হাঁটছে ৮৫ বছরের পুরনো বহুতল ভবন! (ভিডিও)

প্রযুক্তির যেন চীনাদের হাতের মোয়া। একের পর এক বিষ্ময় ছড়িয়ে যাচ্ছে দেশটি। প্রযুক্তি নিয়ে রীতিমতো খেলায় মেতেছে চীনারা। ইন্টারনেট, মোবাইল, কম্পিউটারসহ ইলেক্ট্রনিক ও ইলেক্ট্রিক খাতে চীনের আধিপত্য বলার অপেক্ষা রাখে না।

এবার চীনে দেখা গেল এক বিস্ময়কর চিত্র। বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির খেলায় এবার তারা হাটাচ্ছে গোটা একটি ভবন। সংক্রিয়ভাবে ভবনিটি স্থানান্তরিত হচ্ছে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়।

গত বুধবার (২১ অক্টোবর) সাউথ চায়না পোস্ট তাদের ফেসবুকে ভবন হাটার এ ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে ক্যাপশনে পত্রিকাটি লেখে, ‘আপনি প্রতিদিন দেখেন এই ভিডিও এমন কিছু নয়। আমরা সাত হাজার টন ওজনের ভবন হাঁটার বিষয়ে কথা বলছি।’

তাতে দেখা যায় ভবনটি ভারী বস্তু শূন্যে তোলার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র (জগ)-এর সাহায্য নিয়ে হাটছে। ইলেক্ট্রিক এ জগগুলো চলছে মানুষের সাহায্য ছাড়াই। তাই শুনতে অদ্ভূত লাগলেও ঘটনাটি সত্য প্রমাণ করেছে চীনা প্রযুক্তিবিদরা। সাঙ্গাইয়ে স্থানান্তরিত হওয়া ভবনটির বয়স ৮৫ বছর। এটি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এখানে একটি নতুন বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করার জন্য স্কুলটি সরিয়ে নিচ্ছে সরকার। ভবনটি পুরাতন হওয়ায় এটি স্থানান্তরে অনেক চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে এর ইঞ্জিনিয়ারদের। এটি স্থানান্তরের কাজ শেষ হতে মোট ১৮ দিন সময় লাগবে। ৭ হাজার টনের এ ভবন স্থানান্তরে ব্যবহার করা হয়েছে অন্তত ২ হাজার মুভিং টুলস। এটি ১৯৩৫ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল।

বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতের প্রতিযোগিতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে এবারে ছয় বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে তাদের প্রধান বাণিজ্য শত্রু চীন। নতুন মহাপরিকল্পনার আওতায় চীন ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক থেকে শুরু করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স মানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো উচ্চমানের প্রযুক্তি পর্যন্ত এই খাতের সবকিছুই তৈরি করতে চায়। প্রযুক্তি খাতের নতুন এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন ২০২৫ সাল নাগাদ মোট ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করবে।

এদিকে চীনের মূল ভূখণ্ডের ৩১টি প্রদেশ ও অঞ্চলের মধ্য ২০টির বেশি প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের বড় অংশগ্রহণ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। চীনের একটি রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র এ তথ্য জানায়।

তবে, ভবন স্থানান্তরিত করণের ঘটনা এটি প্রথম নয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ডসহ উন্নত বিশ্বের বিভন্ন দেশ এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে চীনের আবিষ্কৃত এ পদ্ধতি আগের সব পদ্ধতি থেকে বেশ আলাদা। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই মজা করে বলছে চীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কপি করেছে বটে তবে কিছুটা উন্নয়নও ঘটিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *