কোরআনময় হোক হিজড়াদের জীবন

কামরাঙ্গীরচরের লোহার ব্রিজ থেকে একটু এগোলে ৩ তলা ভবন। ৩য় তলার বেলকনি ঘেঁষে ভবনের গায়ে সাঁটানো সবুজ ব্যানার।

সাদা হরফে বড় লেখা- দাওয়াতুল কোরআন তৃতীয় লিঙ্গের মাদ্রাসা। ‘হিজড়ারাও মানুষ’- এ স্লোগানকে সামনে রেখে সম্প্রতি রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে শুরু হয়েছে দেশের প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের মাদ্রাসা।

হিজড়াদের বিনামূল্যে ধর্মীয় শিক্ষা এবং শিক্ষা উপকরণের দায়িত্ব নিয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আহমদ ফেরদৌস বারী চৌধুরী ফাউন্ডেশন। কর্তৃপক্ষ বলছেন, একজন হিজড়াও যেন কোরআনের আলো থেকে বঞ্চিত না হন সে চেষ্টা করে যাচ্ছেন তারা।

অল্প সময়ের মধ্যেই রাজধানী পেরিয়ে মফস্বলেও তৃতীয় লিঙ্গের মাদ্রাসা ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি আবদুর রহমান আজাদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম হিজড়াদের নিয়ে কাজ করার প্রেরণা পেলেন কোথা থেকে? তিনি বললেন, প্রথমে আমি গেণ্ডারিয়া বস্তির সুবিধাবঞ্চিত শিশু এবং পরবর্তীতে পথশিশুদের শিক্ষা নিয়ে কাজ করি। এ এলাকার কয়েকজন হিজড়াকে দেখে আমার মনে হঠাৎ ভাবনা এলো- ওরাও তো মানুষ। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব।

ওদের অসহায়ত্ব এবং লাঞ্ছনাকর জীবনের কথা ভেবে আমার হৃদয় দরদে ভিজে ওঠে। হায়! এ জনগোষ্ঠীর দুনিয়া তো গেলই, আখিরাতও তো চলে যাচ্ছে। এদের মুক্তির জন্য কিছু একটা করতে হবে। তখনই সিদ্ধান্ত নিই, যে করেই হোক ওদের মন জমিনেও কোরআনের বীজ বুনতে হবে। একমাত্র কোরআনই পারে তাদের সমাজের মূল স্রোতের সঙ্গে মিলিয়ে দিতে।

পরবর্তীতে হিজড়াদের নেত্রীর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, আমরা তো আগ্রহের সঙ্গেই দ্বীন-ধর্ম শিখতে চাই। একাধিকবার কয়েকজন আলেমকে প্রস্তাবও দিয়েছিলাম। কিন্তু হিজড়া বলে তারা আমাদের মূল্যায়ন করেননি।

সব জল্পনা-কল্পনা শেষে নভেম্বরের ৬ তারিখ শুক্রবার ৩৫ হিজড়াকে নিয়ে দাওয়াতুল কোরআন তৃতীয় লিঙ্গের মাদ্রাসার পথচলা শুরু হয়।

তৃতীয় লিঙ্গের এ মাদ্রাসা নিয়ে কী স্বপ্ন দেখেন- জানতে চাইলে মুফতি আযাদ বলেন, অচিরেই আমরা হিফজ কোর্স চালু করব।

যারা হিফজ শেষ করবে তাদের ফাউন্ডেশনের খরচে হজ করাব। হিজড়াও যেন বড় আলেম হয়ে দ্বীনের জিম্মাদারি এবং দাওয়াতের মেহনত করতে পারেন সে টার্গেট নিয়েই এগোচ্ছি। এ ছাড়াও আমাদের অন্যতম টার্গেট হল- হিজড়াদের রাষ্ট্রের সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা।

লেখক : সাংবাদিক

Email: alfatahmamun@gmail.com

Author: Rijvi Ahmed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *