চাকরি জুটেনি এই বাঙালির, এখন আমেরিকার ৭০টি হাসপাতালের মালিক তিনি

একজন বাঙালির আমেরিকা জুড়ে রয়েছে ৭০ টির মতো হাসপাতাল। কথাটা শুনে অবাক হচ্ছেন বা অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে? চলুন আজ তবে এমনই অবিশ্বাস্য একটি গল্প শুনে আসা যাক। শুনে আসা যাক বাংলাদেশের এক ছেলের আমেরিকা জয়ের গল্প।
স্বনামধন্য বাঙালি এই ব্যবসায়ীর জন্ম সিলেট দত্তরাইল গ্রামে। জমিদার কালীপদ দত্ত চৌধুরীর সন্তান তিনি। বাবা জমিদার হলেও আমেরিকায় তার প্রবাস জীবনের শুরুটা মোটেই সুখকর ছিল না।

যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর তিনি একটি হাসপাতালে কাজের জন্য যান। সেখানে তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। বিষয়টি তার মনে বেশ দাগ কাটে। অন্য কেউ হলে তখন হয়তো অন্য কোনো হাসপাতালে চাকুরির চেষ্টা শুরু করে দিতেন।

তবে তিনি মনে মনে জেদ চাপিয়ে নেন চাকুরি করতে হলে এখানেই করবেন। বারবার চেষ্টা করতে থাকেন সেখানে চাকুরির জন্য। অবশেষে ১১ মাস ধরে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করার পর, তিনি কাজ করার সুযোগ পান‘।

কাজের সুযোগ পাওয়ার পর অদ্ভুত একটি কাজ করে বসে বাঙালি এই ছেলেটি। তার এডমিনিস্ট্রেটরকে চ্যালেঞ্জ করে বসেন একদিন, যে তিনি এই হাসপাতালটি কিনে নিবেন।

তার এই কথা শুনে তার এডমিনিস্ট্রেটর পারলে হেসেই খুন হয়ে যান। মাঝেমধ্যেই তার এই কথাটি নিয়ে বিভিন্ন উপহাসও করতেন। অবশ্য করারই কথা। সদ্য আমেরিকায় এসে কোনোক্রমে একটা চাকুরি যোগাড় করা বাঙালি এক ছেলের মুখে এসব শুনে। তিনি আর কী বা করতে পারেন। তবে ১৩ বছর পরেই পাল্টে গেলো সব।

সেই এডমিনিস্ট্রেটর অবাক হয়ে দেখলেন ছেলেটি সত্যি সত্যি কিনে নিয়েছে সেই হাসপাতলটি। জন্ম হলো কেপিসি গ্রুপ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের। একটি দুটি করে ২০২০ সালে এসে কেপিসি গ্রুপের হাসপাতালের সংখ্যা এখন ৭০ টি। বর্তমানে আমেরিকার মতো জায়গায় সাত হাজার একর জমির মালিক কেপিসি গ্রুপ। আছে ৩০ লাখ বর্গফুটের বিশাল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।

প্রায় ২০ হাজার মানুষ কর্মরত আছেন এসব প্রতিষ্ঠানে। এছাড়াও বিশ্বের প্রায় ৮ টি দেশে তাদের রয়েছে ২৫ ধরনের ব্যবসা। ভারতে আছে ১৬ টি চা বাগান। যার মধ্যে একটি প্রায় ৫০ হাজার একর আয়তনের।

আমেরিকা জুড়ে কেপিসি গ্রুপের আজ বিশাল এক সাম্রাজ্য। আর এই বিশাল সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি হলেন ডা. কালী প্রদীপ চৌধুরী নামের এক বাঙালি।

যিনি মাত্র ৮ ডলার পকেটে নিয়ে আমেরিকায় এসেছিলেন। এসেই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকুরি থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। বর্তমানে কালী প্রদীপ চৌধুরীর ক্যালিফোর্নিয়ায় আছে সাড়ে ৩ কি.মি. আয়তনের বিশাল বাড়ি।

তার সম্মানে যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলসে রয়েছে কেপিসি রোড নামে ৫৫ কিলোমিটার সড়ক। এছাড়াও গুণী এই বাংলাদেশীকে নিয়ে এই লস এঞ্জেলসেই রয়েছে একটি শহর, যার নাম কেপিসি সিটি।

বিশ্বসেরা ব্যক্তিদের একজন হয়েও নিজের দেশকে ভোলেন নি তিনি। বারবার এখানে ছুটে এসেছেন বিভিন্ন স্বপ্ন নিয়ে। নিজ গ্রামে পৈতৃক সম্পত্তির উপর নির্মাণ করতে চান বিশ্বমানের একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

তবে বিভিন্নভাবে তার এই উদ্যোগটি বাঁধার সম্মুখীন হয়। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরেও ডা. কালী প্রদীপ চৌধুরী ঢাকার পূর্বাঞ্চলে তৈরি করতে চান। ১৪২ তলার একটি আইকনিক টাওয়ার, যা হবে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম উঁচু ভবন।

আর এই ১৪২ তলা ভবন তৈরির প্রকল্প বাস্তবায়নে এর মধ্যেই ৩৯ বার দেশে এসেছেন তিনি। তবে এখনো আলোর মুখ দেখেনি সেটি। ডাক্তার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও নিজ পরিশ্রম ও যোগ্যতায়। ডা. কালী প্রদীপ চৌধুরী আজ বিশ্বসেরা সফল ব্যবসায়ীদের একজন।

আর তার মতো সফল প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগ করতে পারলেই আরও অধিক গতিতে ঘুরবে আমাদের অর্থনীতির চাকা। তৈরি হবে আরও কর্মসংস্থান। দূর হবে বেকারত্ব। তাই সকল রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা অতিক্রম করে। অতিদ্রুত আলোর মুখ দেখবে ডা. কালী প্রদীপের স্বপ্নের প্রকল্পগুলো আমরা সকলে সেই প্রত্যাশাতেই রইলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *