পটুয়াখালীর এসপির ভোরের সেবায় মুগ্ধ বিচারপ্রার্থীরা

অফিসের পাশাপাশি কখনও বাংলোয়, কখনও আবার গাড়ি থামিয়ে গরিব-অসহায় মানুষকে সেবা দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মইনুল হাসান। ইতোমধ্যে এমন সেবা দিয়ে জেলার মানুষের হৃদয় কেড়েছেন তিনি। সম্প্রতি এসপি বাংলোর প্রধান ফটকে অসহায় মানুষদের সেবা প্রদানের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

ভোরে এসপি বাংলোর ফটকে সেবা নেয়াদের একজন জেলার গলাচিপা এলাকার বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী সোবাহান ফকির।

তিনি বলেন, আমরা গরিব মানুষ স্যারের অফিসের সামনে যাইতে ভয় লাগে। তাই ভোরে স্যারের বাসার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমি বুঝতে পারিনি যে উনি স্যার। তিনি আমাকে ডাক দিয়ে আসার বিষয়ে জানতে চাইলেন। আমি আমার সমস্যার কথা বলা মাত্রই সমাধান করে দিলেন স্যার।

তিনি আরও বলেন, এতো বড় অফিসার, কিন্তু কোনো অহংকার নেই।

বিচারপ্রার্থী পঞ্চাশ বছর বয়সী মোমেনা বেগম বলেন, আমার জমিজমা নিয়ে সমস্যা দীর্ঘদিনের। বিষয়টির জন্য ভোরে স্যারের (এসপি মইনুল হাসান) বাংলোর সামনে গিয়েছিলাম। সেখানে স্যারকে বলার সঙ্গে সঙ্গে তিনি কল দিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেন। এ দুনিয়ায় এমন মাটির মানুষ হয় না বাবা। নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে স্যারের জন্য দোয়া করি।

এসব বিষয়ে গলাচিপা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, খুব ভোরে বাসার সামনে এসে সাধারণ মানুষকে সেবা প্রদান করা একজন পুলিশ সুপারের বিরল দৃষ্টান্ত। তাকে পটুয়াখালীবাসী কখনও ভুলতে পারবে না।

একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মইনুল হাসান স্যারের অফিস, বাংলো কিংবা গাড়ির দরজা সর্বদাই সাধারণের জন্য ২৪ ঘণ্টা খোলা। বিশেষ করে গরিব অসহায় হলে তো কথাই নেই। ঘুম থেকে উঠে চলে আসেন। যার বাস্তব প্রমাণ ইতোপূর্বে বহুবার আমরা পেয়েছি। স্যারের মতো এরকম মনমানসিকতার অফিসার যদি সব জায়গায় থাকতো তাহলে দেশ থেকে অপরাধ অনেক কমে যেত। স্যারকে অনেক ধন্যবাদ।

এ বিষয়ে পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মইনুল হাসান বলেন, সকালে ব্যায়াম শেষে ভোর ৭টায় আমি যখন বাংলোতে প্রবেশ করতে যাচ্ছিলাম, দেখলাম তিন ব্যক্তি আমার কাছে সেবা নিতে এসেছে। আমি দেরি না করে তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলাম এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে সংশ্লিষ্ট ওসিকে নির্দেশ দিয়েছি। তাদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখলাম তারা খুব খুশি হয়েছিল। এ ধরনের বিশ্বাস এবং ভালোবাসা সত্যিই অবিস্মরণীয়।

Author: Rijvi Ahmed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *