আ’পন তিন বো’নের এক স্বা’মী বি’স্তারিত

আ’পন তিন বোন সমা, রিনা’ এবং পিং’কি। প্রায় ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয় কৃষ্ণ নামের এক যুবকের সঙ্গে। তিন বোনের সংসারে প্র’ত্যেকের দু’টি করে

সন্তা’নও হয়েছে। আঞ্চলিক রীতি অনুযায়ী জ্যো’ৎসা রাতে চালনের মধ্যে দিয়ে স্বামীর দিকে তাকিয়ে ম’ঙ্গলকামনা করেন ওই তিন বোন।

সম্প্রতি এ দৃশ্যের একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে।দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গাল্ফনিউজ শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) এক খবরে

এ তথ্য জানিয়েছে।খবরে বলা হয়েছে, গত বুধবার ওই তিন বোন চালনের মাধ্যমে স্বামীর দিকে তাকিয়ে প্রার্থনা করেন। ভারতের মধ্যপ্রদেশের কাশিমার কলোনিতে তাদের বসবাস।সুত্র:সময়টিভি

আরো পরুন এগিয়ে যৌ’নক’র্মী, পিছিয়ে খ’দ্দের কিশোরী বয়সে এ পথে নামি। মায়ের কাছ থেকেই এ পথে আসা। প্রথম প্রথম জেনেছি মায়ের কাছেই।

এরপর এনজিওর মাধ্যমে। প্রতিদিন দশের অধিক খ’দ্দের সামলাই। ক’নডম ছাড়া একটি কাজও করি না। খ’দ্দের না আসে, নাই। আমার শরীর আমাকেই রক্ষা

করতে হবে। বে’শ্যা হতে পারি, রোগের সঙ্গে আপস করতে পারি না।যশোর যৌ’নপল্লীর প্রীতি (ছ’দ্মনাম) নামের এক কর্মী ঠিক

এভাবেই নিজের সচেতনতার কথা জানালেন। ১৪ বছর বয়সে এ পাড়ায় এসেছেন তিনি।

মায়ের মৃ’ত্যু হয়েছে দুবছর আগে। মায়ের হাত ধরেই এখানে আসা। এরপর আর ফেরা হয়নি অন্ধকার এ গলি থেকে।

আগে পল্লীতেই থাকতেন রাতদিন। এখন দিনে কাজ করেন, রাতে স্বামীর সঙ্গে শহরের ভাড়া বাসায় থাকেন।সম্প্রতি যশোর শহরের মন্দিরের কাছে বহুল পরিচিত যৌ’নপল্লীতে সাক্ষাৎ মেলে প্রীতির। পরিচয় দিয়ে এইডস সম্পর্কে প্রশ্ন করতেই নানা অভিজ্ঞতার কথা বলেন এ নারী। বলেন, ‘বে’শ্যার শরীরকে অনেকেই ভয় পায়। অথচ, আমি খদ্দেরের শরীরকে ভয় করি।

ক’নডম ছাড়া একটি কাজও করি না। লাখ টাকা দিলেও করব না। কার শরীরে কি আছে, তা তো আগে থেকে জানা যায় না। আর রোগ হয়ে গেলে জেনেই বা কি লাভ! এ কারণে এখন পর্যন্ত ক’নডম ছাড়া কাজ করিনি।তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে রোজ খদ্দেরের সঙ্গে ঝগড়া হয়। কেউ কেউ গায়ে হাতও তোলে। আবার কেউ টাকার লোভ দেখায়। পাত্তা দিই না।

সুযোগ পেলে আমিও ঝেঁটিয়ে বিদায় করি। আমার শরীর, আমাকেই ভালোবাসতে হবে।পাশে বসে থাকা দোলা নামের আরেক জন বলেন, ‘খদ্দেরদের সবাই সমান না। বেশির ভাগই ক’নডমে কাজ করেন। আবার কেউ কেউ এমনিতেই কাজ করতে চান। আমাদেরও হয়তো আর উপায় থাকে না। যৌ’নকর্মীদের অনেকেই খদ্দেরের জোরাজুরিতে রাজি হয়।বেসরকারি বিদেশি সংস্থার (এনজিও) মাধ্যমে ছয় বছর আগে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন দোলা।

ক’নডম পেয়ে থাকেন এনজিওগুলো থেকেই। কখনও কখনও নিজেই কিনে আনেন। বলেন, ‘আমি চাইলেই প্রীতির মতো শক্ত অবস্থান নিয়ে থাকতে পারি না। শরীর আর আগের মতো নেই। নেশার টাকা, ঘর ভাড়া, খাবারের টাকা জোগাড় করতে হয়। এ কারণে খদ্দেরের কথাই আমার কথা। খদ্দের সচেতন থাকলে আমাদের আর ভয় থাকে না।

সবার বেঁচে থাকার জন্যই সতর্ক থাকা উচিত। অথচ এক্ষেত্রে সব দোষ যৌ’নক’র্মীদের। খদ্দেরের আচরণ নিয়ে কেউ জানতে পারে না।যৌ’নক’র্মী এবং এ’ইডস সচেনতা প্রসঙ্গে মন্তব্য জানতে চাওয়া হয় এইডস এসটিডি প্রোগ্রামের পরিচালক অধ্যাপক সামিউল ইসলামের কাছে।তিনি বলেন, ‘সাধারণের মধ্যে যৌ’নপল্লী নিয়ে অন্যরকম ধারণা থাকলেও আমাদের কাছে যৌ’নকর্মীদের মধ্য থেকে এইডস আক্রান্ত রোগী বেশি শনাক্ত হয়েছে, তা মনে করি না।

এর কারণ হচ্ছে যৌ’নকর্মীরা এখন অনেক সচেতন।তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই জনগোষ্ঠীকে নানাভাবেই সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। আর এটি করতে হচ্ছে আমাদের স্বার্থেই। একটি জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে আপনি সবাইকে সুরক্ষা দিতে পারবেন না। এইডস থেকে রক্ষায় সরকার বি’নামূল্যে ক’নডম দিচ্ছে। এতে করে অনেক যৌ’নরোগ থেকেও রেহাই মিলবে।

রে প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এগুলো দীর্ঘদিন ধরে এনজিওগুলো দিয়ে আসছে বলেও জানান তিনি।সামিউল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য এইডস আক্রান্ত নব্বই ভাগ রোগীকে শনাক্ত করা এবং তার মধ্যথেকে ৯০ ভাগ রোগীকে সেবার আওতায় আনা। আর এটিই হচ্ছে বিশ্ব ধারণা। আমরা এখন সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও সহায়তা পাচ্ছি।’তিনি বলেন, ‘যৌ’নজীবন থেকেই একমাত্র এইডসের বিস্তার নয়; নানা কারণেই এ’ইডসের বিস্তার ঘটছে। এটি বোঝাতে পারাই হচ্ছে আমাদের সফলতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *