ঢাকায় শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়, রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি

রাজধানীর ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ঘণ্টায় ৭৮ থেকে ৮৩ কিলোমিটার বেগে শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়। ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকার গাছপালা। ঝড়ের সঙ্গে ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। আবহাওয়া অফিস ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। যার মধ্যে সকালে মাত্র ৩ ঘণ্টায় রেকর্ড হয়েছে ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত যা সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ রেকর্ড। বুধবার (২৭ মে) ভোরে তীব্র গতিতে ঝড়টি আঘাত হানে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে বাতাসের চাপ বেশি থাকায় এই ঝড় হচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

দেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে আগেই পূর্বাভাস দিয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঈদের দিন অর্থাৎ ২৫ মে থেকে গত তিন দিন ধরেই চার সমুদ্র বন্দরে দেখাতে বলা হচ্ছে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত। একইসঙ্গে উপকূলীয় এলাকা স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে দুই থেকে চার ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে হঠাৎ করে শুরু হয় ঝড়। এরপর টানা প্রায় আধা ঘণ্টা তুমুল বেগে ঝড়ো বাতাস ও বজ্রসহ মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর কমে আসে ঝড়ের বেগ। একই ধরনের ঝড় হয়েছে বুধবার (২৭ মে) ভোর সোয়া ৬টার দিকে। বাতাসের তোড়ে ঘুম ভাঙে অনেকের। মধ্যরাতের তুলনায় ভোরে বাতাসের গতিবেগ বেশি ছিল। ২০-২৫ মিনিট ধরে চলে তাণ্ডব। তবে ভোরে ঝড়ে তেমন বিদ্যুৎ চমকাতে দেখা যায়নি। তবে এসময় অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ রাখা হয়। এদিকে, আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান বলেন, ‘উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের দিকে একটি লঘুচাপ রয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়াৱ বয়ে যেতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *