বড়দের ইংরেজি শেখায় তৃতীয় শ্রেণীর শিশু মাইসুন।

বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী উম্মে মাইসুন। ১০ বছর বয়সী মাইসুন বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থী হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইউটিউবে বিভিন্ন বয়সীদের ইংরেজি শেখায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে মাইসুন রীতিমতো তারকা। এ দুই মাধ্যমে ২ লাখের অধিক ফলোয়ার মাইসুনের। তার ইংরেজি শেখানোর কনটেন্টগুলো দেখে কয়েক মিলিয়ন মানুষ।

উম্মে মাইসুন বলে, ‘ইংরেজি শেখা কঠিন কোনো বিষয় নয়। নিয়মিত ইংরেজি পত্রিকা, সাময়িকী বা গল্প পড়লে, সিনেমা ও কার্টুন দেখলে ইংরেজি আয়ত্ত করা সহজ। ইউটিউবে ইংরেজি শেখার বেশ কিছু ভিডিও রয়েছে। এসব ভিডিও দেখলে ইংরেজি শেখার প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। চর্চা করলে সহজে যে কেউ ইংরেজি আয়ত্ত করতে পারবে।’ মাইসুনের বাবা আশরাফ উল্লাহ রুবেল বলেন, ‘মাইসুনের ইংরেজি শেখার কনটেন্টগুলো খুবই জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইউটিউবে। একেকটা কনটেন্ট পাঁচ থেকে ছয় লাখ পর্যন্ত ভিউও হয়েছে।’

মাইসুনের এক খালা বসবাস করেন যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে। খালারা দেশে এলে সমবয়সী খালাতো বোনদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বেশ বিপাকে পড়ে। এরপর ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জন করতে নেমে পড়ে ছোট্ট মাইসুন। নানাভাবে করতে থাকে ইংরেজিকে জয় করার অনুশীলন। দেখতে থাকে কার্টুন ও সিনেমা। সঙ্গে যোগ করে ইংরেজি বই পড়া। অল্প সময়ের মধ্যেই আয়ত্তে নিয়ে আসে ইংরেজিকে। এরপর বাবা আশরাফ উল্লাহ রুবেলের সহায়তায় শুরু করে অন্যদের ইংরেজি শেখানোর মিশন। বাবার সাহায্য নিয়ে সে শুরু ভিডিও ব্লগিং। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে মাইসুনের ফলোয়ার ২ লাখেরও বেশি। মাইসুন সবার কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে ‘রবি টেন মিনিটস স্কুলের’ একটি ভিডিওর মাধ্যমে। কীভাবে ইংরেজিতে কারও সঙ্গে পরিচিত হতে হয় তা নিয়ে ছিল ভিডিওটি। জুনের মাঝামাঝি সময়ে রবি টেন মিনিটস স্কুলের ফেসবুক পেজ থেকে ওই ভিডিওটি আপলোড করা হয়। রাতারাতি লাখ লাখ দর্শক দেখে সেটি। মুহূর্তেই হাজার হাজার মন্তব্য জমা পড়ে ভিডিওর নিচে। আর এখন পর্যন্ত ৫৫ লাখ বার রবি টেন মিনিটস স্কুলের চ্যানেল থেকে ভিডিওটি দেখা হয়েছে। এরপর শুরু হয় ছোট্ট মাইসুনের নতুন যাত্রা। একে একে ১০টি ভিডিও আপলোড করা হয় টেন মিনিটস স্কুলের পেজে। সব মিলিয়ে এসব ভিডিও দেখা হয় প্রায় দেড় কোটি বার। ইতিমধ্যে ‘কিডস স্পোকেন ইংলিশ’ নামের টেন মিনিটস স্কুলের একটি প্রোগ্রাম দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, স্কুলে প্রয়োজনীয় প্রশ্নোত্তর চালিয়ে নেওয়া, মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়াসহ আটটি বিষয়ভিত্তিক ভিডিও দেওয়া হয়েছে টেন মিনিটস স্কুলের এ প্রোগ্রামটিতে। ভিডিওগুলো দেওয়ার পর হাজার হাজার মন্তব্যে মাইসুনকে শুভেচ্ছা জানান ভিউয়াররা। এখন সে সবার প্রিয়, পরিচিত। ফেসবুকে ইংরেজিতে ‘মাইসুনস ওয়ার্ল্ড’ নামের চ্যানেলটিতে ফলোয়ার রয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজারেরও বেশি। এসব চ্যানেল ও পেজ পরিচালনা এবং কনটেন্ট তৈরির কাজ করেন মাইসুনের বাবা আশরাফ রুবেল, মা উম্মে সালমা চৌধুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *