বিশ্বসেরা বিজ্ঞানী হলেন ধামরাইয়ের ড. মামুন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপে বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় স্থান লাভ করেছেন ঢাকার ধামরাই উপজেলার কৃতী সন্তান ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এএ মামুন। তার কৃতিত্বের জন্য নিজগ্রাম জালসাসহ পুরো ধামরাইবাসী গর্বিত। বিজ্ঞানী মামুনকে নিয়ে স্টল, স্যালুন ও হোটেল রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে

ধামরাইয়ের পাড়া-মহল্লাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বৃহস্পতিবার সরেজমিন গিয়ে এসব তথ্য পাওয়া যায়। ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী সেরা বিজ্ঞানীদের মধ্যে শতকরা দুইভাগ (টু পার্সেন্ট) বিজ্ঞানীদের নিয়ে প্রকাশিত তালিকায় অধ্যাপক ড. এএ মামুন স্থান লাভ করায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের বরাত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম এ তথ্য জানান। এ ছাড়া ব্যাপক আয়োজনে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার জালসা গ্রামের অধ্যাপক মামুনের জন্ম। তিনি উপজেলার কুশুরা আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক দরবেশ আলীর ৫ম সন্তান। একটি অভিনন্দন বার্তায় উপাচার্য বলেন, অধ্যাপক ড. এএ মামুনের এ সম্মান

বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতি ও সুনাম আরও বৃদ্ধি করেছে। তার এ গৌরবে বিশ্ববিদ্যালয় ঋদ্ধ হয়েছে। উপাচার্য খ্যাতিমান বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এএ মামুনের উত্তরোত্তর সাফল্য ও দীর্ঘ কর্মময় জীবন কামনা করছি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধ্যাপক ড. এএ মামুন কমনওয়েলথ স্কলারশিপ নিয়ে ইংল্যান্ডের সেন্ট অ্যান্ডরুস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি জামার্নির

হোমবোল্ট পোস্টডক ফেলো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্স কর্তৃক জুনিয়র ও সিনিয়র গ্রুপে স্বর্ণপদক লাভ করেন। এ ছাড়া তিনি জার্মানি থেকে অতি সম্মানজনক ‘ব্যাসেল রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়ার গৌরব অর্জন করেন। বর্তমান পর্যন্ত একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে অধ্যাপক ড. এএ মামুন এ গৌরব অর্জন

করেন। বিশ্বের খ্যাতনামা গবেষণা জার্নালে তার প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা ৪১৭টি। ডা. মামুনের বড় ভাই ড. নুরুল আলম বর্তমানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি। ভাইদের মধ্যে ছোট মামুন। সেকুশুরা আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকেই এসএসসি এবং সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের

১৩তম ব্যাচের এ ছাত্র কৃতিত্বের সঙ্গে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। সেরা বিজ্ঞানীর তালিকায় তার নাম আসার খবর পাওয়ার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে শুরু করে ধামরাইসহ সারা দেশ থেকে অভিনন্দন বার্তা আসতে থাকে।

বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনের জন্য এটি একটি মাইলফলক বলে মনে করেন অনেক শিক্ষাবিদ। এ খবরে মামুনের নিজ গ্রাম জালসা ও কুশুরা আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে তাকে নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানমালারও আয়োজন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

Author: Rijvi Ahmed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *