চাষ হচ্ছে সাদা চা, প্রতি চুমুকেই খরচ হাজার টাকা

বিলাসী বাঙালির তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের চা। লাল চা, দুধ চা, গ্রিনটি, আদা চা, তুলসি, পুদিনা, লেবু কিংবা মরিচ চা সবই রসনা বিলাসীদের পছন্দের মেন্যুতে জায়গা করে নিয়েছে।
এর মধ্যে সাদা চা বা হোয়াইট টি বর্তমানে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। গবেষণা বলছে, এই চা দ্রুত ওজন কমাতে সহায়তা করে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিপাকক্রিয়া বাড়িয়ে দিতে সহায়তা করে।

হোয়াইট টি ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় দীর্ঘ সময় ক্ষুধা মুক্ত রাখে। এছাড়াও ফাইবারবিহীন জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেয়। এতে খাওয়ার প্রবণতা কমে যাওয়ায় শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি জমতে পারে না। ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে হোয়াইট টি। সম্পৃক্ত ফ্যাটকে গলিয়ে অসম্পৃক্ত ফ্যাট তৈরি করে। এছাড়াও নতুন ফ্যাট সেল তৈরি হতে বাধা দেয়। ফলে অতিরিক্ত ওজনও বাড়ে না।

বর্তমানে এই চা ত্রিপুরায় পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। অত্যন্ত দামি ও ওষুধিগুণ সম্পন্ন এই উৎপাদনে প্রাথমিকভাবে এসেছে সফলতা। সাধারণ চায়ের চেয়ে এর উৎপাদন খরচ বেশি। প্রক্রিয়াও অনেক বেশি জটিল। তাই দামও বেশি। এই চা প্রতি কেজি ভারতীয় রুপিতে বিক্রি হচ্ছে ৫০ হাজারে। যা বাংলাদেশি টাকায় ৫৭ হাজার টাকার বেশি। তাই বলা চলে, এই চায়ে চুমুক দিতে গুনতে হবে হাজার টাকা।

আগরতলার পার্শ্ববর্তী দুর্গাবাড়ি এলাকার ক্ষুদ্র চা চাষি গোপাল চক্রবর্তী সম্প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে সামান্য পরিমাণ হোয়াইট টি উৎপাদন করেছেন। এই চা পাতা দেখতে পুরোপুরি কালো নয়, ধূসর কালো রঙের। চা পাতার আকার অনেকটা লম্বা ও কাঠির মতো। গোপাল চক্রবর্তী মূলত অর্গ্যানিক গ্রিন টি উৎপাদন করেন। তার হাতে তৈরি অর্গ্যানিক গ্রিন টির খ্যাতি রয়েছে ত্রিপুরাসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে। এমনকি তার উৎপাদিত হাতে তৈরি গ্রিন টি ভারত ছাড়াও বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানুষ সংগ্রহ করে নিয়ে যান।

হোয়াইট টির জন্য চা পাতার একেবারে কুঁড়ির অংশ সংগ্রহ করা হয়। পাতার কুঁড়িগুলো মেলে পাতার আকৃতি নেয়ার আগেই সংগ্রহ করতে হয়। কাঁচা পাতাগুলো সম্পূর্ণ সবুজ হয় না। তাই এগুলো প্রক্রিয়াজাত করা হলে লম্বা আকারের এবং ধূসর রঙের হয়। চায়ের রং হালকা সবুজাভ হয়। তেমন রং হয় না। তাই হোয়াইট টি বলা হয়।

যত বেশি পরিমাণ চা পাতাই দেয়া হোক না কেন এবং যতক্ষণ ধরেই ফোটানো হোক রং এর চেয়ে বেশি হবে না। এর কারণ পাতা যখন গাছ থেকে সংগ্রহ করা হয় তখন এগুলো পুরোপুরি সবুজ হয় না, তাই ইচ্ছে করলেই এর রং পরিবর্তন হবে না। তিনি বলেন, যে কেউ হোয়াইট টির জন্য পাতা সংগ্রহ করতে পারে না। এই পাতা সংগ্রহ করার জন্য জন্য অভিজ্ঞ আহরণকারী প্রয়োজন হয়। স্বাদে গ্রিন টির চেয়েও হালকা হয়। আর এই চা পান করলে ঘুম খুব ভালো হয়।

এক হেক্টর চা বাগান থেকে সপ্তাহে সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি কাঁচা পাতা সংগ্রহ করা সম্ভব যা দিয়ে এক কেজি শুকনো হোয়াইট টি পাতা তৈরি হয়। হাতে তৈরি হয় বলে এটা সম্পূর্ণ অর্গানিক। সাধারণ চা তৈরির জন্য এক হেক্টর জায়গা থেকে এক সপ্তাহে ৩৭৫ কেজি কাঁচা পাতা সংগ্রহ করা সম্ভব এবং এই কাঁচা পাতা প্রক্রিয়াকরণ করলে ৮০ কেজি শুকনো চা পাতা তৈরি হয়। এই পরিমাণ পাতার পাইকারি বিক্রিমূল্য ১৫ হাজার রুপির কাছাকাছি।

অপরদিকে এক কেজি হোয়াইট টি ৪০ থেকে ৫০ হাজার রুপিতে বিক্রি হয়। এই ধরনের দামি চা মূলত হাতে তৈরি করা হয়। যা অত্যন্ত কঠিন কাজ। পাতা তোলা থেকে শুরু করে চা প্রক্রিয়াকরণ এবং শুকানো পর্যন্ত সামান্য এদিক সেদিক হলে রং এবং স্বাদ কোনোটাই হবে না। এজন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ নেয়ার প্রয়োজন হয়।

গোপাল চক্রবর্তী যখন টি বোর্ড অব ইন্ডিয়া থেকে হাতে তৈরি চা পাতার প্রশিক্ষণ নিয়ে ছিলেন তখন হোয়াইট টি তৈরির প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছিল তাদের। এত দামি চায়ের চাহিদা কেমন, আদৌ কি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন সফল হবে? একথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ত্রিপুরা রাজ্যে এই চায়ের চাহিদা না থাকলেও ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এবং বিদেশে এসব চায়ের চাহিদা রয়েছে। সবদিক বিবেচনা করে বিশেষ করে বর্হিঃরাজ্যে পাইকারি ক্রেতা পেলে বাণিজ্যিকভাবে হোয়াইট টি উৎপাদন শুরু করবো।

সূত্র: বাংলানিউজ

Author: Rijvi Ahmed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *