ঘণ্টায় ৯০ কোটি টাকা কামিয়ে মিনিটে খোয়ালেন ক্ষতি ৪২ কোটি!

বিশ্বের অন্যতম আলোচিত ধনী ব্যক্তি এখন ভারতের মুকেশ আম্বানি। করোনার সময়ে আয়ের রেকর্ড গড়ে শিরোনাম হয়েছেন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের। গোটা বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়ে তার জয় ধনি। করোনা মহামারি আর লকডাউনে যখন জর্জরিত গোটা বিশ্বের অর্থনীতি তখন নতুন পার্টার হিসেবে মুকেশ পেয়েছেন ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গকে। এতেই আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়েছিলেন মুকেশ। হয়ে গেলেন এশিয়ার শীর্ষ ধনী। প্রতি ঘণ্টায় আয় করেন ৯০ কোটি টাকার বেশি।

মুকেশের এই সুদিন স্থায়ী হয়নি। উত্থানের পর পতনের জন্য অপেক্ষা ছাড়া আর পথই বা কি? যখন শীর্ষে আরোহন করেন তখন নীচে পড়ার ঝুঁকিতো থাকবেই। তাই ঘটেছে ভারতীয় এই ধনকুবেরের বেলাতেও। ঘন্টায় ৯০ কোটি টাকা আয় করা মুকেশ এবার মিনিটে হারালেন ৪২ কোটি টাকা। করোনার কারণে তেলের চাহিদা কমছে গোটা বিশ্বে। যার ফলে দিন শেষে ০২ নভেম্বর তার আয় কমে যায় ৬০ হাজার কোটি টাকা।

লকডাউনের মুকেশের ফেসবুকের সঙ্গে চলমান ডিজিটাল ব্যবসা লাভের মুখ দেখলেও তেল শোধনাগার সংস্থাগুলি নিট মুনাফা হারিয়েছেন। ভারতের সবচেয়ে দামি সংস্থা রিলায়্যান্সের শেয়ার ৮.৬ শতাংশ পর্যন্ত নিম্নমুখী হয়। সে সময় ৫.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে বিনিময়ে মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের ১০% শেয়ার কিনতে চলেছে ফেসবুক। যা অর্থের খেলায় শক্ত অবস্থান তৈরি হয় মুকেশের।

করোনাকালে একদিকে যেমন গোটা বিশ্বের আর্থিক গতিবিধি থমকে ছিল, তখন আরেকদিকে ভারতের রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রি’রর চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি মার্চ মাসে লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতি ঘণ্টায় ৯০ কোটি টাকা ইনকাম করেছেন। ‘হুরুন ইন্ডিয়া রিচ’ লিস্টে লাগাতার নয় বছর ধরে তিনিই শীর্ষ স্থান দখল করে রেখেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী লকডাউনের সময়ে মুকেশ আম্বানি ৬ লাখ ৫৮ হাজার কোটি টাকা আয় করেন। গত নয় বছরে আম্বানির ব্যাক্তিগত সম্পত্তি ২ হাজার ৭৮ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। সেসময় মুকেশ আম্বানি এশিয়ার সবথেকে ধনী ব্যাক্তি আর গোটা বিশ্বের চতুর্থ সবথেকে ধনী ব্যাক্তির খেতাব অর্জন করেন। গত এক বছরে তার সম্পদ ৭৩ শতাংশ বেড়েছে। একই সাথে তিনি ভারতের শীর্ষ ধনিতে রূপান্তরিত হন।

মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, ০২ নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ শেয়ার বাজারের নিন্মমুখী প্রবণতা দেখা যায়। এ ধাক্কায় মুকেশের সম্পত্তি কমে যায় ৭,৩০০ কোটি ডলার। রিলায়্যান্সের শেয়ারে পতনের আঁচ লেগেছে মুম্বাইয়ের শেয়ার বাজারের সূচক বিএসি সেনসেক্স-এও। এদিন ওই সময় তা নেমে যায় ০.৪ শতাংশে।

শুক্রবার বাজার বন্ধের সময় রিলায়্যান্সের ত্রৈমাসিক মুনাফা ১৫ শতাংশ নিচে নেমে যায়। ফলে সংস্থার ১৩০ কোটি ডলারের লোকসান হয়েছিল। মূলত, করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলায় লকডাউন চলাকালীন যানবাহন কম চলায় বিশ্বজুড়েই তেলের চাহিদা তলানিতে। তার জেরে রিলায়্যান্সের তেলের ব্যবসায় ধাক্কা লেগেছে। সংস্থার মুনাফা পড়েছে ২৪ শতাংশ। লকডাউন চলাকালীন অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের মাধ্যমে তা জ্বালানিতে পরিণত করার ক্ষেত্রে ব্যারেল প্রতি গ্রস মুনাফা কমেছে ৫.৭ ডলার। গত বছরে তা ছিল প্রতি ব্যারেল ৯.৪ ডলার।

তবে পেট্রোকেম ব্যবসায় ধাক্কা লাগলেও লকডাউনের সময়ই ডিজিটাল সংস্থায় একের পর এক নয়া বিনিয়োগ টেনে এনেছে রিলায়্যান্স জিয়ো। বস্তুত,ওই সময় রিলায়্যান্সের টেলিকম শাখা রিলায়্যান্স জিয়োর নিট মুনাফা তিন গুণ বেড়েছে। দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে মুনাফা হয়েছে ২৮৪৪ কোটি টাকা। পাশাপাশি, গ্রাহক পিছু আয়ও বেড়েছে জিয়োর।

জিয়ো জানিয়েছে, ২০১৯-’২০ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে গ্রাহক পিছু তাদের আয় ছিল ১২৭.৪ টাকা। এ বার তা বেড়ে হয়েছে ১৪৫ টাকা। ই-কমার্স ব্যবসার হাত ধরেও নতুন উদ্যোগে ময়দানে নেমেছেন ৬৩ বছরের মুকেশ। সূত্র: ব্লুমবার্গ, টাইম অব ইন্ডিয়া ও ইয়াহু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *