ক্লিনিকে দেড় বড়র ধরে ডাক্তার সেজে রুগীদের অপারেশন করতেন আয়া

কেরানীগঞ্জের একটি ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে প্রশাসন একজন আয়াকে আটক করেছে, যিনি ডাক্তার সেজে দেড় বছর ধরে রোগীর অস্ত্রোপচার করছিলেন। এই অপরাধে তাঁকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার অস্ত্রোপচারের সময় তাঁকে হাতেনাতে ধরা হয়। এ ছাড়া অনিয়মসহ আরো অভিযোগে পপুলার গ্যাস্ট্রো লিভার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল নামের ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়েছে, মালিককে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

দুপুরে উপজেলা প্রশাসন এ অভিযান পরিচালনা করে। পরে কদমতলীতে অবস্থিত ওই ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অপরাধীদের জেল-জরিমানা করা হয়। ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মইনুল আহসানের উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ।

ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মঈনুল আহসান বলেন, ‘বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে আমাদের অভিযান চলমান প্রক্রিয়া। আজকে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আমরা এখানে অভিযান পরিচালনা করি। হাসপাতাল পরিচালনার ক্ষেত্রে যেসব কাগজপত্র সরকারি অফিসে জমা দেওয়ার কথা থাকে, তারা তা দেখাতে পারেনি। এ ছাড়া এদের নেই লাইসেন্সও। নেই রক্ত সঞ্চালনের কোনো যন্ত্রও।’ তিনি বলেন, ‘অপারেশনের সময় একজন আয়াকে আটক করা হয়েছে, যিনি দেড় বছর যাবত্ ডাক্তার সেজে এই হাসপাতালে অপারেশন করে যাচ্ছেন, যা দণ্ডনীয় অপরাধ। যেকোনো সময় তাঁর দ্বারা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ বলেন, হাসপাতালটির কোনো বৈধ কাগজপত্র না থাকায় এবং সেবা নিতে আসা জনসাধারণের সঙ্গে প্রতারণা করার অপরাধে এর মালিক আব্দুল গফুরকে ভোক্তা অধিকার আইনে চার লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আটককৃত আয়াকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে হাসপাতালটিও সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *