দুই বাংলার প্রতিমা বিসর্জন হয় এক জায়গাতে

বসিরহাট, ২৬ অক্টোবর- করোনার কারণে কয়েক শতকের ঐতিহ্যের টাকির ইছামতীতে মায়ের বিসর্জন এবার বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল অনেকেই।

তবে গত সপ্তাহে বাংলাদেশেরও এদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উপস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন, বিডিও এবং বসিরহাট জেলা পুলিশের তরফে দীর্ঘ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় টাকিতে বিসর্জন হবে, তবে বেশ কিছু নিয়ম বিধি বেঁধে দেওয়া হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। কেউ সীমান্তের জিরো পয়েন্ট লংঘন করবে না।

বাংলাদেশের মানুষ সে দেশের সীমানার মধ্যেই থাকবে আর ভারতীয় সীমানা পর্যন্ত থাকবে এদেশের পুজো আয়োজক বা উৎসাহী জনতা। ইছামতীর মাঝ বরাবর কড়া নজরদারিতে থাকবেন দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন

বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আইসি মোহাম্মদ সাহেব আলী, সাতক্ষীরা দেবহাটা থানার পুলিশ আধিকারিক এম ডি শফিউল ইসলাম। ভারতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ১৫৩ নম্বর ব্যাটালিয়নের ইনচার্জ নিরাজ কুমার দাস, বসিরহাট পুলিশ জেলার ডিএসপি ট্রাফিক মহসিন আখতার, বিডিও অরিন্দম মুখার্জী সহ টাকি পৌরসভার প্রশাসকরা। সব মিলিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বিশ্বমহামারী করোনা আবহের মধ্যে ইছামতি নদীতে ভাসান হবে।

অল্প কিছু সংখ্যা প্রতিমার নৌকা নামবে, কিন্তু কোনও দর্শনার্থীদের নৌকা নদীতে নামবে না। পাশাপাশি ৫ থেকে ১০ জনের বেশি নৌকায় উঠতে পারবে না। এছাড়াও নদীর পাড়ে মানুষ সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনে ইছামতি নদীর ভাসান দেখতে পারবে। জমায়েত করা যাবে না।

সেটা একেবারে হাইকোর্ট নির্দেশ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে। এই প্রতিমা বিসর্জন হবে ইছামতির বক্ষে। কলকাতা থেকে বহু মানুষ এসেছিলেন এই এপার বাংলা ওপার বাংলার মেলবন্ধনের ঐতিহ্যশালী দীর্ঘদিনের ইছামতি নদীতে ভাসান দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ আসেন কিন্তু বহু মানুষ একদিকে হতাশা নিয়ে ফিরে গেলেন। কিছু মানুষের বক্তব্য একটু হলেও টাকিতে পৌঁছাতে পেরেছি এটাই ভালো।

তবে এদিন টাকিতে আগত দর্শনার্থীদের অনেকেই মাস্ক পড়ে ছিলেন না বিসর্জনের অনুষ্ঠানে গা ভাসাতে গিয়ে অনেকেই নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখেন নি।

এমনিতেই উত্তর ২৪ পরগনা জেলার করোনা আক্রান্তের সংখ্যা যেভাবে হু হু করে বাড়ছে সেখানে নিয়ম না মানা মানুষের কারণে গোষ্ঠী সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে না তো উঠছে প্রশ্ন।

সূত্র : কলকাতা ২৪x৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *