পূজায় নতুন জামা পেয়ে মুখে তার বিশ্বজয়ের হাসি

‘পূজার বাজারের সামনে শিশুটিও ছিল, কিছুটা কনফিউসড হয়ে। উদ্যোগের বাকি ক্রেতা থেকে নিজের তফাতটা সে অল্প বয়সেই বুঝতে পারে। তবুও সাহস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, মাদ্রাসায় যাওয়ার নতুন এক পাঞ্জাবীর আশায়।’

ঘটনার শুরু এভাবেই। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন’ উদ্ভাবনী সব উদ্যোগের জন্য নন্দিত হয়ে আসছে। তাদের এমনই অসাধারণ একটা উদ্যোগ ‘১০ টাকা পুজার বাজার’। আজ থেকে শুরু হওয়া সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসাব শারদীয়া দুর্গাপূজা উপলক্ষে এই আয়োজন করেছে বিদ্যানন্দ। এই বাজারে মাত্র ১০ টাকার বিনিময়ে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে পূজার বাজার করতে পারছেন।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ১০ টাকায় পূজার বাজার। ছবি : বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ফেসবুক পেইজ

মাদ্রাসা পড়ুয়া এই ছেলেটিও এসে দাঁড়িয়েছিল পূজার বাজারের সামনে। সে বুঝতে পারছিল না, ভিন্ন ধর্মালম্বীদের বাজারে তারা জন্য একটা পাঞ্জাবি জুটবে কিনা। কারণ ইতোমধ্যেই তার মাথায় হয়তো সাম্প্রদায়িক বিষ ঢুকিয়ে দিয়েছে কেউ। কিন্তু দিনশেষে জয় হলো মানবতার। বিদ্যানন্দের কারও নজর পড়ল শিশুটির দিকে। সে পেয়ে গেল নতুন পাঞ্জাবি

বিদ্যানন্দের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে বলা হয়েছে, ‘বিশ্বজয়ের আনন্দ নিয়ে তাঁর এই ঘরে ফেরার মাঝেই বিদ্যানন্দের এই উদ্যোগের সার্থকতা, যেখানে সকল ধর্মের মানুষেরা কাপড় কিনতে পারছে দশ টাকা মূল্যে। মানুষ পরিচয়টি সবচেয়ে বড় করে দেখি, আর সে মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য উৎসবগুলোকে উপলক্ষ করি, সম্প্রীতির সুবাস ছড়াই।’

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরাও এসেছেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ১০ টাকায় পূজার বাজারে। ছবি : বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ফেসবুক পেইজ

পোস্টটির নিচে অসংখ্য মানুষ বিদ্যানন্দের এমন উদ্যোগকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিচ্ছেন। সবাই বার্তা দিচ্ছেন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের। যেমন শরৎ বাবু নামের একজন লিখেছেন, ‘এই হাসির কাছে সব কিছু হেরে যায় এমন বাংলদেশটাই চাই।’ সালমা সুলতানা লিখেছেন, ‘এই হাসির কাছে, সব সাম্প্রদায়িকতা, তুচ্ছ হয়ে যাক, সবাই যেন, এইভাবে হাসতে পারি।’

আখতারুজ্জামান তারেক লিখেছেন, ‘ছবিটা দেখে শরীরে একটা শিহরণ জেগে উঠেছিল। বাচ্চাটার তৃপ্ত হাসিটা দেখে আমি কেনো কেঁদে দিছি বলতে পারবো না। কতক্ষণ তাকিয়ে ছিলাম ছবিটার দিকে নিজেও জানি না।’ মামুন আব্দুল্লাহ লিখেছেন, ‘একেই বলে ধর্ম যার যার উৎসব সবার।’ সৌহার্দ্য অংকন লিখেছেন, ‘এবার বল ধর্মীয় সংঘাতই কি সব? এই হাসিগুলোর কি কোন দাম নাই মানব? বিদ্যানন্দকে অনেক অনেক শুভকামনা।’

উল্লেখ্য, এর আগে রোজার ঈদে ‘১ টাকায় ঈদের বাজার’ আয়োজন করেছিল বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। এরপর গত কোরবানীর ঈদে আয়োজন করা হয়েছিল ‘বিদ্যানন্দের মেহমান খানা’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *