সৌদি আরবে বিভিন্ন হাসপাতালে ক’রোনা রোগিদের পাশে কুরআন তেলাওয়াত করছেন স্বাস্থ কর্মীরা

সৌদি আরব বিভিন্ন হাসপাতালে করোনা রোগিদের পাশে বসে কুরআন তেলাওয়াত করছেন স্বাস্থ কর্মীরা,এমন কিছু দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়,

ছবিতেই দেখা যাচ্ছে রুগিদের পাশে বসে ডাক্তার এবং নার্সরা পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করছে। বিষয়টি প্রথম রহস্যময় মনে হলেও এটাই বাস্তব, আল্লাহর কুরআন তেলাওয়াতের

মাধ্যমে আছে সেফা, আল্লাহ চাইলে সবাই সুস্থ করে দিতে পারেন, তিনিই একমাত্র সকল ক্ষমতার মালিক, সামন্য একটি ভাইরাসের কাছে গোটা পৃথিবী আজ অসহায়, আল্লাহ আমাদের সবাই কে ক্ষমা করুক।

সামাজিক ও জাতীয় দায়িত্ববোধ থেকে হারামাইন প্রেসিডেন্সির প্রধান প্রফেসর ড. শায়েখ আবদুর রহমান বিন আব্দুল আজিজ আস সুদাইস করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের জন্য জমজমের পানি সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন।

শায়েখ সুদাইসের ঘোষণার পর থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত রোগীদেরকে জমজমের পানি সরবরাহ শুরু হয়েছে। এছাড়া মক্কা ও মদিনা অধিদপ্তরও তাদের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য জমজমের পানি বিতরণ করছেন।

সম্প্রতি মদিনা সফরকালে সেখানে কর্তব্যরত নিরাপত্তারক্ষীদের মাঝে জমজমের পানি বিতরণ করেন হারামাইনের প্রেসিডেন্ট শায়েখ সুদাইস।

উল্লেখ্য, জমজম মসজিদে হারামের কাছে অবস্থিত একটি প্রসিদ্ধ কূপ। পবিত্র কাবা ও এই কূপের মধ্যে দূরত্ব মাত্র ৩৮ গজের। হজ ও উমরা আদায়কারীর জন্য বিশেষভাবে এবং পৃথিবীর সব মুসলমানের জন্য সাধারণভাবে জমজমের পানি পান করা মুস্তাহাব। সহিহ হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে জমজম থেকে পানি পান করেছেন। -সহিহ বোখারি: ১৫৫৬

সাহাবি হজরত আবু জর (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘জমজমের পানি বরকতময়, স্বাদ অন্বেষণকারীর খাদ্য।’ -সহিহ মুসলিম: ২৪৭৩

কোনো কোনো হাদিসে জমজমের পানিকে ‘রোগীর ঔষধ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আম্মাজান হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজের সঙ্গে পাত্রে ও মশকে করে জমজমের পানি বহন করতেন। তা অসুস্থদের ওপর ছিটিয়ে দিতেন এবং তাদের পান করাতেন। -সুনানে তিরমিজি

এ বর্ণনা থেকে এ কথাও জানা যায় যে, জমজমের পানি বহন করা জায়েজ। আর যারা জমজম কূপের কাছে নয়, তাদের পান করানো নববী সুন্নত।

জমজমের পানি পান করার সময় একটি বড় কাজ হলো- দোয়া করা। হজরত জাবির (রা.) বর্ণনা করেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জমজমের পানি যে উদ্দেশ্য নিয়ে পান করবে তা পূরণ হবে।’ -সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩০৬২ বিখ্যাত বুজুর্গ ও মনীষীরা জমজমের পানি পানের সময় বিভিন্ন দোয়া করতেন।

একদিকে নভেল করোনাভাইরাসের হানায় মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে গোটা যুক্তরাষ্ট্র, তার মধ্যেই দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে তাণ্ডব চালিয়েছে শক্তিশালী টর্নেডো। এতে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৩৩ জন, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ।

গত রোববার দিনের শুরু থেকেই মধ্য টেক্সাসে আঘাত হানতে শুরু করে টর্নেডো। সেখানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে এটি একে একে লুইজিয়ানা, আরাকানসাস, মিসিসিপি, টেনেসি, আলাবামা, জর্জিয়া ও ক্যারোলিনার ওপর দিয়ে যায়। এর আঘাতে শুধু মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন।

এছাড়া দক্ষিণ ক্যারোলিনায় মারা গেছেন নয়জন। সেখানে ঝড়ের আঘাতে উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা। মিসিসিপি, লুইজিয়ানা, আলাবামার গভর্নরেরা অঙ্গরাজ্যগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় এ অঞ্চলে অন্তত ৪১বার টর্নেডো আঘাত হেনেছে বলে জানা গেছে।

সোমবার সকালেও উত্তর ফ্লোরিডা, ভার্জিনিয়া ও ক্যারোলিনায় বেশ কয়েকবার ঝড়-বজ্রঝড় আঘাত হেনেছে। নিউ জার্সি থেকে ফ্লোরিডায় ব্যাপক ঝড় ও নিউ ইংল্যান্ডে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন এ অঞ্চলের অন্তত চার কোটি মানুষ।

এছাড়া মিসিসিপি নদীর তীরবর্তী ১৬ কোটি বাসিন্দাকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। করোনার হানায় বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র। এ পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৮১ হাজার ৯১৮ জন, মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৬০৮।

এই মহামারির কারণে ইতিহাসে প্রথমবার একসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই বিপর্যয় ঘোষণা করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *