৫ সন্তান থাকার পরও ৯০ বছর বয়সে ঝালাইয়ের কাজ করে চলেন আলফাজ

একজন ‘ঝালাইকার’ হিসেবেই তাকে সবাই চেনে। তিনি অশীতিপর বৃদ্ধ আলফাজ উদ্দিন সরদার। বয়স প্রায় ৯০ ছুঁই ছুঁই। বানারীপাড়া পৌর শহরে ডাকঘরের সামনের ফুটপাতে ৩৮ বছর ধরে লোহার ও প্লাস্টিকের জিনিসপত্র ঝালাইয়ের কাজ করছেন। আগে লোহা-লক্কর ও রাবারের জুতা-স্যান্ডেলের কাজও করতেন।

এখন আর লোহা-লক্কর ও জুতো-স্যান্ডেল কেউ নিয়ে আসে না। এখন শুধু প্লাস্টিকের ব্যবহার্য জিনিসপত্রই ঝালাই করেন। তাও আবার সংখ্যায় খুবই নগন্য। কারণ প্লাস্টিকের কোনো কিছু ভেঙে গেলে মেরামত করে আর কেউ ব্যবহার করতে চান না। এ কাজ এখন বিলুপ্তির পথে। লোহার বা প্লাস্টিকের তৈরি গৃহস্থালির ভাঙা জিনিসপত্র ঝালাইয়ের কাজ সুনিপুনভাবে করে জোড়া লাগাতে পারলেও নিজের পোড়া কপাল জোড়া লাগাতে পারেননি তিনি। তাইতো জীবনের শুরু থেকে শেষ বেলায় এসেও দুমুঠো ভাতের জন্য জীবিকার প্রয়োজনে তাকে ফুটপাতে ঝালাইকার হিসেবে লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

আলফাজ উদ্দিন সরদার জানান, এখন আর আগের মতো আয় হয় না। প্রতিদিন ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা আবার কখনো কখনো ২০০ টাকাও আয় হয়। আগে যখন লোহা-লক্কর ঝালাইয়ের কাজ করতেন তখন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় হতো। সামান্য এ আয়েই স্ত্রী পরিজন নিয়ে তার অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর জীবন চলে।

ছেলে-মেয়েরাও যার যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত। আলফাজ উদ্দিন সরদারের বাড়ি বানারীপাড়া সদর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণকাঠি গ্রামে। দুই ছেলে এবং তিন মেয়ের জনক তিনি।

৫ সন্তানের জনক হয়েও এই বয়সে জীবন তাগিদে কাজ করছেন। তবে শরীর আর পারে না। কিডনির সমস্যা ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন তিনি। অনেকটা কঙ্কালসারে পরিণত হয়েছে তার শরীর। নিয়মিত ওষুধ খেতে হয় তাকে। ওষুধ কেনার টাকা নেই তার। টাকার অভাবে চিকিৎসাও করাতে পারছেন না। তিনি সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের অনুরোধ জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *