যেমন আছেন মিজু আহমেদের পরিবার ও স্ত্রী-সন্তানরা

অভিনেতা মিজু আহমেদের আজ মঙ্গলবার জন্মদিন। তিন বছর আগে মারা গেছেন এই অভিনেতা। তারপর থেকে মা পারভীন আহমেদকে আর বাবার জন্মদিনের কথা মনে করিয়ে দেন না সন্তানেরা। এ বছরও সে রকম। বাবার জন্মদিনে প্রতিবছর তাঁর কবরের কাছে গিয়ে কিছুটা সময় কাটিয়ে আসেন ছেলে হারসাত।

মিজু আহমেদের দুই মেয়ে, এক ছেলে। বড় মেয়ে তাসনিম আহমেদ এবং মেজ মেয়ে আফিয়া আহমেদ এবং সবার ছোট ছেলে হারসাত আহমেদ। জন্মদিনটা ভুলে বসে থাকতেন তাঁদের বাবা। প্রায়ই গভীর রাতে বাড়ি ফিরতেন। তিন ভাইবোন মিলে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাবাকে চমকে দিতেন তাঁরা। কেয়া বলেন, ‘বাবা শুটিং শেষ করে দেরিতে বাসায় ফিরতেন। আমরা রাত দু-তিনটা পর্যন্ত জেগে থাকতাম। বাবা ফিরলে আমরা ঘুমানোর ভান করে শুয়ে থাকতাম। তিনি যখন ঘুমানোর প্রস্তুতি নিতেন, আমরা তিন ভাইবোন একসঙ্গে তখন বাবাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতাম। তিনি খুব খুশি হতেন। বলতেন, তোরা এখনো জেগে আছিস। বাবার এই কথা এখনো কানে বাজে।’

চরিত্রের প্রয়োজনে সংলাপ হিসেবে সিনেমায় প্রচুর কটু শব্দ ব্যবহার করতেন মিজু আহমেদ। বিভিন্ন আঞ্চলিক শব্দ, যেগুলো শুনতে অশালীন লাগত। যদিও তা দর্শককে বিনোদন দিত। বাস্তব জীবনে তিনি কখনোই সে রকম কোনো অশালীন শব্দ ব্যবহার করতেন না। তিনি বরং ছিলেন স্বল্পভাষী। নিরেট ভদ্র লোক। কেয়া বলেন, ‘বাবা খুব বড় মনের মানুষ ছিলেন। সহজ-সরল জীবন যাপন করতেন। অভিনয় নিয়ে কখনো বাড়িতে কোনো কথা বলতেন না। তাঁর দুটি জগতই ছিল আলাদা। তিনি আজ নেই, কিন্তু অনেক ভক্ত এখনো তাঁর নম্বরে ফোন করে আমাদের খোঁজ-খবর নেন।’

মিজানুর রহমান থেকে চলচ্চিত্রে এসে তাঁর নাম হয় মিজু আহমেদ। তিনি ছিলেন ঢালিউডের শক্তিমান খল অভিনেতা। নেতিবাচক চরিত্রের কারণেই ভক্তদের কাছে তিনি বেশি পরিচিত ছিলেন। ২০১৭ সালের ২৭ মার্চ একটি সিনেমার শুটিংয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দর রেলস্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন। সেখানেই রাত ৮টা ২০ মিনিটে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান।

মিজু আহমেদ ১৯৫৩ সালের ১৭ নভেম্বর কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে কুষ্টিয়ার স্থানীয় একটি নাট্যদলে কাজ শুরু করেন তিনি। অভিনয়ের জন্য দুবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এ ছাড়া তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন শিল্পী সমিতির সভাপতির। ১৯৭৮ সালে ‘তৃষ্ণা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। কয়েক বছর পর তিনি ঢালিউডের অন্যতম সেরা খলনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

এ পর্যন্ত প্রায় ৮০০ ছবিতে অভিনয় করেছেন মিজু আহমেদ। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘মহানগর’ (১৯৮১), ‘স্যারেন্ডার’ (১৯৮৭), ‘চাকর’ (১৯৯২), ‘সোলেমান ডাঙ্গা’ (১৯৯২), ‘ত্যাগ’ (১৯৯৩), ‘বশিরা’ (১৯৯৬), ‘আজকের সন্ত্রাসী’ (১৯৯৬), ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ (১৯৯৭), ‘কুলি’ (১৯৯৭), ‘লাঠি’ (১৯৯৯), ‘লাল বাদশা’ (১৯৯৯), ‘গুন্ডা নাম্বার ওয়ান’ (২০০০), ‘ঝড়’ (২০০০), ‘কষ্ট’ (২০০০), ‘ওদের ধর’ (২০০২), ‘ইতিহাস’ (২০০২), ‘ভাইয়া’ (২০০২), ‘হিংসা প্রতিহিংসা’ (২০০৩), ‘বিগ বস’ (২০০৩), ‘আজকের সমাজ’ (২০০৪), ‘মহিলা হোস্টেল’ (২০০৪) ও ‘ভণ্ড ওঝা’ (২০০৬)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *