হাত পা অচল বিছানাগত থেকে অদম্য ইচ্ছায় কম্পিউটার চালিয়ে ফ্রিল্যান্সারদের আইডল ছিলেন ফাহিম

অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন ফ্রিল্যান্সার ফাহিম উল করিম (২২)। মাগুরার এই যুবক শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে নিজেকে তৈরি করেছিলেন আপওয়ার্ক ও ফাইভারের টপ রেটেড ফ্রিল্যান্সার হিসেবে। ‘ডুচেনেমাসকিউলার ডিসথ্রপি’ নামের দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন তিনি।

ফাহিম উল করিমের পরিবারের সদস্যরা জানান, এ মাসের শুরুতে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হন তিনি। প্রথমে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে গত মঙ্গলবার প্রথমে মাগুরা সদর হাসপাতালে ও পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ফাহিমকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত ১১টার দিকে মৃত্যু হয় তাঁর।

ফাহিমের বাবা রেজাউল করিম প্রথম আলোকে জানান, গত মাসে জেলা পর্যায়ে মাগুরা থেকে ‘বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড ২০২০’ পান ফাহিম। এ ছাড়া ফাইভার বাংলাদেশের কমিউনিটি লিডার ছিলেন তিনি। সম্প্রতি ‘গ্রো উইথ ফাহিম’ নামে একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছিলেন ফাহিম। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বেকার যুবকদের ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছিল।

ফাহিম উল করিমকে নিয়ে ‘বিছানাবন্দী জীবন থেকে সফল ফ্রিল্যান্সার’ শিরোনামে ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় প্রথম আলো অনলাইনে। ২০১২ সালের শেষ দিকে জেএসসি পরীক্ষার ঠিক আগে বিছানায় পড়ে যান ফাহিম। ধীরে ধীরে তাঁর পেশি শুকিয়ে যেতে থাকে। তারপর একেবারেই অকেজো হয়ে যায় হাত-পা থেকে শুরু করে পুরো শরীর।

পরিচিতদের উদ্যোগ, মায়ের জমানো টাকা ও ব্যাংক থেকে ঋণ দিয়ে ২০১৬ সালের নভেম্বরে একটি ল্যাপটপ কেনেন ফাহিম। ল্যাপটপ ব্যবহার আয়ত্তে এলেও নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহারের আর্থিক সামর্থ্য ছিল না তাঁর। একটা ডিভিডি কিনে গ্রাফিক ডিজাইন শেখা শুরু করেন তিনি। তারপর নিয়মিত চর্চা। একসময় ফাইভারে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে ভালো করতে থাকেন।

ফাহিমের বাবা রেজাউল করিম জানান, তাঁর ছেলের রোগের বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে ২০০৬ সালে। দেশে অনেক জায়গায় চিকিৎসা করানোর পর ২০০৮ সালে ফাহিমকে নিয়ে যাওয়া হয় ভারতের কলকাতায়। সেখানে একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, ফাহিম ‘ডুচেনেমাসকিউলার ডিসথ্রফি’তে আক্রান্ত। ধীরে ধীরে তাঁর পেশি দুর্বল হয়ে যাবে। বংশগত রোগটির কোনো স্থায়ী চিকিৎসা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *