কুরআন অনুবাদ করতে গিয়ে মুসলিম হলেন মার্কিন ধর্ম যাজক

পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কুরআন অনুবাদ করতে গিয়ে মু’সলিম হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ধর্ম যাজক স্যামুয়েল আর্ল শ্রপশায়ার।তিনি মঙ্গলবার আধা-স’রকারি সৌদি নিউজ ওয়েবসাইট সবক’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে একথা জানান বলে জানিয়েছে লন্ডন ভিত্তিক প্যান-আরব গণমাধ্যম দ্য নিউ আরব।

শ্রপশায়ার ২০১১ সালে কুরআন করতে সম্পাদক হিসেবে কাজ করার জন্য প্রথম সৌদি আরবের জেদ্দা সফর করেন।তিনি এসময় যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে উপস্থাপিত মু’সলিম’দের নেতিবাচক চরিত্র সম্প’র্কে খুবই সচেতন ছিলেন।এই ৭০ ব’য়সী ব্যক্তি বলেন, আমি দ্রু’তই বুঝতে পারলাম যে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে উপস্থাপিত মু’সলিম স’ঙ্গে বাস্তবের মু’সলিম’দের মধ্যে কোনও মিল নেই।

তিনি বলেন, এখানে আমি এমন মানুষ দেখলাম, যারা অন্যদের স’ঙ্গে সালাম বিনিময় করেন। মু’সলিম’দের পাশাপাশি অমু’সলিম’দের প্রতিও উদারতা দেখায়।শ্রপশায়ার জানান, কুরআন নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি তিনি জেদ্দার মু’সলিম’দের কাছ থেকে যে আতিথেয়তা পেয়েছেন, সেটিও তাকে ইসলাম গ্রহণে অনুপ্রা’ণিত করেছে।তিনি বলেন, সৌদি মু’সলিমরা এক আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন এবং তারা চমৎকার নৈতিকতার অধিকারীসাফলতা-ব্য’র্থতা মানুষের জীবনে আসতেই পারে। তাই বলে কি হতাশ হয়ে আত্মহ’ত্যা করতে হবে! আত্মহ’ত্যা কোনো স’মস্যার সমাধান হতে পারে না। আর আত্মহ’ত্যাকে কোনো ধর্মই সমর্থন করে না।ইসলামের নির্দেশনা হচ্ছে, স্বপ্নপূরণে ব্যর্থ হলে হতাশ হওয়া যাবে না। ব্য’র্থতার পরই আসবে সফলতা। যেমনিভাবে রাত পোহালেই আসে দিন।

আর ব্য’র্থতায় ম’র্মাহত লোকদের সান্ত্বনা দিয়ে আল্লাহ বলেন, তোমরা হতাশ হয়ো না এবং দুঃখ করো না। তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা মুমিন হও। (সূরা আলে ইমরান : ১৩৯) হতাশ হতে বারণ করেছে ইসলাম। যারা জীবনের প্রথম পর্যায়ে খা’রাপ কাজ করেছে পরবর্তী সময়ে নিজের কৃতকর্মের কথা স্মরণ করে মর্মপীড়ায় ভুগছেন, তাদেরও আল্লাহতায়ালা নিরাশ করেননি।তিনি তাদের সুপথে ফিরে আসার জন্য ক্ষমার সুসংবাদ দিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের সব গোনাহ মাফ করবেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা যুমার : আয়াত ৫৩)। অনেকে হতাশ হয়ে হরেক রকম নে’শায় জড়ায়। এতে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যায় কিন্তু হতাশা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না।

নে’শা করা ইসলাম ধর্মে হারাম। তাই যারা পাওয়া, না-পাওয়া জীবনে হতাশ হয়ে পড়েছে তাদের উচিত নে’শা না করে ধৈ’র্য ধারণ করা এবং নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা। কেননা ধৈ’র্যশীলদের স’ঙ্গে থাকেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আল্লাহ বলেন, হে ইমানদারগণ, তোমরা ধৈ’র্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও।

নিশ্চয় আল্লাহ ধৈ’র্যশীলদের স’ঙ্গে আছেন। (সূরা বাকারা : ১৫৩)। আর আল্লাহতায়ালা যাদের স’ঙ্গে আছেন, তাদের দুঃখ-ক’ষ্ট ঘায়েল করতে পারে না। রাসূল (সা.) হতাশাগ্রস্ত মানুষকে মা’নসিক প্রশান্তি লাভের জন্য কয়েকটি আমলের নির্দেশ দিয়েছেন। যা তাদের মনকে সজীব ও সতেজ করবে।প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরে কিছু দোয়া আছে, যে ব্যক্তি ওইগুলো পড়ে আমল করবে, সে কখনও নিরাশ বা ক্ষ’তিগ্রস্ত হবে না। আমলগুলো তেত্রিশবার তাহমিদ (আলহাম’দুলিল্লাহ) পড়া, তেত্রিশবার তাসবিহ (সুবহা’নাল্লাহ) পাঠ করা এবং চৌত্রিশবার তাকবির (আল্লাহু আকবার) পড়া। (সহিহ মু’সলিম)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *