ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়তে হাঁস-মুরগি-ছাগল-রিকশা উপহার

কক্সবাজার সদরে ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে জীবিকায়ন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারস্বরূপ উপকরণ দেওয়া হয়েছে ৩৪ জন ভিক্ষুকে। সোমবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার শহরের সার্কিট হাউস রোডস্থ অরুণোদয় স্কুলে সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়।

এর মধ্যে ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ১৭ জন এবং ঝিলংজা ইউনিয়নের ১৭ ভিক্ষুককে এসব জীবিকায়ন কর্মসূচির আওতায় আনা হয়। এদের মধ্যে ২০ জনকে হাঁস-মুরগিসহ ঘর ও খাবার, ৫ জনকে রিকশা, ২ জনকে চা-দোকান, ১ জনকে পান দোকান, ১ জনকে সেলাই মেশিন এবং ১ জনকে মাছ ধরার জাল বানানোর উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া উপকারভোগী প্রত্যেক পরিবারকে ২ মাসের জন্য খাদ্য সামগ্রীও বিতরণ করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, উন্নত ও আত্মমর্যাদাশীল দেশ গঠনে সরকার দেশকে ভিক্ষুকমুক্তকরণ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এ লক্ষ্যে প্রশাসন কক্সবাজারে মাঠ পর্যায়ে ভিক্ষুকদের তালিকা তৈরি তাদের জীবিকায়ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে সদর উপজেলার ২ টি ইউনিয়নের ভিক্ষুকদের মাঝে জীবিকায়ন উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

‘এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে জেলার সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে একদিনের বেতন বাবদ ৪৮ লাখ টাকা সংগ্রহ করে ফান্ড তৈরি করা হয়। পরে কর্মসূচির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। তিনি উপহার স্বরূপ ফান্ডে ৫০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন।’

ভিক্ষুক মুক্তকরণ কর্মসূচি একটি চলমান প্রক্রিয়া উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘প্রথম দফায় সদর উপজেলার ২ টি ইউনিয়নের ৩৪ জন ভিক্ষুককে জীবিকায়ন উপকরণ বিতরণে ৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। ফান্ডে জমা থাকা অন্য টাকা দিয়ে সবাইকে জীবিকায়ন করা সম্ভব নয়। তাই জানুয়ারি মাসে জেলার সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে আবারো একদিনের বেতন সংগ্রহ করে ফান্ডে জমা দেওয়া হবে। এছাড়া জেলার বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের কাছ থেকেও সহায়তা নেওয়া হবে।’

কামাল হোসেন বলেন, ‘কর্মসূচির আওতায় জেলায় মোট ১ হাজার ৫০১ জন ভিক্ষুকের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার ৮ উপজেলার সবক’টি ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত ভিক্ষুকদের জীবিকায়ন উপকরণ বিতরণের মধ্য দিয়ে ভিক্ষুক মুক্তকরণ করা হবে।’

জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্বরূপ জীবিকায়নের উপকরণ পাওয়া ভিক্ষুকরা এখন থেকে আর ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দেবেন। তারা এসব উপকরণের সদ্ব্যবহার করে জীবিকা নির্বাহ করবেন। তাছাড়া কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীরা প্রাপ্ত উপকরণগুলোর সদ্ব্যবহার করছে কিনা তা তদারকির জন্যও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলার ইউএনও সুরাইয়া আক্তার সুইটির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাসুদুর রহমান মোল্লা, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম, কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, জেলা জাসদের সভাপতি নঈমুল হক চৌধুরী টুটুল, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল, কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. নজিবুল ইসলাম প্রমুখ।

সদরের ইউএনও সুরাইয়া আক্তার সুইটি বলেন, উপকারভোগীদের জীবিকায়ন উপকরণ বিতরণে মাঠ পর্যায়ে নানা জরিপ চালানো হয়েছে। তাদের স্ব স্ব চাহিদা অনুযায়ী এসব উপকরণ বিতরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, উপকরণ বিতরণে উপকারভোগীদের সাক্ষাতকার নেওয়া হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয়তা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী রিকশা, দোকান, হাঁস-মুরগি, সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। সদরের কোথাও যেন কোনো ভিক্ষুক না থাকে প্রশাসন সেই অনুযায়ী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

Author: Rijvi Ahmed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *