এলপিজির দাম নির্ধারণ করছে সরকার

দেশে প্রথম বারের মতো রান্না ও পরিবহনের গ্যাস এলপিজির (লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাসের) খুচরা দাম নির্ধারণ করতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী জানুয়ারিতে গণশুনানির আয়োজন করেছে এ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আমদানিনির্ভর এ জ্বালানি পণ্যের দাম ঘনঘন ওঠানামা করায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল্যহার নির্ধারণ করতে চায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। গণশুনানিতেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

এখন পর্যন্ত এলপিজির মূল্য নির্ধারণে সরকারি নিয়ন্ত্রণ নেই। বেসরকারি এলপিজি অপারেটররা এ বাজারের পণ্যমূল্য নির্ধারণ-নিয়ন্ত্রণ করত। এ নিয়ে ভোক্তারা অনেক বছর ধরে অভিযোগ করে আসছেন। বাজারে বিশৃঙ্খলা, একচেটিয়া ব্যবস্থা ও অন্যায্যতা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অভিযোগ ছিল। শুনানির মাধ্যমে মূল্যহার নির্ধারণ করলে দুই পক্ষেই স্বস্তি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এলপি গ্যাসের দাম নিয়ে দেওয়া আদেশ পালন না করায় গত ২৯ নভেম্বর সংস্থাটির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করে উচ্চ আদালত। এর আগে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) গণশুনানির মাধ্যমে এলপিজির দাম নির্ধারণের জন্য একটি রিট আবেদন করেছিল। এই রিটের শুনানি শেষে আদালত বিইআরসিকে গণশুনানি করে এলপিজির দাম নির্ধারণের আদেশ দেয়। সর্বশেষ ২৯ নভেম্বরের রুলে দুই সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয় বিইআরসিকে। তাই কিছুটা তড়িঘড়ি করতে হচ্ছে বিইআরসি কর্মকর্তাদেরকে। গত ২ ডিসেম্বর আদালতের আদেশ হাতে পাওয়ার পর ঐ দিনই এলপিজি অপারেটর ও বিপণন কোম্পানিগুলোকে চিঠি দেয়। গত সোমবারের মধ্যে তাদের প্রস্তাব লিখিতভাবে কমিশনে পাঠাতে বলা হয়। কিন্তু প্রস্তাব পাঠানোর জন্য এ সময় অপ্রতুল জানিয়ে এক মাস সময় চেয়েছে এলপিজি কোম্পানিগুলোর জোট এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে আরো এক সপ্তাহ সময় বাড়িয়েছে বিইআরসি।

দেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ২৮টি বেসরকারি কোম্পানির মধ্যে ২০টি এলপিজি আমদানি করছে। এগুলোর বাইরে এলপি গ্যাস লিমিটেড একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এলপিজি বিপণন করছে। বিইআরসির নির্দেশনায় বেসরকারি কোম্পানিগুলো প্রস্তাব পাঠাতে এবং শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে সম্মত হলেও তা এড়িয়ে গেছে খোদ সরকারি কোম্পানি। এ বিষয়ে তারা বিপিসির নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে বিইআরসিকে জানিয়েছে।

বিইআরসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ১৪, ১৭ এবং ১৮ জানুয়ারি গণশুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে শুনানি গ্রহণ সশরীরে নাকি অনলাইনে আয়োজন করা হবে তা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।

বিইআরসির চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বলেন, আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এলপিজির খুচরা মূল্য নির্ধারণে গণশুনানির পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। শুনানি শেষেই মূল্যহার চূড়ান্ত করা যাবে।

একটি বেসরকারি এলপিজি কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, এলপিজির মূল্য এবং মূল্যহার নির্ধারণের ফর্মুলা নিয়ে গত তিন মাসে অন্তত তিন বার বিইআরসি অপারেটর-বিপণনকারীদের সঙ্গে আলোচনা-বৈঠক করেছে। ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সুপারিশ করেছে। বাংলাদেশে এলপিজি আমদানি পরিবহনে খরচ অনেক বেশি। তাই পার্শ্ববর্তী দেশের চেয়ে এখানে দামও বেশি।

প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ কমায় গত এক যুগ ধরে দ্রুত বড় হচ্ছে আমদানিনির্ভর এলপিজির বাজার। কিন্তু সে অনুপাতে বাজার শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং গ্রাহক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। দেশে প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন এলপিজি ব্যবহূত হচ্ছে। এর মধ্যে ৮৪ শতাংশ ব্যবহূত হয় রান্নার কাজে। বাকি ১৬ শতাংশ পরিবহনের অটোগ্যাস, শিল্প ও বাণিজ্য খাতে ব্যবহার করা হয়। করোনা সংক্রমণ শুরুর পর বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম অনেকখানি কমে গেলেও তার প্রতিফল ঘটেনি দেশের বাজারে। এমন প্রেক্ষাপটে বাজারে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ও গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় এলপিজি গ্রাহকদের ভর্তুকি দেওয়ার সুপারিশও করেছে বিইআরসি।

Author: Rijvi Ahmed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *