চায়ের সঙ্গে সিনেমা ফ্রি, ভিড় বাড়ছে মিনি হলে

টিভিতে নায়ক মান্নার অ্যাকশন, থেকে থেকে উত্তেজনায় লাফিয়ে উঠছিলেন মোসলেম উদ্দিন (৫৫)। প্রিয় নায়ক মার খেয়ে যখন রক্তাক্ত। তখন মুষড়ে গেলেন মধ্যবয়সী মানুষটি। সিনেমাগুলোতে অন্যায়ের প্রতিবাদ করে বলেই মান্না তার প্রিয় নায়ক। এরই ফাঁকে কথা হলো মোসলেম উদ্দিনের সঙ্গে। বছর বিশেক আগে ১০ কিলোমিটার পথ হেঁটে গাইবান্ধা শহরের মায়া হলে মান্নার সিনেমা দেখেছেন। এরপর শখ থাকলেও পরিবারের দৈন্যতায় হলের বারান্দায় পা রাখতে দেয়নি তাকে। সময় পেলেই বাড়ির পাশের চায়ের দোকানের আড্ডায় মেতে ওঠেন।

চারদিকে কুয়াশার আবরণ। ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঢাকা নিষুতি গ্রাম গাইবান্ধা সদরের দিঘীরপাড়। পুকুরের ওপরে টিনের ছাউনির তলে বেলাল মিয়ার চায়ের দোকান। রঞ্জু মিয়া, আমজাদ হোসেন, রঞ্জু মিয়াসহ শিশু-কিশোর আর উঠতি বয়সের কয়েকজন তরুণও আছে মোসলেম উদ্দিনের সঙ্গে সিনেমার দর্শক হিসেবে।

আমজাদ হোসেনও সিনেমা নিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন। বছর ত্রিশেক আগে গাইবান্ধা শহরের মায়া, চৌধুরী ও নূপুর হলে সিনেমা দেখেছেন। রাতের পর রাত দেরিতে বাড়ি ফেরার যন্ত্রণাও পোহাতে হয়েছে তাকে। এখন আর নূপুর হল নেই। চৌধুরী হলও বন্ধ। মায়া সিনেমা হলের নাম পরিবর্তন হয়ে এখন তাজ সিনেমা হল। তাজ হলের অবস্থাও আর আগের মতো নেই। সারা দিন কাজকর্ম সেরে চায়ের নেশায় সন্ধ্যায় চায়ের নেশা পেয়ে বসে। চলে যান টং দোকানে। চায়ের কাপে ঠোঁট দিয়ে বিনা পয়সায় সিনেমা দেখেন।

দর্শক রঞ্জু মিয়া বলেই উঠলেন, টাকা দিয়ে আর সিনেমা দেখার দরকার হয় না। চায়ের সঙ্গে সিনেমা ফ্রি। সন্ধ্যার পর মধ্যরাত পর্যন্ত চায়ের আড্ডায় সিনেমার সঙ্গে সঙ্গে চলে দেশ বিদেশের রাজনীতি, কূটনীতি আর নিজেদের সুখ-দুখের গল্প।

দোকানদার বেলাল মিয়া কদিন আগেও রিকশা চালাতেন। রিকশা বাদ দিয়ে গ্রামের মোড়ে দোকান খুলে বসেছে। টিভি না থাকলে কেউ আসে না। সাড়ে ১৩ হাজার টাকায় ২৪ ইঞ্চি রঙিন টিভি কিনেছে। আগে সিডি লাগলেও এখন আর দরকার হয় না। মাত্র ২০ টাকায় ৩২ জিবির মেমোরিতে পনেরোটা সিনেমা ধরে। শহর থেকে প্রায়ই নতুন নতুন সিনেমা তুলে এনে চায়ের সঙ্গে দর্শকদের সিনেমা ফ্রি দেয় বেলাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *