্বপ্রথম কে এই কোয়ারেন্টাইনের উদ্ভাবন করেছেন? আজ থেকে প্রায় ১৪শ’ বছর আগে ইসলাম ধর্মের নবী মুহাম্মাদই (সা.) পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম ‘কোয়ারেন্টাইন’-এর ধারণা দেন। তাঁর সময়ে উল্লেখযোগ্য কোনও সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ছিল না।

তবে তিনি এসব রোগব্যাধিতে করণীয় সম্পর্কে তার অনুসারীদের যে নির্দেশনা দিয়েছেন এককথায় তা ছিল দুর্দান্ত! তাঁর মূল্যবান সেই পরামর্শ মানলেই করোনার মতো যেকোনও মহামারী থেকে যথেষ্ট সচেতনতা অবলম্বন করা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মহামারি প্রসঙ্গে তিনি (মহানবী) বলেছেন, “যখন তুমি কোনো ভূখণ্ডে প্লেগ ছড়িয়ে পড়ার খবর শুনতে পাও তখন সেখানে প্রবেশ কোরো না। পক্ষান্তরে প্লেগ যদি তোমার অবস্থানস্থল পর্যন্ত পৌঁছে যায় তাহলে ওই জায়গা ত্যাগ কোরো না।”

তিনি আরও বলেছেন, “সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ মানুষের থেকে দূরে থাকবে।” এভাবে বিভিন্ন সময়ে নানা পরিস্থিতিতে মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর অনুসারীদের বিশেষ করে রোগব্যাধিতে আক্রান্ত লোকদের পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারেও উদ্বুদ্ধ করতেন।

এ ব্যাপারে তাঁর অমূল্য কিছু কথামালা হল, ‘পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অংশ’, ‘ঘুম থেকে জেগেই দুই হাত ধৌত করো। কেননা ঘুমের মধ্যে তোমার হাত কোথায় স্পর্শ করেছে তুমি জান না’, ‘খাওয়ার আগে ও পরে ধৌতকরণের মধ্যেও বরকত রয়েছে’ ইত্যাদি।

মোটকথা, তাঁর অনুসারীরা যেকোনও পরিস্থিতির সম্মুখীন হোক তা থেকে পরিত্রাণের ব্যাপারেই তিনি তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। ধর্মীয় ক্ষেত্রে তিনি যেমন ব্যাপক অবদান রেখে অমর হয়ে আছেন, ঠিক তেমনই মানুষের জীবনযাপন বিষয়ক মহামূল্যবান যে পরামর্শ তিনি দিয়ে গেছেন তা আজও অনুকরণীয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *