১৫ কেজি ওজনের সিলভার, দাম ১১ হাজার

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পাঁচশিরা বাজারে নবান্ন উপলক্ষে জমজমাট একদিনের মাছের মেলা। নবান্ন উপলক্ষে মূলত প্রতি বছর অত্র এলাকার জামাইসহ আত্মীয়দের দাওয়াত দেয়া হয়। জামাইয়ের আগমন উপলক্ষে স্থানীয়ভাবে মেলাও বসে যা মূলতঃ মাছের মেলা বলে পরিচিত।

মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) দিনব্যাপী মাছ মেলাকে ঘিরে থরে থরে সাজানো ছিল রুই, কাতলা, চিতল, সিলভার কার্প, গ্লাসকার্প, পাঙ্গাস, ব্রিগেড, বাঘাইড়, বোয়ালসহ হরেক রকমের মাছ। সারি সারি দোকান। এক কেজি থেকে শুরু করে ২০ কেজি ওজনের মাছ

অগ্রহায়ণ মাসে কিছুটা ঠাণ্ডা হলেও মেলাজুড়ে ছিল ক্রেতা বিক্রেতা আর কৌতুহলী মানুষের ঢল। শত বছর ধরে চলে আসা মেলায় নদী, দীঘি ও পুকুরে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠা দেশীয় প্রজাতির টাটকা মাছ কিনতে ক্রেতারা ভিড় জমায়।
নবান্ন উৎসবে প্রতি বাড়িতে মেয়ে জামাইসহ আত্মীয়-স্বজনদের আগে থেকে দাওয়াত দিয়ে রাখে। ফলে অত্র এলাকার গ্রামীণ কৃষকদের ঘর হয় যেন এক মিলন মেলা।

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা আগের দিন থেকেই পাঁচশিরা বাজারে আড়ত ঘরে জেলা-উপজেলার বিভিন্ন দীঘি, পুকুর, নদী থেকে নানান জাতের বড় বড় মাছ সংগ্রহ করেন।
মেলায় বিশালাকৃতির একটি মাছ তুলে ক্রেতাদের আকর্ষণের চেষ্টা করছিলেন কালাই উপজেলার হাতিয়র গ্রামের মাছ বিক্রেতা গোলাম রব্বানী। তিনি ১৫ কেজি ওজনের সিলভার কার্প মাছটির দাম হাঁকেন ১১ হাজার টাকা। ২০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিগ্রেড ও সিলভার কার্প মাছ বেশি বিক্রি হয়েছে। রুই ও কাতলা মাছ বিক্রি হয়েছে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে।

মাছ ব্যবসায়ী মো. সাইফুল, আব্দুল লতিফ, সাদ্দাম হোসেন, তাজুল ইসলাম, মোরশেদুল ইসলাম বলেন, মাছ মেলার জন্য বিভিন্ন পুকুর, দীঘি ও নদী থেকে নানান জাতের বড় বড় মাছ সংগ্রহ করা হয়। কাতলা, রুই, মৃগেল বিভিন্ন সাইজের তিন থেকে আটশ টাকা কেজিতে এবং বাঘাইড়, বোয়াল ও চিতল মাছ হাজার থেকে ১২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও মাঝারি আকারের মাছ ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া বিগ্রেড ও সিলভার কার্প বিক্রি হয়েছে ২৫০ টাকা দরে।

মেলায় আসা ক্রেতা বেলাল হোসেন, অমিত মণ্ডল, মনোয়ার হোসেনসহ অনেকে জানান, এবারের মেলায় প্রচুর মাছ উঠলেও দাম অনেকটা বেশি। এবারের মেলায় সর্বোচ্চ ১৪ কেজি ওজনের মাছ বিক্রি হয়েছে।
কালাই পৌর হাসপাতাল এলাকা থেকে রুপালী রাণী সাহা পরিবার নিয়ে এসেছেন মেলায়।য় প্রতি বছর মেলায় আসেন তিনি। এবার তার সঙ্গে এসেছেন বড় ভাইয়ের স্ত্রী অপর্ণা কর্মকার। তারা দুইজন মিলে দরদাম করে ৬৫০ টাকা কেজি দরে চার কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের একটি কাতলা কিনেছেন।

তিনি বলেন, মেলায় বহু ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের দেখে ভালো লাগছে। আসলে জীবন থেকে উৎসবগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। এ রকম উৎসবে অংশ নিতে পারলে ব্যস্ততম জীবনে কিছুটা প্রশান্তি আসে।
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবারক হোসেন জানান, দেশীয় জাতের মাছ হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মেলা উপলক্ষে এই জাতের মাছ চাষ করায় দেশীয় জাতের মাছ আবার ফিরে এসেছে। নবান্ন উপলক্ষে পারস্পরিক মিলন হয়, অবশ্যই এটা ভালো। তবে যেহেতু করোনা মহামারি চলছে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব উৎসব পালন করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *