সম্পত্তির জন্য ছেলের কাছে অসহায় দুইবারের চেয়ারম্যান

প্রত্যেক বাবার কাছে তার ছেলে রাজপুত্র। সন্তান যেন ভালো থাকে-এটাই চান তারা। এজন্য যত পরিশ্রমই হোক না কেন, সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে পারলেই তারা খুশি। কিন্তু সেই ছেলে যখন বৃদ্ধ বয়সে তার বাবাকে যত্ন না করে তাকে সম্পত্তির জন্য দিনরাত অত্যাচার করেন, তখন সেই বাবার কষ্টের সীমা থাকে না।

এটা কোনো সিনেমার গল্প নয়, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের রানিগঞ্জে সম্পত্তির জন্য ছেলের অত্যাচারে দিন দিন মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়ছেন এক অসহায় বাবা।

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের রানিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের দুইবারের নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মজলুল হক (৮০)। সফল এই ইউপি চেয়ারম্যান প্রবাসফেরত ছেলে এনামুল হক এনামের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অসহায় এ বাবার অভিযোগ, ছেলের অত্যাচার আর তার পোষ্য সন্ত্রাসী বাহিনীর সার্বক্ষণিক নজরদারি ও হুমকির কারণে বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। শুধু তাই নয়, ছেলে ভেঙে দিয়েছেন তার বসতঘর। এখন তিনি চরম অসহায় অবস্থায় দিন অতিবাহিত করছেন। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। এখন তিনি বাজারে গিয়ে ওষুধ পর্যন্ত কিনে আনতে পারছেন না। আর মামলার ভয়ে প্রবাসফেরত ছেলের কাছে জিম্মি এলাকাবাসীও।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন গ্রামবাসী জাগো নিউজকে বললেন, ‘সাবেক এই চেয়ারম্যানকে তার ছেলে খুব অত্যাচার করেন। আমরা যদি এ নিয়ে প্রতিবাদ করি তাহলে আমাদেরকেও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করবে। তাই ক্যামেরার সামনে আমরা কিছু বলতে পারব না।’

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এনামুল হক মজলুল হকের দ্বিতীয় পক্ষের ছেলে। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন সাবেক এই চেয়ারম্যন। তার আরেকটি ছেলে বিদেশে রয়েছেন। এনামুল এখন তার সমস্ত সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিতে চাচ্ছেন। বাবা মজলুল হক রাজি না হওয়ায় মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। এছাড়া শারীরিক নির্যাতনও করেন তিনি। সবমিলিয়ে একধরনের বন্দী জীবনযাপন করছেন মজলুল হক।

বর্তমানে মজলুল হকের ১৫ একর (বসতবাড়িসহ) জমি রয়েছে। ছেলে এনামুল এসব সম্পত্তি তার নিজের নামে লিখে দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন।

জাগো নিউজের কাছে ছেলের অত্যাচারের বর্ণনা দিতে গিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন বাবা মজলুল হক। তিনি বলেন, ছেলের অত্যাচারে আমার পিঠ দেয়ালে লেগে গেছে। এখন মরণ ছাড়া তার কোনো উপায় নেই। ছেলের অত্যাচার ও বন্দীদশা থেকে তাকে মুক্ত হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন এই বৃদ্ধ।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চেয়ে ফোনে ছেলে এনামুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, ‘আমরা পিতা-পুত্রের সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। তারপরও যদি এর সমাধান না হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থতির অবনতি ঘটে তাহলে আমরা অ্যাকশনে যেতে বাধ্য হবো।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *