বাবাকে গাড়ির নিচে ফেলে মেরে ফেলার চেষ্টা ছেলে-পুত্রবধূর

ময়মনসিংহের ফুলপুরে মো. শাহাবুদ্দিন (৮০) নামের এক অসহায় বৃদ্ধ বাবাকে গাড়ির নিচে ফেলে মেরে ফেলার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে তার ছেলে ও ছেলের বউয়ের বিরুদ্ধে।

সোমবার (৭ ডিসেম্বর) ভোররাতে ঢাকা-শেরপুর মহাসড়কের উপজেলার সাহাপুর চেরাগআলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বৃদ্ধ মো. শাহাবুদ্দিন শেরপুর জেলার সদর উপজেলা জঙ্গলদি গ্রামের বাসিন্দা। ২০ বছর ধরে তিনি ফুলপুর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের ডা. নাজমুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে ছেলের সঙ্গে বসবাস করে আসছেন।

ওই বৃদ্ধের ছেলের নাম রফিক (৪৮) ও পুত্রবধূর নাম নাছিমা (৪২) বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, ছেলে রফিক ও তার স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা পান তা দিয়ে তাদের সংসার চলে। সোমবার ভোরে বৃদ্ধ বাবা শাহাব উদ্দিনকে নিয়ে তার ছেলে রফিক ও পুত্রবধূ নাসিমা বেগম বের হন। তারা ওই বৃদ্ধকে ঢাকা-শেরপুর মহাসড়কের কাছে নিয়ে আসেন। একপর্যায়ে তাকে গাড়ি চাপা দিয়ে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে মহাসড়কের মাঝখানে রেখে আসার চেষ্টা করেন। এ সময় বৃদ্ধের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়। পরে রাস্তার মাঝখানে তাকে ফেলে রেখে ছেলে ও তার বউ পালিয়ে যান।

পরে মৌ আক্তার পলি নামের এক নারী পথচারী ৯৯৯ নস্বরে ফোন করেন। তার ফোন পেয়ে ফুলপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে এবং তাকে বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

এ বিষয়ে ওই বৃদ্ধ সাহাবুদ্দিন ভাঙা ভাঙা গলায় বলেন, ‘প্রথমে গলায় দাও দিয়ে ফ্যাশ দিয়ে (গলায় দা ধরে) পরে রাস্তায় নিয়ে গাড়ির নিচে ফেলে তাকে আজ মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল ছেলে ও তার বউ।’

এ ব্যাপারে ছেলে রফিকের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

রফিকের স্ত্রী নাছিমা বলেন, ‘তারা সাধ্যমতো তার সেবা করছেন। তবে শ্বশুরের অত্যাচারে তারা অতিষ্ঠ। একটু ব্যতিক্রম হলেই তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন, প্রতিদিন বিছানা নষ্ট করে ফেলেন।’

সড়কে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি জানান, তার স্বামী রফিক রাগ করে এ ঘটনা ঘটাতে চেয়েছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমারত হোসেন গাজী বলেন, ‘ওই বৃদ্ধকে বাড়িতে পাঠানোর পর আমি নিজেও তার বাড়িতে গিয়ে তার ছেলের হাতে বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি। স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে ওই বৃদ্ধের বয়স্ক ভাতার কার্ড দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।’

এমন ঘটনা ঘটার কারণ কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই বৃদ্ধ একেবারেই অচল। নিজে কোনো কিছুই করতে পারেন না।

Author: Rijvi Ahmed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *