স্বামীর ম’রদেহের সঙ্গে রাত কাটিয়ে সকালে অফিসে!

এটা হতে পারে কোনো রহস্য উপন্যাসের জমাটি প্লট কিংবা দারুণ কোনো থ্রিলার মুভির কাহিনী। কিন্তু বাস্তবে যে এমন ঘটনা ঘটতে পারে এমনটা কেউ কল্পনাও করতে পারবেন না। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, একজন স্ত্রী কীভাবে এমন ঠাণ্ডা মাথায় খুন করতে পারেন, তাও আবার নিজের স্বামীকে? চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক পুরো ঘটনাটা।

স্বামীকে গলায় শাড়ির ফাঁস দিয়ে খুন করে মৃতদেহের সঙ্গে রাত কাটালেন ঘাতক স্ত্রী। ভোরের আলো ফুটতেই চুপচাপ দরজা ভেজিয়ে তিনি সোজা চলে গেলেন নিজের বাড়িতে। এরপর গোসল করে খাওয়াদাওয়া সেরে চলে গেলেন অফিসে। সারা দিন সেখানে কাজও করলেন। ঘুণাক্ষরেও কেউ টের পেলেন না যে, কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি নিজের স্বামীকে খুন করে এসেছেন!

এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনার জেলার পানিহাটিতে।৫২ বছর বয়সী প্রতুল চক্রবর্তীর খুনের রহস্যের কিনারা করতে গিয়ে এই তথ্য জানতে পেরে পুলিশের কর্মকর্তারা হতবাক। একজন নারী এতটা ঠাণ্ডা মাথায় কী করে খুন করতে পারেন তা তারা ভেবে পাচ্ছেন না।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেহ উদ্ধার হয় প্রতুলের। মাত্র চার দিন আগেই পানিহাটি পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিনগর এলাকায় শ্যামল মজুমদারের বাড়ির দোতলায় ঘর ভাড়া নেন প্রতুল। নিজেকে তিনি দিল্লির গুরুগ্রামের বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। বাড়ি মালিককে জানিয়েছিলেন, একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থায় উঁচু পদে কাজ করেন তিনি । সোদপুরে ওই সংস্থার একটি শাখা অফিস খোলা হবে। তাই কিছুদিন পানিহাটিতেই থাকবেন।

বাড়ির মালিক শ্যামল মজুমদার শুক্রবার বলেন, বাড়িতে একাই থাকতেন ওই ব্যক্তি। হোম ডেলিভারিতে খাবার আসত। বৃহস্পতিবার খাবার দিতে এসেছিল ডেলিভারি বয়। বার বার ডাকার পর প্রতুলের কোনও উত্তর না পাওয়ায় তিনি শ্যামলবাবুকে ডাকেন। এরপর তারা ভেজানো দরজা ঠেলে ঢুকে দেখেন, প্রতুলের নিথর দেহ পড়ে রয়েছে বিছানায়। গলায় শাড়ির ফাঁস।

তদন্তে নেমে প্রথমেই পুলিশ আটক করে শ্যামলকে। কিন্তু তদন্তে নেমে প্রথমেই হোঁচট খেতে হয় পুলিশকে। এক তদন্তকারী বলেন, ‘নিহত ব্যক্তির নাম এবং গুরুগ্রাম ছাড়া আমাদের কাছে কোনও তথ্য ছিল না।’এমন একটা অবস্থায় সামান্য আলোর দেখা পান গোয়েন্দারা।

নিহতের ঘরে তল্লাশি চালাতে গিয়ে তারা একটি লেডিস রুমাল এবং বাগুইআটি এলাকার একটি হোটেলের বিল খুঁজে পায়। বৃহস্পতিবার বিকেলেই পুলিশ বাগুইআটির ওই হোটেলে যায়। সেখান থেকে কাশীপুরের একটি ঠিকানা পান তদন্তকারীরা।সেই ঠিকানায় গিয়ে পুলিশ প্রতুলের স্ত্রী অদিতি চক্রবর্তীর কথা জানতে পারে। এরপর এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার পদস্থ কর্মকর্তা অদিতিকে জেরা শুরু করে পুলিশ। রাতভর জেরায় খুনের কথা স্বীকার করেন অদিতি।

পুলিশকে তিনি জানান, বছর দশেক আগে তার সঙ্গে প্রতুলের বিয়ে হয়। প্রথম স্বামী মারা যাওয়ার পর প্রতুলকে বিয়ে করেন তিনি। কিন্তু, বিয়ের পর থেকে বেশির ভাগ সময়ে প্রতুল গুরুগ্রামেই থাকতেন নিজের কর্মক্ষেত্রে। মাঝে মাঝে কাশীপুরে এসে অদিতির সঙ্গে থাকতেন। অদিতির প্রথম পক্ষের একটি ছেলে রয়েছে। এই পক্ষের রয়েছে একটি মেয়ে।

কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরেই প্রতুল তার উপর অত্যাচার করতেন বলে অদিতির অভিযোগ। সম্প্রতি তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে বলেও জানান অদিতি। প্রতুলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়েই তাকে খুন করেছেন বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন তিনি। বাজার থেকে প্রতুল প্রচুর ঋণ করেছিলেন অদিতির নাম করে। এমনকি তাঁর কাশীপুরের ঠিকানাও প্রতুল ব্যবহার করেন বলে অদিতির অভিযোগ।

দিন কয়েক আগে গুরুগ্রাম থেকে এসে বাগুইআটির একটি হোটেলে উঠে অদিতিকে ডেকে পাঠান প্রতুল। সেখানে তাদের মধ্যে টাকাপয়সা সংক্রান্ত কিছু কথা হয়। এর পরেই পানিহাটি এলাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে সেখানেও ডেকে পাঠান অদিতিকে। ঘটনার দিন রাতে অদিতি সেখানে যান। তার পরেই মাতাল প্রতুলকে খুন করেন।শুক্রবার অদিতিকে ব্যারাকপুর আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।

Author: Rijvi Ahmed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *