কেরানি বুলবুল গাড়ি বাড়িসহ কোটি টাকার মালিক

একজন সাধারণ কর্মচারী হয়ে প্রচুর বিত্ত বৈভবের মালিক, নরসিংদী সিভিল সার্জন অফিসের কালাম ছারোয়ার বুলবুল। নরসিংদী শহরে ও ঢাকায় যার নামে-বেনামে রয়েছে কোটি কোটি টাকার অ’বৈধ সম্পদ। নরসিংদী জে’লা স্বা’স্থ্য বিভাগের প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে জাহির করে সম্পূর্ণ অ’বৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা।

সাধারণ স’রকারী কর্মচারী হিসেবে দুর্মূল্যের বাজারে সংসার চালাতে যেখানে হিমসিম খাওয়ার কথা সেখানে তার বিলাসবহুল বাড়ী-গাড়ী ও প্রচুর অর্থ সম্পদের মালিক হওয়া নিয়ে নরসিংদী স্বা’স্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মনে প্রশ্ন জেগেছে। একই প্রশ্নের উদ্রেগ হয়েছে নরসিংদীর সচেতন মহলের মাঝেও।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিন্মমান সহকারী হিসেব কালাম ছারোয়ার বুলবুল প্রথমে স্বা’স্থ্য বিভাগে যোগদান করেন। পরবর্তীতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে তিনি ষ্টেনো টাইপিষ্ট পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে উচ্চতর স্কেলে বেতন-ভাতা ভোগ করছেন। তার

ষ্টেনো টাইপিষ্ট পদে নিয়োগের সময় বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হলে মাত্র ৫জন প্রার্থী উক্ত পদে আবেদন করেন। দুইজন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেন।

দু’জন প্রার্থীর কেউ প্রাকটিক্যাল পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হতে পারেনি। স’রকারী নিয়মানুযায়ী উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া না গেলে পরবর্তীতে পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যথাযথ নিয়মে প্রার্থী নির্বাচন করতে হবে। তৎকালীন অ’সাধু সিভিল সার্জন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রেজুলেশনের মাধ্যমে কালাম ছারোয়ার বুলবুল কে নিন্মপদ থেকে উচ্চতর বেতন স্কেলে নিয়োগ দিয়ে স’রকারের লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।

এতে বঞ্চিত হয়েছেন যোগ্য প্রার্থীগণ। এ বি’ষয়ে কালাম ছারোয়ারের নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইলটি তলব করে ত’দন্ত করলে এর সত্যতা পাওয়া যাবে বলে সংশ্লষ্টরা জানান।

নরসিংদী স্বা’স্থ্য বিভাগের প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় তাকে অন্যত্র বদলী করা হলেও সেখানে তাকে কাজ করতে হয়নি। যখন যে স’রকার থাকে তখন তিনি নিজেকে সে দলের কর্মী পরিচয় দিয়ে থাকেন। দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে পুনরায় তিনি নরসিংদী সিভিল সার্জন অফিসে ফিরে এসেছেন।

২০০৩ সালের ১৭ জুলাই কালাম ছারোয়ার বুলবুল কে শেরপুর সিভিল সার্জন অফিসে বদলী করা হয়। ওই সময়ে নরসিংদীর কথা নামের একটি পত্রিকায় সংবাদের শিরোনাম ছিল “নরসিংদী সিভিল সার্জন অফিসের দু’র্নীতির মূল নায়কের বদলী”। নানা দু’র্নীতি ও অ’পকর্মের সংবাদ পত্রিকায় ছাপা হলে কর্তৃপক্ষ তাকে বদলী করেন।

তখন প্রভাবশালী বিএনপি নেতাদের ব্যবহার করে পুনরায় বুলবুল নরসিংদী ফিরে আসে। সেই থেকে চলছে তার দুর্নীর রাজত্ব। ২০১৮ সালে কালাম সারোয়ার বুলবুলকে শরিয়তপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে বদলী করা হয়। এ সময় সাপ্তাহিক

অরুণিমা পত্রিকায় সংবাদের শিরোনাম ছিল “নরসিংদী সিভিল সার্জন অফিসের ষ্টেনো টাইপিষ্ট বুলবুল অন্যত্র বদলী”। সংবাদে উল্লেখ করা হয় “বুলবুল আহমেদের বি’রুদ্ধে জে’লা স্বস্থ্য বিভাগে বিভিন্ন অনিয়ম দু’র্নীতির অ’ভিযোগসহ তার দাপটের কারণে স্বা’স্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীরা তটস্থ ছিলেন।

তার এ বদলীর ফলে সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ জে’লার স্বা’স্থ্য বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আরো উল্লেখ করা হয় বুলবুল নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করে হাইকোর্ট ডিভিশনের প্রশাসনিক

ট্রাইব্যুনাল-১ এ বদলী সংক্রান্ত বি’ষয়ে তার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের বি’রুদ্ধে একটি মা’মলা দা’য়ের করেছেন। মা’মলায় ছয় মাসের স্থগিত আদেশ নিয়ে বদলী ঠেকিয়েছেন। মা’মলার মাধ্যমে বুলবুল নরসিংদী সিভিল সার্জন অফিসে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। বারবার বদলী ফিরিয়ে নরসিংদী আসায় সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তার দাপটের কাছে অ’সহায় হয়ে পড়েছে।

কালাম ছারোয়ার বুলবুলের নরসিংদী ও ঢাকায় রয়েছে নামে বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। নরসিংদী শহরের বিলাসদী মহল্লায় ৪তলা বিশিষ্ট বিলাসবহুল বাড়ী। যার প্রতিটি ইউনিটে সেন্ট্রাল এসি দ্বারা সজ্জিত। নরসিংদী শহরের প্রা’ণকেন্দ্র

নরসিংদী পৌরসভার পার্শ্বে অবস্থিত নদী বাংলা গ্রুপের নির্মাণাধীন মার্কে’টে কোটি টাকা ব্যয়ে দোকান ক্রয়, চিনিশপুর তিতাস গ্যাস অফিসের পাশে ১০ শতাংশ বাড়ীর ভূমি, রাজধানীর মাতুয়াইলে ১০শতাংশ বাড়ী, ৩৫লক্ষ টাকা মূল্যমানের এফ প্রিমিউ ব্রান্ডের গাড়ী ও নামে-বেনামে অঢেল টাকার সম্পদ, ত’দন্ত করলে এসবের সত্যতা মিলবে।

নরসিংদী জে’লার বে-স’রকারী ক্লিনিক ও ডায়ানোস্টিক সেন্টারের মালিকরা কালাম ছারোয়ারের কাছে জি’ম্মি হয়ে রয়েছে। লাইসেন্সের অনলাইন আবেদনের নামে তাদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। ক্ষ’তিগ্রস্ত

হওয়ার ভ’য়ে কেউ মুখ খুলতে পারছেনা। স’রকারীভাবে ক্লিনিক ও ডায়ানোস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স সংক্রান্ত অনলাইন আবেদনের কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য নরসিংদী সিভিল সার্জন কার্যালয় নির্দিষ্ট ২জন কর্মচারীকে স্বা’স্থ্য অধিদপ্তর হতে ট্রেনিং করিয়ে আনেন।

কিন্ত প্রভাবশালী বুলবুল তাদের দিয়ে লাইসেন্সের কাজ না করিয়ে তার ব্যবহৃত অফিসিয়াল কম্পিউটার থেকে সে নিজে ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের মালিকদের জি’ম্মি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাইসেন্সের কাজ করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *