মসজিদে নামাজ পড়ে পুরস্কার পেল ৭ শিশু!

সাত শিশু নামাজি পেয়েছে পুরস্কার। একদিন, দুইদিন নয় বরং টানা ৪০ দিন তাকবিরে উলার সঙ্গে নামাজ আদায় করার পুরস্কার! এ যেন পরকালের চূড়ান্ত পুরস্কার লাভের প্রস্তুতি। শিশু-কিশোরদের নামাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে সম্প্রতি এক ব্যতিক্রমী আয়োজন করে নোয়াখালীর উজ্জলপুর গ্রামের কয়েকজন প্রবাসী। সদর উপজেলা ইমাম-খতিব ওলামা কল্যাণ ফেডারেশনের তত্ত্বাবধানে শিশু-কিশোরদের নৈতিক চরিত্র গঠনের এ আয়োজন নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

নোয়াখালী সদর উপজেলার উজ্জলপুর গ্রামে টানা ৪০ দিন মসজিদে গিয়ে তাকবিরে উলার সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ৭ শিশু-কিশোরকে পুরস্কার ও সংবর্ধনা দেয়া হয়। সম্প্রতি অনেক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সংবাদটি ভাইরাল হয়। কিন্তু এ ধরনের পুরস্কারের ঘটনা আগে ঘটলেও কিশেষ কারণে এটি ব্যতিক্রম। তাহলো- ‘এসব শিশুরা শুধু ফজর নামাজেই অংশগ্রহণ করে থেমে থাকেনি; বরং নিয়মতি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে গিয়ে তাকবিরে উলা তথা ইমামের সঙ্গে প্রথম তাকবিরেই অংশগ্রহণ করেছে। নিঃসন্দেহে এটি অনেক বড় প্রচেষ্টা ও কাজ।’

এ ছাড়া আরও বিশেষ একটি কারণ এ পুরস্কারের আয়োজনকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। শিশু-কিশোরদের নীতি নৈতিকতার কাজে সম্পৃক্ত করতে দেশে অবস্থানকারী কোনো ব্যক্তি এ উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। বরং প্রবাসে অবস্থানকারী ৩ ব্যক্তির মহত উদ্যোগে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। প্রবাসী জিল্লুর রহমান সজিব, ওমর ফারুক বাবুল ও শরিফ উদ্দিন ব্যতিক্রমী এ কাজের আয়োজক।

বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) প্রবাসীদের অর্থায়নে টানা ৪০ দিন তাকবিরে উলার সঙ্গে নামাজ পড়া শিশু-কিশোরদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম সামছুদ্দিন জেহান। পুরস্কার হিসেবে ৪শিশুকে দেয়া বাইসাইকেল আর বাকিরা পান ইসলামিক বই।

নোয়াখালী ইমাম-খতিব ওলামা কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাওলনা মুফতি গিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ জাকারিয়া, উপজেলা শিক্ষা অফিসার ছিদ্দিকুর রহমান, পৌর কাউন্সিলর জাহিদুর রহমান শামীম, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান নাছের ও মো. শওকত আলী।

মহান আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে নেক আমলকারী ও নামাজ আদায়কারীর জন্যও ঘোষণা করেছেন সবচেয়ে সেরা পুরস্কার জান্নাত। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘তবে তারা স্বতন্ত্র, যারা নামাজ আদায়কারী। যারা তাদের নামাজে সার্বক্ষণিক কায়েম থাকে। এবং যাদের ধন-সম্পদে নির্ধারিত হক আছে সাহায্য প্রার্থীর ও বঞ্চিতের এবং যারা প্রতিফল দিবসকে সত্য বলে বিশ্বাস করে। এবং নিশ্চয়ই তাদের পালনকর্তার শাস্তি থেকে নিঃশঙ্ক থাকা যায় না। এবং যারা তাদের যৌন অঙ্গকে সংযত রাখে। কিন্তু তাদের স্ত্রী অথবা মালিকানাভুক্ত দাসীদের বেলায় তিরস্কৃত হবে না, অতএব যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে তারাই সীমা লঙ্ঘনকারী। এবং যারা তাদের আমানত ও অঙ্গীকার রক্ষা করে এবং যারা তাদের সাক্ষ্যদানে নিষ্ঠাবান এবং যারা তাদের নামাজে যত্নবান তারাই জান্নাতে সম্মানিত হবে।’ (সুরা মাআরিজ : আয়াত ২২-৩৫)

প্রবাসীদের উদ্যোগে এ আয়োজন যেন শিশু-কিশোরদের জন্য পরকালের চূড়ান্ত সফলতা ও পুরস্কার লাভের একটি মহড়া। কোমলমতি এসব শিশু কিশোর যেন বিশ্বনবি ঘোষিত জান্নাতের পেছনে ছুটছেন। হাদিসে এসেছে- হজরত উকবা ইবনে আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন, ‘যে মুসলিম ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করল। অতপর অন্তর দ্বারা সর্বাত্মকভাবে ও গুরুত্বসহকারে দাঁড়িয়ে দু রাকাআত নামাজ আদায় করল। তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেল। (মুসলিম)

নামাজ, কুরআন তেলাওয়াতসহ এসব আয়োজন হোক শিশু-কিশোরদের নৈতিক চরিত্র গঠনের অন্যতম উপায়। এসব আয়োজনে এগিয়ে আসা মুসল্লিদের জন্য সাধুবাদ ও শুভকামনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *