করোনায় রাজশাহীতে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল

রাজশাহীর নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানীর (নেসকো) এপ্রিল মাসের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসি। মিটার রিডিং না দেখে অফিস থেকে মনগড়া বিদ্যুতের বিল করার জন্য হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে গ্রাহকদের। প্রতিনিয়ত এমন ঘটনা ঘটলেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। গ্রাহকরা একের পর অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। নগরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও বিল করা হয়েছে কয়েকগুন। নেসকো কর্তৃপক্ষ বলছেন, প্রিন্ট মিসটেকের কারণে এমন ভুল হয়েছে।

নেসকো অফিসের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, রাজশাহীতে নেসকোর অধিনে প্রায় ২লাখ গ্রাহক রয়েছে। এরমধ্যে অনেক গ্রাহক এপ্রিল মাসের বিল বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এবার গ্রাহকদের বিদ্যুতের বিল বেশি করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিল দেয়া হলেও মিটার রিডিং দেখা হয়নি। অফিসে বসে মনগড়া ভাবে তৈরি করা বিদ্যুৎ বিল গ্রাহকরা পেয়েছেন। এতে দেখা গেছে মার্চ মাসে যে গ্রাহকের ১ হাজার টাকা বিল এসেছে, এপ্রিল মাসে তা দাঁড়িয়েছে ১৫শ’ টাকায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর শিক্ষা স্কুল অ্যান্ড কলেজ লকডাউনের আগে থেকে বন্ধ রয়েছে। স্কুলে জ¦লে না লাইট, ঘোরে না ফ্যান। তারপরও মার্চ মাসে এই প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিল দেয়া হয়েছে ৫ হাজার ২০০ টাকা, পরের মাস এপ্রিলে বিদ্যুৎ বিলের পরিমান এসে দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৮০ টাকা। এর আগের ফেব্রুয়ারিতে বিল দেয়া হয়েছিল ৪ হাজার ৩০০টাকা। এছাড়াও নগরীর তালাইমারী এলাকার গ্রীণ ফিল্ড স্কুলে এপ্রিল মাসের বিল দেয়া হয়েছে একটি মিটারে ২৭টাকা ও অপর একটি মিটারে ২৯টাকা। যদিও এই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই পরিমান বিল আসার পর দ্রুত পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়াও নগরীর ষষ্টিতলা মসজিদের সামনের বাড়ির মালিক জাহিদ হোসেনের বাড়িতে গত মার্চ মাসে বিল আসে ১৫শ’ টাকা। কিন্তু এপ্রিল মাসের বিল দেয়া হয়েছে ৩৫শ’ টাকা। তিনি তার ওই বাড়িটি ছাত্রবাস হিসাবে ব্যবহার করেন। মার্চ মাসের আগেই শিক্ষার্থীরা চলে গেছেন। যার কারণে সন্ধ্যার লাইটটিও জ¦লে তার বাসায়। তারপরও এই বিল দেখে তিনি হতবাক।

নগরীর শিক্ষাস্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ইব্রাহীম হোসেন জানান, নেসকোর বিদ্যুৎ বিলের উপর লেখা রয়েছে ‘দেশ প্রেমে শপথ নিন, দুর্নীতিকে বিদায় দিন’, কিন্তু নেসকো নিজেই দুর্নীতি ও ভুলে ভরা অবস্থায় চললেও কর্তৃপক্ষের নজরে আসছে না। তিনি জানান, বিদ্যুৎ বিল কমবেশি হতে পারে। কিন্তু এতো কমবেশি মেনে নেয়ার মত না। তিনি জানান, ফেব্রুয়ারীতে নেসকো বিল স্বাভাবিকের চেয়ের এক হাজার টাকা বেশি দেয়। পরের মাস মার্চে আবারো এক হাজার বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু এপ্রিলে এসে ৬৯ হাজার ১৮০ টাকা কী করে মেনে নেয়া যায় ?

একই কথা জানান, ষষ্টিতলার জাহিদ হাসান। তিনি অভিযোগ করেন, বাসার ভেতর মিটার। যদি বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন মিটার রিডিং দেখতে আসে তাহলে তাদের ডাকতে হবে। কিন্তু গত চারমাসে নেসকো অফিস থেকে কেউ মিটার রিডিং দেখতে আসেনি। অফিস থেকেই মনগড়াভাবে বিল দেয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

বিষয়টি নিয়ে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে আগের মাসের বিল দেখে সমন্বয় করে বিল করা হয়। কিন্তু এতো কমবেশি হওয়ার কোনো কারণ নেই। যেটা হয়েছে সেটা প্রিন্ট মিসটেক। তিনি বলেন, যাদের বিল বেশি এসেছে তারা অফিসে যোগাযোগ করলে বিল ঠিক করে দেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *