মসজিদে নববির খাদেম বাংলাদেশী খলিল

কত মা’নুষ কত র’কমের পেশা বেছে নেন। এর মধ্যে কেউ কেউ আছেন অনেকটাই ব্যতিক্রম।তেমনই এক খেদমতের পেশায় নিয়োজিত মো: খলিলুর রহমান। প’বিত্র ম’দিনা শরিফের মসজিদে নববিতে প্রায় ১৭ বছর ধরে তিনি খাদেম হিসেবে কর্মর’ত আছেন।

আমা’র আদি ঢাকার বাল্যবন্ধু হাজী মো: শাহ আলমের দেয়া ফোন নম্বরের সূত্র ধরে তার সাথে সা’ক্ষাৎ হয় মসজিদে নববিতে। তারপর পরিচয়। প্রথম দিন তিনি আমাকে বিশেষ ব্যবস্থায় রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ পড়ার সুযোগ করে দেন। সেই থেকে আলাপচারিতা।

ভদ্রলোকের বাড়ি টা’ঙ্গাইল জে’লার কালিহাতী উ’পজে’লার ভুকতা গ্রামে। দুই মেয়ের জনক খলিলুর রহমান সদা হাস্যোজ্জ্বল। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি হাজীদের মসজিদে নববির বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য স্থাপনা এবং ইতিহাস তুলে ধরেন, যা হাজীদের জন্য পরম পাওয়া।

কারণ, না জেনে আমল করার চেয়ে জেনে আমল করার মধ্যে অনেক বেশি তৃ’প্ত ি বোধ করা যায়। হাজীদের জানার স্বার্থে তিনি এ কাজটা বেশ খুশিমনেই করে থাকেন।খলিলুর রহমানকে যখন জি’জ্ঞাসা করলাম, দেশ ছেড়ে এ বিদেশের বাড়িতে এতটা বছর আছেন- এতে করে কি খারাপ লাগে না? তিনি জানালেন কিছুটা তো খারাপ লাগেই, তবে এখন নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি।

ন’ববিতে চা’করি করতে কেমন লাগে?তিনি অকপটে জানালেন বেশ ভালো লাগে। পবিত্র ম’দিনার মাটিতে তাও আবার মসজিদে নববিতে খাদেম হিসেবে থাকতে পেরে নিজেকে বেশ সৌভাগ্যবান মনে হয়। আসলেই সৌভাগ্যের বি’ষয়।

কার’ণ ইসলাম ধ’র্মের দ্বিতীয় পবিত্রতম স্থান হলো মসজিদে নববি। এখানেই আখেরি নবী হজরত মোহা’ম্ম’দ সা: পবিত্র রওজা শরিফ। তা ছাড়া মুসলিম ধ’র্মমতে মসজিদের খাদেম’দের বিশেষ মর’্যাদা রয়েছে।

আর এ মর’্যাদাবান মানুষগু’লোর ব্যক্তিগত চা’ওয়া-পাওয়া থেকে যায় অনেকটা অবহেলিত।বাংলাদেশী খলিলুর রহমান দুই বছর পরপর দেশে আসার জন্য ছুটি পান, যা সত্যিই অমানবিক।এর পরেও তার কোনো ক্ষো’ভ নেই।

মস’জিদ ন’ববির ভেতর একটা অংশ আছে রিয়াজুল জান্নাহ বা জান্নাতের বাগান নামক একটা বরকতময় স্থান রয়েছে।সেখানে সাতটি স্তম্ভ আছে। উস্তওয়ানা হান্নানা, ছারির, উফুদ, হারছ, ওস্তওয়ানা আয়েশা (রাজি:), আবু লুবাবা (রাজি:) ও ওস্তওয়ানা জিব্রিল (আ:)। প্রতিটি স্তম্ভের পাশে এবাদতের পৃথক পৃথক বিশেষ ফজিলত রয়েছে।

বই প’ড়ে স্তম্ভগু’লোর নাম জানা যায়; কিন্তু বেশির ভাগ মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয় কোনোটির কোনো নাম তা নির্ধারণ করার। এগু’লো চিনতে হলে চাই বিজ্ঞ খাদেম’দের সহযোগিতা।মাত্রার অতিরিক্ত নিতে চান। তখন তার চাকরির দায়িত্ব পালনে কিছুটা ব্যাঘা’ত ঘটে।

এর জন্য তি’নি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যদি সৌদি সরকার খাদেম’দের নির্দিষ্ট সময়ের দায়িত্ব শেষে যদি বাড়তি কিছু সময় হাজীদের গাইড করার সুযোগ দিত, তাহলে আগত হাজীদের সেবা করার সুযোগ পেতাম।

আমি নি’জেই যখন একেকটা স্থানের ভিন্ন ভিন্ন ইতিহাস জানতে পেরেছি, তখন এবাদত করার মানসিকতা ও আল্লাহ-ভীরু এবং রাসূলের প্রতি প্রেম বহু গু’ণে বেড়ে গিয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *