সেদিন আশরাফুলের মায়ের হাতের সব খাবার সাবাড় করে দিয়েছিলেন শচিন

খুব ছোট থেকেই বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের স্বপ্নের নায়ক ছিলেন শচিন টেন্ডুলকার। যখন বয়স কেবল ১২ কি ১৩ ঠিক তখন নিজের স্বপ্নের নায়কের প্রথম দর্শন পেয়েছিলেন আশরাফুল। ঢাকা স্টেডিয়ামে বসে ১৯৯৮ সালে শচিনকে সেদিন দেখেছিল বলবয় আশরাফুল।তবে দ্বিতীয়বারের দেখায় শচিন দেখেছিলেন আশরাফুলকে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে। তাইতো দ্বিতীয় বারের দেখায় যেখান বলবয় থাকাকালীন তোলা ছবি শচিনকে দেখিয়েছিলেন আশরাফুল তখন বিস্মিতই হয়েছিলেন লিটল মাস্টার।

সেই থেকে সম্পর্কের শুরু,পরবর্তীতে ২০১০ সালে ভারত ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরের মাঝপথে আশরাফুলের আতিথ্য গ্রহন করেন শচীন,হরভাজন। ২০১০ সালের ২২ জানুয়ারি আশরাফুলের বাসায় কাটিয়েছেন ২ ঘন্টা সময়। খেয়েছেন আশরাফুলের মায়ের হাতে রান্না করা টেবিলে রাখা সব খাবার।সেই গল্পটা আরেকবার বৃহস্পতিবার ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান মোহামম্মদের ফেইসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেণ নট আউট নোমান এ লাইভে এসে শুনিয়েছেন আশরাফুল।

আশরাফুলের ভাষ্যে,‘২০০৯ সালে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে খেলেছি আমি। তার পরের বছর বছর (২০১০) বাংলাদেশ ট্যুরে আসলো ইন্ডিয়া। হরভাজন সিং আমাকে বললো,তোমার বাসায় আমাদের নিবে না ? আমি বললাম শচীন ভাই আগে আসুক,তারপর যাবা। ওয়ানডে সিরিজে আসেননি শচীন। টেস্ট সিরিজে এসেছিলেন তিনি। ভারতের কম্পিউটার এনালিস্টও তখন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ছিল।’‘তখন আমার বাসা কমপ্লিট হয়নি। টিনের গেট ছিল। রামপুরা থেকে রাস্তাটা ছিল ইটের। চট্টগ্রাম টেস্ট শেষে ঢাকায় আমরা একই ফ্লাইটে ফিরলাম। হোটেলে এসে শচীন বলল, রুমে আস। আমি রুমে গেলাম। তখন জানতে চাইল হোটেল থেকে তোমার বাসায় যেতে কতোক্ষন লাগবে। আমি বললাম শুক্রবারে ১৫ মিনিট লাগে,অন্যদিন লাগবে এক ঘন্টা। আমার কথা শুনে শচীন বলল, ঠিক আছে আমরা তাহলে শুক্রবারেই যাব।’

‘আমি তখন বাবা,ভাইয়াকে বললাম,অ্যারেঞ্জ করেন। মাইক্রোবাসে করে যাচ্ছি,ভাঙ্গাচোরা রাস্তা দেখে হরভাজন বললো-কোথায় নিচ্ছ ? আম্মা আমার যতোগুলো ফেভারিট আইটেম ছিল,সব তৈরি করেছেন। সুজন ভাই, জাভেদ ভাই, সাকিব,তামিম ছিল। ওয়াহিদ স্যারও খাবার টেবিলে ছিলেন। আমার ফেভারিট মেন্যু চালের রুটি,গরুর মাংস,মুরগির মাংস,গরুর ভুড়ি।‘যেহেতু ওরা আসছে,তাই চালের রুটি,ইলিশ মাছ সব ছিল। যতোগুলো আইটেম ছিল, শচীন সব খেয়েছে। খাবার শেষে দই-মিস্টি যা দিচ্ছি,তাই খেয়েছে। আমি তো অবাক। শচীন তখন বলল, একটা সময় আছে যখন দিনে একটা রুটি খাই,অন্য সময় যা পাই,তাই খাই।’

২ ঘন্টা অবস্থানকালে একটুও বিরক্ত হননি শচীন। তা দেখে অবাক হয়েছেন আশরাফুল, ‘শচীন আমার বাসায় ২ ঘন্টা ছিল। আমরা হলেও বিরক্ত হতাম। কিন্তু উনি একটু ও বিরক্ত হননি। আমার বাসার সামনে পুলিশ দেখে মানুষ জড়ো হয়েছে। বাসা থেকে বেরুনোর সময় গেটের সামনে ভিড় দেখে সাকিব-তামিম দৌড়ে বাসায় ফিরে এসেছে। শচীন মানুষদের হাই হ্যালো দেখে একা সিঙ্গল চলে গেল। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে আইপিএল খেলতে ৪৫ দিন ছিলাম দক্ষিন আফ্রিকায়,শচীন যে কতো বড় মনের মানুষ ওই সময় দেখেছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *