বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে শিক্ষিকার অবস্থান

ঢাকার ধামরাইয়ে বিয়ের দাবিতে এক নৌ বাহিনীর সদস্যের বাড়িতে সাত দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচী পালন করছে এক স্কুল শিক্ষিকা। এ ঘটনায় এলাকায় এক ধরণের চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে ধামরাইয়ের নান্নার ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের নৌ বাহিনীর সদস্য আমির হোসেনের বাড়িতে।এলাকাবাসী জানায়, আড়াই বছর আগে ধামরাইয়ের লাড়ুয়াকুন্ড গ্রামের আব্দুল কাদেরের

মেয়ে স্থানীয় কিন্ডার গার্টেন স্কুলের শিক্ষিকা আঁখি আক্তারের (২০) সাথে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে নান্নার ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে আমির হোসেনের (২৩) সঙ্গে।

সে নৌ বাহিনীর একজন সদস্য। পরে ওই নৌ বাহিনীর সদস্য বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে স্কুল শিক্ষিকাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে আসছিলো। এরপর ওই নৌ বাহিনীর সদস্যকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে ওই স্কুল শিক্ষিকা। তখন স্কুল শিক্ষিকা আঁখি আক্তারকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান আমির হোসেন।

এদিকে লোক চক্ষুর আড়ালে ওই স্কুল শিক্ষিকা হঠাৎ করে নিজের বাড়ি থেকে ছেলের বাড়িতে বিয়ের জন্য অবস্থান নেন। সাত দিন ধরে ওই বাড়িতে স্কুল শিক্ষিকা অবস্থান নেয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেয়ায় স্কুল শিক্ষিকা জানান, বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত তিনি ওই বাড়িতে অবস্থান নিয়ে থাকবেন। অভিযুক্ত ওই নৌ বাহিনীর সদস্য খুলনা নৌ দপ্তরে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় নৌ বাহিনীর সদস্য আমির হোসেনের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এবিষয়ে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে স্থানীয় নান্নার ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, পারিবারিকভাবে ওই স্কুল শিক্ষিকার সঙ্গে নৌ বাহিনীর সদস্যকে বিয়ে দেয়ার জন্য তারা আলোচনা চালিয়ে গেলেও ছেলের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না।

তবে জানা যায়, এ ঘটনায় পারিবারিক সহায়তায় প্রেমিক আমীর হোসেন বাড়ি ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে। তবে গা ঢাকা দেয়ার আগেই প্রেমিকার সঙ্গে নিজ বাড়িতে রাত্রিযাপন করেন প্রেমিক আমীর হোসেন। এমনটাই জানালেন অবস্থানরত প্রেমিকা।

এ বিষয়ে আমীর হোসেনের অভিভাবকরা বিয়ের আশ্বাস দিয়ে কালক্ষেপণ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বার বার দেন-দরবার করেও বিয়ের কোনো ব্যবস্থা করতে পারছে না কেউ।

এদিকে আমীর হোসেন বিয়ে না করলে আত্মহত্যা করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে অবস্থানরত ওই শিক্ষিকা।

সরেজমিনে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসেন আমীর হোসেন। এরপর গত রোববার তার প্রেমিকাকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বেড়াতে গেছেন তিনি। ওইদিন বিয়ে করার কথা বললে তাকে জয়পুরা এলাকায় একটি দোকানে বসিয়ে রেখে বাড়িতে চলে যান আমীর হোসেন।

এরপর নৌ বাহিনীর সদস্য আমির হোসেন মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। পরে নিরুপায় হয়ে ওইদিন বিকেলে আমীর হোসেনের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অবস্থান করে কলেজছাত্রী।

এদিকে আমীর হোসেনের চাচাতো ভাই সেনাসদস্য (অব.) আবদুল হালিম বিয়ে পড়ানোর মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে সোমবার রাতে মেয়ের অভিভাবকদের ডেকে নেন ওই বাড়িতে। কিন্তু রাত হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে মঙ্গলবার সকালে বিয়ে পড়ানো হবে বলে মেয়ের অভিভাবকদের ফের জানিয়ে দেন আবদুল হালিম।

মেয়ের বাবাসহ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, বিয়ে করানোর মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে আবদুল হালিম তার চাচাতো ভাই আমীর হোসেনকে অন্যত্র সরিয়ে রেখেছে।

এদিকে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেয়া স্কুল শিক্ষিকা জানান, আমাকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে সর্বনাশ করেছে আমীর হোসেন। এখন সে আমাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা করা ছাড়া আমার কোনো উপায় নেই।বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে শিক্ষিকার অবস্থান

Author: Rijvi Ahmed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *