হানিফ সংকেত লেখাপড়া করেছেন যেখানে, যেভাবে হয়ে উঠেন জনপ্রিয়

“হানিফ সংকেত” ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। তিনি বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিকের স্টুডেন্ট ছিলেন।দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির একমাত্র উপস্থাপক তিনি। ওনার এত সুন্দর উপস্থাপনা দেখে বাঙ্গালী জাতি অনেক আনন্দ উপভোগ করে থাকে।

সংকেত, দল-মত নির্বিশেষে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে একটি প্রিয় নাম। আপসহীন, স্পষ্টবাদী ও সমাজ সচেতন মানুষ হিসেবে সবাই তাকে ভালোবাসেন। এই গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব গত ৪০ বছর ধরে নিরলস প্রয়াস, সততা ও নিষ্ঠা দিয়ে মিডিয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। অনবদ্য প্রতিভা ও কর্ম নৈপুণ্যে তিনি এখন নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান। উপস্থাপনার পুরনো ধারা ভেঙে ছন্দময় আধুনিক উপস্থাপনার ক্ষেত্রে তিনি নতুন ধারার সৃষ্টি করেছেন।

তাকে বলা হয় এ দেশের মৌলিক অনুষ্ঠানের জনক। বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরে সমাজকে পরিশুদ্ধ করতে তিনি যেমন নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন তেমনি আমাদের নাগরিক সচেতনতা এবং কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখতেও ভূমিকা রাখছেন আন্তরিকতার সঙ্গে। তার উপস্থাপিত ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানটি মান এবং জনপ্রিয়তার দিক থেকে টিভির সর্বকালের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করে এখনো বিটিভিতে চলছে।

১৯৯৪ সালের ২৫ নভেম্বর থেকে প্যাকেজ অনুষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে অনুষ্ঠানটি। এটাই ছিল বেসরকারিভাবে নির্মিত প্রথম প্যাকেজ অনুষ্ঠান। তাই বেসরকারিভাবে অনুষ্ঠান নির্মাণের পথপ্রদর্শকও বলা যায় তার নির্মিত ‘ইত্যাদি’কে। টেলিভিশনের মূলমন্ত্র অর্থাৎ শিক্ষা, তথ্য, বিনোদনÑ এই তিনটি বিষয় সব সময়ই খুঁজে পাওয়া যায় তার অনুষ্ঠানে। এতগুলো চ্যানেলের ভিড়ে তখন থেকে এখন পর্যন্ত এ অনুষ্ঠানটি টিভি গাইড ও পত্রপত্রিকার পাঠক জরিপ, বিবিসি জরিপ কিংবা হালের টিআরপি জরিপেও শ্রেষ্ঠ অনুষ্ঠানের মর্যাদা পেয়ে আসছে।

শেকড়ের সন্ধানের উদ্দেশ্যে ‘ইত্যাদি’কে স্টুডিওর চার দেয়াল থেকে বের করে নিয়ে গেছেন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সভ্যতা, সংস্কৃতি ও প্রতœতাত্ত্বিক স্মৃতিবিজড়িত গৌরবময় স্থানে। তুলে ধরছেন সেসব স্থানের গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য। সামাজিক আন্দোলনে হানিফ সংকেত এক অনন্য চরিত্র। গ্রামগঞ্জ থেকে তুলে নিয়ে আসছেন অসহায় সুপ্ত প্রতিভা।

সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবীয় অঙ্গীকার ও মূল্যবোধের চেতনা থেকেই ‘ইত্যাদি’তে বিভিন্ন বিষয় ও আঙ্গিকে প্রতিবেদন প্রচার হয়ে আসছে নিয়মিত এবং সমাজে তার একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ‘ইত্যাদি’র প্রতিবেদন যেমন বহুমুখী তেমনি সমাজ সচেতনতায়ও থাকে বহুমাত্রিকতা। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নিবেদিতপ্রাণ মানুষের অনুসন্ধানে হানিফ সংকেত ছুটে বেড়ান সারা দেশে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তুলে আনেন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রচার বিমুখ অনেক সৎ সাহসী, জনকল্যাণকামী, নিভৃতচারী আলোকিত মানুষদের।

যাদের অনেকেই পরবর্তীতে পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সম্মান। (যেমন- নওগাঁর বৃক্ষপ্রেমী গহের আলী ‘ইত্যাদি’র প্রচার কল্যাণে ২০০৯ সালে পরিবেশ পদক পেয়েছেন। ‘ইত্যাদি’তে প্রচারের পর শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রাখা রাজশাহীর পলান সরকার ২০১১ সালে পান একুশে পদক। এছাড়াও ২০০০ সালে জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজেরও অভিষেক হয় ‘ইত্যাদি’র মাধ্যমে।) প্রতিবন্ধী মানুষদের কর্মমুখর জীবন যাতে কর্মবিমুখ মানুষকে অনুপ্রাণিত করে সে জন্য প্রতিবন্ধীদের নিয়েও ‘ইত্যাদি’তে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রচারিত হয়ে আসছে।

‘ইত্যাদি’র পাশাপাশি এই দীর্ঘ সময়ে তিনি নিজস্ব উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। টেলিভিশন অনুষ্ঠানের বাইরেও তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন। ‘ইত্যাদি’র মাধ্যমে হানিফ সংকেত দীর্ঘদিন যাবৎ পরিবেশ বিষয়ক নানা প্রতিবেদন, কুইজ ও নাট্যাংশ প্রচারের মাধ্যমে দূষণমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছেন।

বই ও বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা দেশের সব মানুষের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজটা হানিফ সংকেত করছেন ‘ইত্যাদি’র শুরু থেকেই। ‘ইত্যাদি’র মাধ্যমে তিনি দেশের সাধারণ মানুষের কাছে বিতরণ করছেন হাজার হাজার বৃক্ষ ও বই। প্রচারবিমুখ এই মানুষটি এসবই করছেন বিবেকের শুভ প্রেরণায় নিজের দায়বোধ থেকে। তথ্যসূত্র:বাংলাদেশ প্রতিদিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *