ফেসবুকে পরিচয়-প্রেম-বিয়ে, অতঃপর শ্বশুর বাড়িতে নববধূর অনশন!

সাভারে স্বামীর অধিকার আদায়ে শ্বশুর বাড়িতে আমরণ অনশন করছেন এক নববধূ। ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে বিয়ে হয় সাভার পৌর এলাকার গেন্ডা সচিব রোডের নজরুল ইসলামের পুত্র সাগরের সাথে। গত ৩ দিন ধরে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে আমরণ অনশন করছেন যশোরের ঝিকরগাছার খলিফা পাড়ার মেয়ে।

ওই নববধূ জানান, ফেসবুকে পরিচয়ের কিছুদিনের মধ্যে তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিয়ে হয় তাদের। এখন তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে মেনে নিতে চাচ্ছে না বলে জানান তিনি। যতদিন তাকে স্ত্রীর মর্যাদা না দিবে ততদিন তিনি এখান থেকে যাবেন না বলেও জানান।

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ আজ সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
জানা যায়, সাগর দূরপাল্লার বাসের সুপারভাইজার। দুই মাসের মাথায় নববধূকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি। কিন্ত ওই নববধূ সাভার মডেল থানায় এ বিষয়ে অভিযোগ করতে গেলে খবর পেয়ে তার শ্বশুর, শাশুড়ি ও স্বামী বাড়ী তালাবদ্ধ করে পালিয়ে অন্যাত্র অবস্থান করছে। গত ২ দিন ধরে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে আমরণ অনশন করছে সে।

নববধূ জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের সূত্র ধরে পরিচয়ের কিছুদিনের মধ্যে তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমিক সাগর বেশ কয়েকবার ঝিকরগাছায় শান্তাদের বাড়িতে বেড়াতে যায়। তাদের বেশ কয়েকটি দূর পাল্লার বাস ও দোতলা বাড়ীসহ বেশকিছু সম্পদ আছে বলে জানায় সাগর। সরল মনে নববধূ তা বিশ্বাস করে। পরে সাভারে সাগরদের বাসায় আসলে তার বাবা নজরুল ইসলামের পরামর্শে গত ১৬ সেপ্টেম্বর নারায়নগঞ্জে কাজী অফিসে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বর্তমানে তার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে মেনে নিতে চাচ্ছে না বলে জানান তিনি। তাকে বেশ কয়েকবার মারধর করে আহত করা হয়েছে। বাড়ি ছেড়ে চলে না গেলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, তাদের হুমকি ধমকিতে সে চলে না যাওয়ায় তার শ্বশুর নজরুল ইসলাম তাকে কুপ্রস্তাব দেয়। কিন্তু স্ত্রীর অধিকার আদায়ে এক পা ও নড়তে নারাজ নববধূ।

অনশন থেকে তিনি আরও জানান, তার বাবার বাড়ী থেকে চলে আসার সময় নগদ দুই লক্ষ টাকা ও প্রায় ৩ লক্ষ টাকার স্বর্নালংকারসহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে এসেছিল। সে টাকাও সাগর ও তার বাবা নিয়ে তাদের বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। নববধূ মনে করছে তার স্বামীকে শ্বশুর নজরুল ইসলাম দূরে কোথাও সরিয়ে রেখেছে অথবা গুম করেছে। সর্বশেষ ৩ দিন পূর্বে স্বামী তাকে এসএমএস দিয়ে জানিয়েছিল তার পিতা তাকে আটকে রেখেছে।

এ বিষয়ে সাগর ও তার পিতা নজরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগী অনশনরত নববধূ তার দাবির বিষয়টি সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি তাকে পুলিশ পাঠানোর আশ্বাস দেন এবং পুলিশ পাঠিয়ে তার খোঁজ খবর নেন। এ বিষয়ে সাভার মডেল থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করা হয়েছে বলে জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএফএম সায়েদ।

Author: Rijvi Ahmed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *