সন্তানদের খাবারের জন্য চুল বিক্রি করতেন মা, পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও

সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে নিজের মাথার চুল বিক্রি করতেন দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার পালিবটতলী গুচ্ছগ্রামের সোনালী বেগম। চুল বিক্রির পয়সায় ক্ষুধার্ত সন্তানদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতেন তিনি। এমন খবর পেয়ে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে ওই মা ও ক্ষুধার্ত সন্তানদের বাড়ির দরজায় হাজির হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুর রাফিউল আলম।

ইউএনও আব্দুর রাফিউল আলম বলেন, গত কয়েকদিন আগে রাতে আমি জানতে পারি উপজেলার পালিবটতলী গুচ্ছগ্রামে একটি অসহায় পরিবার সন্তানদের নিয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। এমনকি সন্তানদের মুখে খাবার দেওয়ান জন্য সোনালী বেগম তাঁর মাথার চুল বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, এমন সংবাদ পাওয়ার পর আমি নিজে ওই পরিবারের জন্য কয়েকদিনের

খাদ্যসামগ্রী নিয়ে পৌঁছে দিয়েছি। গত সোমবার বিকেলে আমি ওই নওমুসলিম নারীকে একটি সেলাই মেশিন এবং তাঁর স্বামীকে একটা ফুচকার গাড়িসহ সব সরঞ্জাম কিনে দিয়েছি। এ ছাড়া ওই নারীকে উপজেলায় দর্জি কাজের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করে দিয়েছি। সোনালী বেগম জানান, মাস দেড়েক আগের সেই কাহিনি। বলেন, আজ থেকে ৮ বছর আগে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলমান

হয়ে সোহাগকে বিয়ে করেন তিনি। কিন্তু, করোনার সময়ে স্বামীর আয় রোজগার না থাকায় চরম অভাবের মধ্যে তাকে দিনাতিপাত করতে হয়েছে। কোনও কিছু না থাকার কারণে গত কয়েকদিন ধরে চুলা জ্বলেনি। ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে স্বজনদের কাছ থেকে কোনও সহযোগিতা নেওয়ার পথও বন্ধ। সোনালী বলেন, সব কিছু সহ্য করা যায় কিন্তু সন্তানদের ক্ষুধার

জ্বালা কোনোভাবেই সহ্য করতে পারছিলাম না। তাই বাধ্য হয়ে নিজের মাথার চুল বিক্রি করে দিয়েছি। তাতে যে টাকা পেয়েছি তাই দিয়ে ছেলেমেয়ের মুখে ভাত তুলে দিয়েছি। ইউএনও’র প্রশংসা করে সোনালী বলেন, সেদিন রাতে আমাদের এমন খবর শুনে ইউএনও স্যার আমাদের বাড়িতে এসে কয়েক দিনের খাবার দিয়ে গেছেন। পরে তিনি আমাকে একটি সেলাই মেশিন দিয়েছেন।

আর আমাদের সংসার আর সন্তানদের লালন-পালনের জন্য আমার স্বামীকে মালামালসহ একটা ফুচকার দোকান করে দিয়েছেন। তার কাছে আমরা চিরঋণী। সোনালীর স্বামী সোহাগ হোসেন বলেন, আমি কোনোদিন ভাবতে পারিনি ইউএনও স্যার

এভাবে আমাদের পাশে দাঁড়াবেন। কয়েক মাস থেকে আমি বেকার জীবন যাপন করছি। আজ থেকে আমি এই ফুচকার ব্যবসা শুরু করলাম। আমি আর বেকার থাকব না। হাটে-ঘাটে আর বাজারে ঘুরে ফুচকা বিক্রি করব। আমার সংসারে আর কোনো অভাব হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *